Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে অস্বাভাবিক চেহারা নিয়ে বেড়ে উঠছে আব্দুন নুর

জকিগঞ্জে অস্বাভাবিক চেহারা নিয়ে বেড়ে উঠছে আব্দুন নুর

Written By zakigonj news on বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭ | ৬:০৫ PM

রহমত আলী হেলালী:
বাংলাদেশে জয়পুরহাটের তুহিন ও মাগুরার বায়েজিদের পর এবার সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলায় এক অস্বাভাবিক চেহারার শিশুর সন্ধান মিলেছে। সে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের কজাপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল বাছিত ও গৃহিণী রাবিয়া বেগমের পুত্র। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু আব্দুন নুরের বয়স ১০ বছর হলেও দেখতে মনে হয় ৭০/৮০ বছরের রোগাক্রান্ত বৃদ্ধ। তার শরীরের চামড়াশুষ্ক ও ঝুলে পড়ছে, মাথাটা বড়, চুল ও চোঁখের উপরে ভ্রু নেই, মুখটাও ছোট, হাত ও আঙ্গুলের হাড়গুলো স্পষ্ট ভেসে উঠেছে এবং চলাফেরায় তার ধীরগতি। বিরল রোগে আক্রান্ত আব্দুন নুর স্থানীয় তিনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এমন একজন বিরল রোগীর সন্ধান পেয়ে নড়ে চড়ে উঠেছেন জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মেহদী। তিনি বুধবার জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নাহিদুল করীম ও বারঠাকুরী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপুকে নিয়ে আব্দুন নুরকে দেখতে যান। ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মেহদী প্রাথমিকভাবে তাকে প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ধরনের শিশু সারা পৃথিবীতেই দুর্লভ। এ রোগকে বলা হয় হাচিনসন গিলফোর্ড প্রজেরিয়া সিনড্রম। ১৮৮৬ সালে প্রথম হাচিনসন এধরনের রোগীকে আবিষ্কার করেন। সারা পৃথিবীতে এ পর্যন্ত এ ধরনের সর্বোচ্চ একশ’ রোগীকে শনাক্ত করা গেছে। কয়েকবছর আগে উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম প্রজেরিয়া রোগীর সন্ধান মেলে। আব্দুন নুর বাংলাদেশে এ ধরনের তৃতীয় রোগী হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মেহদী বলেন, প্রাথমিকভাবে শিশু আব্দুন নুরকে প্রজেরিয়া রোগী বলে ধারণা করছি। তবে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে রোগ নির্ণয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন মহোদয়। তিনি সরকারি খরচে আব্দুন নুরের চিকিৎসা প্রদানের ঘোষনা দিয়েছেন। আমরা শিশুটির পারিবারের সাথে সমন্বয়করে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শীঘ্রই প্রকৃত রোগ নির্ণয়ের চেষ্ঠা করছি। রোগ নির্ণয়ের পর পরবর্তী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবো। তিনি বলেন, জকিগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলে এই প্রথম ধরণের রোগের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ রোগ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদেরও অনেক কিছু অজানা। এ রোগ নিরাময়ে কোনো চিকিৎসাই সফল হয়নি। রোগটি চিহ্নিত করা গেলেও তাঁর চিকিৎসা জানা নেই। প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুরা গড়ে ১৩-১৫ বছর বাঁচে। তিনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরেময় নাথ জানান, বিরল রোগে আক্রান্ত এই শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অনেকটা মেধাবী। সে কথা বলে খুবই আস্তে। অন্য শিক্ষার্থীরা রোগে আক্রান্ত এ ছাত্রকে ভয় পায়। শিশুটির মা রাবিয়া বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ রোগটি শিশুটির জন্মের। রোগটি থেকে রেহাই পেতে অনেক চিকিৎকের দ্বারস্থ হয়েছি কিন্তু নিরাময় হয়নি। চিকিৎকরা জানিয়েছেন এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই। শিশুটি পুষ্টির অভাবে এখন শুকিয়ে যাচ্ছে।
Share this article :

২টি মন্তব্য:

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad