Headlines News :
Home » » জকিগনজ মনীষা প্রকাশ অভিজ্ঞতা ও কৈফিয়ত -মো. আবদুল আউয়াল হেলাল

জকিগনজ মনীষা প্রকাশ অভিজ্ঞতা ও কৈফিয়ত -মো. আবদুল আউয়াল হেলাল

Written By zakigonj news on সোমবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৯ | ৩:৫৯ AM

জকিগনজ লেখক পরিষদ’র জন্ম ২০০১ সালের জুলাই মাসে। জকিগনজের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লেখক সম্মেলনের আয়োজন করে সাহিত্যপ্রেমিদের দৃষ্টিতে আসে লেখক পরিষদ। আগস্টের তিন তারিখে অনুষ্ঠিত লেখক সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা সাহিত্যর শক্তিমান কবি  মরহুম অধ্যাপক আফজাল চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ইতিহাসবিদ মরহুম মনির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি কালাম আজাদ, গবেষক মরহুম সৈয়দ মোস্তফা কামাল, মরহুম কবি শারিক সামছুল কিবরিয়া, মরহুম কবি কিশওয়ার বিন দিলওয়ার, গবেষক আবদুল হামিদ মানিক প্রমূখ।
২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় লেখক সম্মেলন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম কবি আল মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মরহুম কবি আবিদ আজাদ, কথা সাহিত্যিক ইউসুফ শরীফ, গল্পকার (অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার) আবু বকর সিদ্দিকী, কবি কালাম আজাদ, গবেষক আবদুল হামিদ মানিক প্রমূখ।উৎসবমুখর সে দিনটি জকিগনজের সাহিত্য চর্চার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে জকিগনজ লেখক পরিষদ সিলেট শহরে ব্যতিক্রমি এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সে অনুষ্ঠানে এ যাবতকালে জকিগনজের লেখকেদের বিভিন্ন ভাষায় লেখা প্রকাশিত বইয়ের প্রদর্শনী করা হয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ১৩৩ জন লেখকের প্রকাশিত বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়। তন্মধ্যে অধিকাংশ লেখকের বই প্রদর্শিত হয়। ২৭, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর শহরের হোটেল হলি সাইড’র কনফারেন্স হলে তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রতি দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বই প্রদর্শনী এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আলোচনা সভা চলে। প্রথম দিন অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য রাখেন মাসিক পরওয়ানা সম্পাদক, বহুগ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী। শেষ দিন সমাপনী বক্তব্য রাখেন বহুগ্রন্থ  প্রণেতা শায়খুল হাদীস আল্লামা হবিবুর রহমান হাফিযাহুল্লাহ। অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. মুহিবুর রহমান, প্রফেসর ড. আহমদ আনিসুর রহমান, মরহুম কবি আবদুল গফফার দত্ত চৌধুরী পুত্র আলী মস্তফা চৌধুরী ( অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব), জেলা শিক্ষা অফিসার ( অব:) মরহুম আবদুর রহীম জকি, প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী, কবি কালাম আজাদ, গুরুসদয় দত্ত গবেষক ব্রতচারী নরেশ ব্যানার্জি ( কলকাতা),বহুগ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, গবেষক আবদুল হামিদ মানিক,অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদ ভুঁইয়া, অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল আলীম, অধ্যক্ষ কবি মাজেদ আহমদ চন্চল প্রমূখ।
প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শক শ্রোতার উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান চলে। শেষ দিন একই সাথে জকিগনজের আটজন লেখকের বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা হয়।বিশেষ আকর্ষণ ছিলো সূফি কবি শাহ শিতালং রচিত তিন শতাধিক গান সিলেটি নাগরী হরফে হাতে লেখা দু’টি খাতা প্রদর্শন।
 অভিজ্ঞতা : তিনদিন ব্যাপী বই প্রদর্শনী উপলক্ষে জকিগনজের লেখকদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং তাঁদের প্রকাশিত বইয়ের তথ্য সম্বলিত স্মারক গ্রন্থ জকিগনজ মনীষা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো বছরের শুরুতেই।সে মতে জীবিত লেখকগণের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়।বিভিন্ন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ চলে।বেশিরভাগ লেখকের মোবাইল নাম্বার জোগাড় করে সরাসরি তাঁদের সাথে কথা বলি। এ পর্যায়ে নাম প্রকাশ না করেই সুলতানপুর ইউনিয়নের দুইজন লেখকের সাথে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি। একজনের তিনটি বই  বহু বছর আগেই প্রকাশিত হয়েছে।সরকারী চাকুরীর সুবাধে এলাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে বর্তমান প্রজন্মের জকিগনজের কোন লেখক তাঁকে চেনে না। অনুসন্ধিৎসু কোন কোন লেখক সাহিত্যিক তাঁর নামের সাথে পরিচিত আছেন। লেখক পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা ফদ্বলুর রহমান’র মাধ্যমে সেই লেখকের গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করে তাঁর চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার জোগাড় করলাম।প্রথম দিন ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলার উদ্দেশ্য জানালাম।কথার ধরণে তাঁকে তেমন একটা আগ্রহী মনে হলো না।অন্যদিন ফোন দিতে বলে রেখে দিলেন।তাঁর কথামত কয়েক দফা ফোন দেয়ার পর জানালেন,তিনি বইয়ের কপি সংগ্রহ করে রাখবেন; আমি যেনো তাঁর কর্মস্থলে কাউকে পাঠিয়ে সংগ্রহ করি।তারিখ মত লোক পাঠালাম, কিন্তু তাঁকে পাওয়া গেলো না।ফোনের পর ফোন দিয়েও তিনি নিরুত্তর থাকলেন।সে কারণেই জকিগনজ মনীষায় মহান  সেই লেখকের পরিচিতি এবং তাঁর প্রকাশিত কোন বইয়ের তথ্য সংযুক্ত করা যায় নি। 
অপরজন বয়সে তরুণ। অধ্যাপক নন্দলাল শর্মা প্রণীত সিলেট বিভাগের লেখকদের পরিচিতি মূলক গ্রন্থে তাঁর তথ্য পাই। সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আসদ্দর আলী ছই মিয়া’র পুত্র বন্ধু তাজুলের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার জোগাড় করে ফোন দিলাম। আমি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও তিনি আমাকে চিনেন বলে জানালেন। এমনকি তাঁর চেনার স্বপক্ষে কিছু স্মৃতিচারণও করলেন। নন্দলাল শর্মা’র গ্রন্থে পরিবেশিত তথ্যানুযায়ি তাঁর প্রকাশিত বইয়ের একটি কপি এবং ব্যক্তিগত তথ্য তাজুল ভাইয়ের কাছে পৌঁছাতে অনুরোধ করলাম। তিনি সম্মতি জানালেন। অনেক দিন পর তাঁর বই কিংবা তথ্য না পেয়ে আবার ফোন দিলাম। ভদ্রলোক অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, ভাই ! আমি লেখক নই, আমার কোন বই প্রকাশিত হয় নি। বহুদিন পূর্বে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে কৌতুহল বশত: নন্দলাল শর্মা সাহের বরাবরে পোস্ট করে তথ্য পাঠিয়েছিলাম।সেখানে ব্যক্তিগত তথ্যাদি সঠিক হলেও প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবে উল্লিখিত বইয়ের নাম ছিলো নিছক মনগড়া। শর্মা সাহেবের গ্রন্থে আমার দেয়া তথ্য যে হুবহু ছাপা হয়েছে তাও জানতাম না। আপনার কাছ থেকে জানার পর নিজেকে একজন প্রতারক মনে হয়েছে। কাজটি মোটেই উচিত হয় নি। আমাকে ক্ষমা করবেন। একনাগাডে বলে চলা ভদ্রলোকের কথাগুলো শুনে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। তাঁকে কিছু বলতেও পারিনি সেদিন। ফোন কেটে দিয়েছিলাম।
বিভিন্ন সূত্রে সংগৃহীত তথ্যাদি লণ্ডনে কম্পোজ করিয়ে ইউএসবিতে করে দেশে নিয়ে যাই। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশে গিয়ে দেখা গেলো পুরো লেখাই অকেজো। সৌভাগ্য বশত: পুরো লেখার একটি প্রিন্ট কপি সাথে ছিলো। হাতে সময় মোট তিন দিন। শুরু হলো কম্পোজ।রাতভর একদিকে কম্পোজ, অপরদিকে প্রুফ দেখা চললো। ২০৮ পৃষ্ঠার জকিগনজ মনীষা দাঁড় হলো দুই রাতে।সেই সময়েই নতুন কিছু লেখকের তথ্য কয়েকজনের মাধ্যমে এলো।কিন্তু তথ্যগুলোর সত্যাসত্য অনুসন্ধানের সময় এবং সুযোগ কোনটিই তখন আমাদের ছিলো না।
সেই দু’টি স্মরণীয় রাতে কাজে সহযোগিতা এবং সঙ্গ দিয়ে যারা প্রাণবন্ত রেখেছিলেন সবার প্রতি অপার কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে অধ্যক্ষ কবি মাজেদ আহমদ চন্চল, অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হাকীম, মাওলানা মনজুরে মাওলা, মরহুম কাজী বজলুর রশীদ ভাই, মাওলানা কবি পিয়ার মাহমুদ, সংবাদকর্মী রহমত আলী হেলালী, লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এজেএম শিহাব, যুগ্ম সম্পাদক শাবি’র সহযোগি অধ্যাপক ইকবাল আহমদ চৌধুরী, সহসম্পাদক সেলিম আহমদ, সদস্য এডভোকেট নুমানুর রাহমান চৌধুরী, মাওলানা আবদুস সবুর প্রমুখের কথা প্রতি নিয়তই মনে পড়ে ।
লেখক পরিষদের তিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে কলকাতা থেকে আগত ব্রতচারী নরেশ ব্যানার্জির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা।জকিগনজের আলোকিত সন্তান গুরুসদয় দত্ত’র কয়েকটি বইয়ের খুবই পুরাতন কপি তিনি কলকাতা থেকে নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করে দিয়েছেন।
কৈফিয়ত : জকিগনজ মনীষা স্মারক গ্রন্থটি যাদের সংগ্রহে আছে তাঁরা দেখবেন সেখানে মোট ১৩৭ জন লেখকের পরিচিতি এবং তাঁদের প্রকাশিত বইয়ের তথ্যাদি স্থান পেয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাতে হচ্ছে যে, ১৩৭ জনের মধ্যে বারহাল ইউনিয়ের দুইজন, খলাছডা ইউনিয়নের একজন এবং মানিকপুর ইউনিয়ের একজন’র ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। তন্মধ্যে একজন দীর্ঘ দিন নিয়মিত লিখেছেন কিন্তু তাঁর কোন বই প্রকাশিত হয় নি।তবে যতদূর জানা যায় একটি পাণ্ডুলিপি লেখকের কাছে সংরক্ষিত আছে। অন্য তিনজন আদতেই লেখক নয়। সুতরাং বই প্রকাশের কথা অবান্তর। শেষ দুই দিন যাদের তথ্য আমাদের হাতে এসেছে সীমাহীন তাড়াহুড়োর ফাঁকে তা পরখ করে দেখার সুযোগ ছিলো না মোটেই। তবে সে চারজনের তথ্য যারা দিয়েছেন তন্মধ্যে তিনজনের সদাসয় চেহারা আমার স্মৃতিতে দীপ্যমান আছে। একজনের কথা মনে নেই। সঙ্গত কারণেই সেই কথিত লেখক এবং তাদের শুভাকাঙ্খি তথ্যদাতাগণের নাম ধাম প্রকাশ থেকে বিরত থাকলাম। খ্যাতির লোভে মানুষ কতখানি নীচ হতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে জকিগনজ মনীষার পাতায় তারা থাকবেন।
পুনশ্চ: দেশের প্রান্তিক জনপদ জকিগনজ মনন চর্চার এক উর্বর ভূমি। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে জকিগনজের ১৩৩ জন লেখকের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বেশিরভাগ মাতৃভাষা বাংলায় হলেও রয়েছে আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
২০১২ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমার জানা মতে আরো ১১ জন নতুন লেখকের গ্রন্থ  প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া পূর্বে প্রকাশিত গ্রন্থের লেখকদের কারো কারো এক বা একাধিক নতুন গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad