Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের

জকিগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের

Written By zakigonj news on শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০ | ৩:০৬ PM

আহসান হাবীব লায়েক :
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি পরিবারের দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারা ও সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় অধিকাংশ পরিবার গত এক সাপ্তাহ থেকে বাড়ি-ঘর মেরামত করতে পারেনি। শুক্রবার ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়নের সখড়া, এলংজুরী, মাঝবন, সাতঘরি, বিলপার, কাছারচক ও খাদিমান গ্রাম ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। বেশ কয়েক মিনিট স্থায়ী এ ঝড়ে জকিগঞ্জ পৌর এলাকা সহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫/৩০টি বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে যায়। কয়েক শতাধিক গাছপালা ভেঙে যায় ও উপড়ে পড়ে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভয়াবহ এ ঘুর্ণিঝড়ে উপজেলার ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাতঘরি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুর রকিব বসতঘর ও একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে তাজ উদ্দিনের বসতঘর সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঠিক একইভাবে সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ৯নং ওয়ার্ডের সখড়া গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে হেলাল আহমদ দুলু বসতঘর ও ৭নং ওয়ার্ডের খাদিমানগ্রামের কয়েস আহমদ ওয়েছের স্ত্রী জাসমীন বেগমের বসতঘর। এছাড়া একই ইউনিয়নের এলংজুরী গ্রামের মৃত মাখন মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমদ ও আব্দুল মন্নান, মাঝবন গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে হেলাল আহমদ, সখড়া গ্রামের মৃত টরই মিয়ার মেয়ে কুদেজা বেগম ও মৃত মতাহির আলীর মেয়ে ছানু বেগমের টিনের চালা ও বেড়া ভেঙ্গে গেছে। ফলে এসব পরিবার গত এক সাপ্তাহ থেকে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন। কেউ কেউ আত্নীয় স্বজনের বাড়ীতে ছেলে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব পরিবার কীভাবে আবার ঘরবাড়ি তুলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ নেই, হাতে টাকাও নেই। ঘর তুলতে অনেক টাকা লাগবে। যদি সরকার টিনের ব্যবস্থা করত, তাহলে আপাতত চাল তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হতো। শুনেছি সরকার হতদারিদ্র মানুষকে ঘর দিচ্ছে। অথচ আমরা ঘরের অভাবে সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করলেও একটি ঘর দেয়া হচ্ছেনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার হাত পেতেও কোন সহায়তা পাইনি। সখড়া, হালঘাট মাঝবন ও এলংজুরী গ্রামের মধ্যে সরকারি ১টি ঘর দেওয়া হলেও সেটি স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম নিজের মায়ের নামে নিয়ে এসেছেন। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। আমাদের পাঁশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।
এ বিষয়ে ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সকলেই দরিদ্র। তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্তরা আমার নিকট নিজেদের আইডি কার্ড দিলে আমি সকলের তালিকা করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট সহযোগিতার জন্য বলবো।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পেলে তাদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করবো। ইতিমধ্যে আমরা উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারকে সরকারি সহযোগিতা দিয়েছি।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad