Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে টিআর-কাবিখা-কাবিটার টাকা উদ্ধারে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

জকিগঞ্জে টিআর-কাবিখা-কাবিটার টাকা উদ্ধারে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

Written By zakigonj news on বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭ | ৯:৫২ PM

স্টাফ রিপোর্টার 
গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নালুহাটি গ্রামের জামাল আহমদের বাড়ির পাশের জামে মসজিদ উন্নয়নে স্থানীয় এমপি ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেন। বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা ৮/১০ কিলোমিটার দূরবর্তী কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৭নং ওয়ার্ড সদস্য ফারুক আহমদ (ফুরুক) প্রকল্প চেয়ারম্যান হয়ে উত্তোলন করে নিয়ে যান। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকার লোকজন তার সাথে যোগাযোগ করলে তা ধামাচাপা দিতে উল্টোপাল্টা কথা বলতে শুরু করেন। এনিয়ে এলাকায় জমে উঠে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্তে গিয়ে দেখতে পান সেখানে কোন কাজ হয়নি।
এভাবেই জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত টিআর-কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অর্থ লুটপাটের মহোৎসবের বিষয়টি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের বেশীর ভাগই প্রকল্প চেয়ারম্যান কমিটির লোকজনদের সাথে আতাত করে লুটপাট করেছেন। আর তা গোপনে আত্মসাৎ করতে অনেক স্থানে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কাউকে বাস্তবায়ন কমিটিতে না রেখে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী ও তাদের স্বজনদের রাখা হয়েছে। এমনকি বরাদ্দ পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের লোকজন বরাদ্দের বিষয়টি জানেনই না। অনেক এলাকায় পূর্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোকেই টিআর হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দাখিল করা হয়েছে। ফলে এসব প্রকল্পে নতুন করে কোনো কাজের প্রয়োজনই হয়নি। মূলত একেক জায়গায় একেকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে কিছু মানুষের পকেট ভর্তি হলেও উপকৃত হয়নি গ্রামের অসহায় মানুষ।
তবে এ সকল আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ এবার বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে প্রতি রয়েছে তার কড়া নির্দেশনা। তিনি নিজেও উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে শুভ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ.দা.) শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ। দুই উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কোথাও প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখলে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে উপজেলায় বরাদ্দকৃত ১৯টি প্রকল্পের ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ৭দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দানের আল্টিমেটাম দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল হক স্বাক্ষরিত প্রকল্প চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরিত এ পত্রে বলা হয়েছে, পত্র প্রাপ্তির ৭দিনের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ সরকারি হিসেবে জমা করতে ব্যর্থ হলে আর কোন পত্রালাপ ছাড়াই কর্মসূচির নীতিমালা মোতাবেক গৃহীত অর্থ যথা নিয়মে আদায়ের নিমিত্তে মামলা রজু সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের এহেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন এমপির সম্মতি ও নির্দেশনা রয়েছে বলে পিআইও অফিসের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযুক্ত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, ০১। সুলতানপুর ইউপির শাহ শাহাবুদ্দিন রাস্তায় ডালিমের বাড়ির পিছন হতে দক্ষিণমুখী রাস্তা পুন: নির্মাণ ০২। মানিকপুর ইউপির নান্দিশ্রী গ্রামের হোসাইন আহমদের বাড়ির পার্শ্বের মাজার মাটি ভরাট ও উন্নয়ন ০৩। বারঠাকুরী ইউপির বড়জানের খালের ব্রীজের উভয় পার্শ্বের রাস্তা পুন: নির্মাণ ০৪। বারঠাকুরী ইউপির পিল্লাকান্দি গ্রামের শাহ শরীফ হাফিজিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠ ভরাট ও উন্নয়ন ০৫। কাজলসার ইউপির ২নং ওয়ার্ডের নালুহাটি গ্রামের জামাল আহমদের বাড়ির পাশের জামে মসজিদ উন্নয়ন ০৬। বারহাল ইউপির খিলগ্রাম রাস্তা হতে খলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন ০৭। বারহাল ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের শাহবাগ রাস্তা হইতে পশ্চিম মুখী রাস্তা উন্নয়ন ০৮। বিরশ্রী ইউপির ২নং ওয়ার্ডের তেলিখাল রাস্তা উন্নয়ন ০৯। জকিগঞ্জ সদর ইউপির কুশিয়ারা ডাইক হইতে মুসলিম উদ্দিনের বাড়ির পূর্ব পার্শ্ব দিয়া হানু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন ১০। কবির মিয়ার বাড়ি হইতে ভাখরশাল জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন ১১। লালোগ্রাম রাস্তা হইতে পূর্বমুখী রাস্তা ও কালভার্টের পার্শ্ব মাটি দ্বারা উন্নয়ন ১২। কসকনকপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের আলা উদ্দিন মিয়ার বাড়ি হতে দক্ষিণ মুখী রাস্তা উন্নয়ন ১৩। কসকনকপুর ইউপির ২নং ওয়ার্ডের কায়স্তকাপন হাওড়মুখী রাস্তা উন্নয়ন ১৪। কসকনকপুর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুল আওয়ালের বাড়ির পূর্ব রাস্তা উন্নয়ন ১৫। বারহাল ইউপির বুরহানপুর সুইচ গেইট রাস্তা হইতে হোসেন আহমদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ১৬। জকিগঞ্জ সদর ইউপির সরিষা ভাখরশাইল পাকা রাস্তা হইতে পশ্চিমমুখী কালাই মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ১৭। সুলতানপুর ইউপির ব্রাম্মণগ্রাম আলহাজ্ব ইরফানশাহ (রহ.) এর মাজার উন্নয়ন ১৮। কসকনকপুর ইউপির পূর্ব ইনামতি মোকাম মসজিদ হইতে মস্তাকের বাড়ি হয়ে পূর্বমুখী রাস্তা উন্নয়ন ও ১৯। মানিকপুর ইউপির মনসুরপুর গ্রামের মেইন রাস্তা হইতে এবাদুর রহমানের বাড়িমুখী রাস্তা উন্নয়ন।
এলাকাবাসী অনেকে জানান, বরাদ্দকৃত টিআর-কাবিখা ও কাবিটার টাকা জনকল্যাণে ব্যায় না করে বেশীরভাগ প্রকল্প-ই কিছু সংখ্যক সুযোগ সন্ধানী লোক আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। বরাদ্দের তালিকা এলাকার লোকজন দেখে হতবাক হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকেনা। টিআর-কাবিখা ও কাবিটা ছাড়াও সোলার প্যানেল বরাদ্দেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবী স্থানীয় এলাকাবাসীর। সচেতন মহলের অনেকেই বলেন, একজন ভালো মনের মানুষ হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি। তিনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের উন্নয়নে যথেষ্ট আন্তরিক। এলাকার উন্নয়নে তাকে প্রায়ই দুই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াতে দেখা যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একদল সুযোগ সন্ধানী লোক তাকে ধোঁকা দিয়ে এসব বরাদ্ধ এনে লোটপাট চালাচ্ছে। তবুও সেলিম উদ্দিন এমপি হওয়ায় টিআর-কাবিখা ও কাবিটার মাধ্যমে এলাকার বেশ উন্নয়ন হয়েছে। বলতে গেলে, জকিগঞ্জের ইতিহাসে সর্ব সাধারণের নিকট টিআর-কাবিখা ও কাবিটাকে পরিচিত করেছেন সেলিম উদ্দিন এমপি।
এমপির ঘনিষ্ট একটি এক সূত্র জানায়, সেলিম উদ্দিন এমপি অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগ পেয়ে সময়ে সময়ে তার অনেক কাছের লোকদেরকে সরিয়ে দিয়েছেন। তারপরও কতিপয় লোক ভালো মানুষের রূপ ধারণ করে তার সরলতাকে পূজি করে এসব প্রকল্প এনে বদনাম ছড়ায়। এ সূত্র আশাবাদী এমপি সাহেব দেশে ফিরে এসব দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েজন জানান, প্রদত্ত্ব বরাদ্দ বাস্তবায়নের সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র সাপ্তাহ/পনেরো দিন আগে আমরা টাকা পাই। এ সময়ে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও প্রকল্প এলাকায় পানি জমাট বাঁধায় প্রকল্পের কিছুটা কাজ করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অনেক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হলেও কোন ধরণের পূর্ব অবগতি ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯টি প্রকল্পের চেয়ারম্যান বরাবর টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছি। সরেজমিন তদন্ত করে উল্লেখিত প্রকল্প সমূহে কাজ না পাওয়ায় কিংবা পুরাপুরি কাজ না হওয়ায় আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আরোও কিছু অভিযুক্ত প্রকল্পের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad