Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে পরকীয়ার বলি দুধের শিশু ও নববধূ: পাল্টাপাল্টি মামলায় প্রেমিক প্রেমিকা কারাগারে!

জকিগঞ্জে পরকীয়ার বলি দুধের শিশু ও নববধূ: পাল্টাপাল্টি মামলায় প্রেমিক প্রেমিকা কারাগারে!

Written By zakigonj news on শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৫:০৮ AM

স্টাফ রিপোর্টার

জকিগঞ্জে পরকীয়াকান্ডে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সাজানো গোছানো দু'টি পরিবার। পরকীয়া প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা এখন চরম শত্রুতায় রূপ নিয়েছে। প্রেমিকের বাসর রাতে প্রেমিকার সাথে মারামারি ঘটনা সময়ে সময়ে উভয় পরিবারকে অশান্ত করে তুলেছে। থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। মামলা হয় পাল্টাপাল্টি। তিন দিনের ব্যাবধানে পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা উভয়ে আটক হয়ে কারাগারে যান। আর এতে বলি হন প্রেমিকার দুধের শিশু আর প্রেমিকের নববধূ। এনিয়ে এলাকা জুড়ে চলছে তোলপাড়।

জানা যায়, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলসার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কামালপুর গ্রামে নিজাম উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া আহমদ ও একই গ্রামের পাশ্ববর্তী বাড়ির আফতাব হোসেন (আতাব) এর স্ত্রী ফারহানা বেগমের পরকীয়া চলছিল বেশ ক’বছর ধরে। আতাব সিঙ্গাপুর প্রবাসী হওয়ায় জাকারিয়া ও ফারহানা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা জানতেন এলাকার মানুষও। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি গ্রামের সবার কাছে অনেক আগেই ধরা পড়ে। প্রায় বছর খানেক পূর্বে স্বামী আফতাব হোসেন দেশে ফিরলে বিষয়টি তার নজরে আসে। তাই স্ত্রীকে সতর্ক করে পরকীয়া প্রেমিক জাকারিয়াকে তার বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। তবুও কাজ হয়নি। প্রেমিকা ফারহানার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন প্রেমিক জাকারিয়া। আগের মতো সম্পর্ক না রাখলে সে ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেয়। প্রেমিক ফারহানা নিজেকে ব্লেকমেইল করার ভয়ে আগের মতোই মোবাইলে সম্পর্ক রেখে যাচ্ছিলেন প্রেমিক জাকারিয়ার সাথে। এতে নিজের পরিবারে লেগে যায় দ্বন্দ্ব। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রী প্রায়ই ঝগড়া করতেন। মাসখানেক পূর্বে সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয় তাদের। স্ত্রী ফারহানা জকিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন স্বামী আফতাব হোসেনের উপর। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন।

গত মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) প্রেমিক জাকারিয়া বিয়ে করে নতুন বউ ঘরে তুলে। ওইদিন প্রেমিক জাকারিয়ার বাড়িতে ঘটে যায় এক লঙ্কাকান্ড! এনিয়ে এখন পুরো এলাকা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। পরকীয়া প্রেমিক ও প্রেমিকার দুই পরিবারের বক্তব্য দুই ধরণের হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী ও পুলিশ।

প্রেমিক জাকারিয়ার পরিবারের দাবী, ফারহানা বেগম একজন চরিত্রহীন নারী। তিনি দীর্ঘদিন থেকে জাকারিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেম চালিয়ে আসছিলেন। এসব বিষয়ে বার বার তাকে নিষেধ করা হয়েছে। যোগাযোগ না রাখতে সতর্ক করা হয়েছে জাকারিয়াকেও। কিন্তু কিছুতেই তাদের বারণ করা যায়নি। ঘটনার দিন ফারহানা বেগম তাদের বাড়িতে এসে নববধুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্ঠা করলে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন রাবিয়া বেগম ও রাজিয়া বেগম। এ সময় তিনি চেয়ার দিয়ে আঘাত করে দুইজনকে আহত করেন। উপায়ন্তর হয়ে তারা ফারহানা বেগমকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করেন।

তবে ফারহানা বেগমের স্বামী আফতাব হোসেন ঠিক উল্টো অভিযোগ করে বলেন, জাকারিয়া একটি চরিত্রহীন ছেলে। সে ২০১৭ সালের ১২ আগস্ট উপজেলার বারহাল এলাকার তৈয়মুন নেছা স্কুলের এক শিক্ষিকাকে প্রেম নিবেদন করে ব্যার্থ হয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে এলাকায় নিয়ে আসে। পরে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে অপহরণকারী জাকারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তিনি তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে জাকারিয়া মোবাইল ফোনে তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে বললে তিনি বের হন। এ সময় সে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তার স্ত্রী শোর-চিৎকার শুরু করলে পার্শ্ববর্তী জাকারিয়ার বাড়ির লোকজন এসে তার স্ত্রীকে ধরে বাড়িতে নিয়ে লোহার জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে বারান্দায় বেধড়ক মারধর করেন।

আফতাব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পরিবারের দুঃখ ঘুছাতে তিনি প্রায় একযুগ সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ওই সময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির জাকারিয়া আহমদ তার বাড়িতে খরচ এনে দিতো। বিগত কয়েক বছর থেকে জাকারিয়া তার অগোচরে স্ত্রী ফারহানার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের মোবাইলে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রাখে। তিনি দেশে এসে নিজ স্ত্রীর সঙ্গে জাকারিয়ার পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। তবুও সে মোবাইলে সম্পর্ক রেখে সময় সময় ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধর্ষণে ব্যার্থ হয়ে সে ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার অগোচরে স্ত্রী ফারহানার নিকট থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য মতে, ঘটনার পূর্ব মুহুর্তে মোবাইল ফোনে পরকীয়া প্রেমিক জাকারিয়া ও প্রেমিকা ফারহানার মোবাইল ফোনে কথা হয়। তখন প্রেমিক জাকারিয়া ছিলেন নিজ ঘরে বন্ধুদের নিয়ে ভাত খেতে আর প্রেমিকা ফারহানা ছিলেন নিজ বাড়িতে। প্রথম দিকে উভয়েই ফোনে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে দু'জনই ফোনালাপে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। তবে ফোনে কি কথা হয়েছে তা বলতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শী কেউ-ই। হঠাৎ প্রেমিক জাকারিয়ার বাড়িতে প্রেমিকা ফারহানা এসে জাকারিয়া কেন তার জীবন নষ্ট করছে এবং তার সুন্দর সংসার কেন ভাঙ্গছে বলে চিৎকার শুরু করেন। এনিয়ে প্রেমিক জাকারিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ফারহানা। এক পর্যায়ে ফারহানা ও জাকারিয়ার পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি এবং মারধর শুরু হয়। এতে আহত হন ২/৩ জন। তখন প্রেমিক জাকারিয়ার পরিবারের লোকজন প্রেমিকা ফারহানাকে ধরে লোহার শিকল দিয়ে বারান্দার খুটির সাথে বেঁধে কিছুটা মারধর করেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এসে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রেমিকা ফারহানাকে শিকল থেকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ থানায় নিয়ে যান।

ওই রাতেই প্রেমিক জাকারিয়ার ফুফু সালেহা বেগম বাদী হয়ে ফারহানার বিরুদ্ধে ঘরে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, মারধর ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ এনে জকিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ প্রেমিকা ফারহানাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

ওপরদিকে প্রেমিক জাকারিয়ার ফুফু সালেহা বেগমের মামলা দায়েরের এক দিনের মাথায় প্রেমিকা ফারহানার স্বামী আফতাব হোসেন বাদী হয়ে প্রেমিক জাকারিয়া ও বাদী সালেহা বেগমকে অভিযুক্ত করে ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি আশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ, ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানী, অন্যায় আটক, সাধারণ জখম, গর্ভপাত ও চুরিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করেন। জকিগঞ্জ থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) মামলাটি রেকর্ড করে। পরবর্তী এক দিনের মাথায় প্রেমিক জাকারিয়াকে আটক করে কারাগারে  পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। এলাকার লোকজন বলছেন, পরকিয়ার বলি হলেন এক দুধের শিশু ও নববধূ। 

এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল কাসেম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারহানা বেগমকে শেকল থেকে ছাড়িয়ে থানায় নিয়ে আসে। এর পরও ফারহানার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে ঘটনার দিন ফারহানাকে লোহার জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে মারধর সহ বিভিন্ন অভিযোগে তার স্বামী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন। সেই মামলায় জাকারিয়াসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা এ অভিযোগ প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মাথায় প্রধান অভিযুক্ত জাকারিয়াকে গ্রেফতার করেছি।

তিনি বলেন, যখন বিবদমান পক্ষ যে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে পুলিশ কোনো পক্ষপাতিত্ব করেনি বরং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে।

Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad