Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে সুপারীর ফলন ভালো, দামে হতাশ চাষিরা

জকিগঞ্জে সুপারীর ফলন ভালো, দামে হতাশ চাষিরা

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭ | ১১:৫৫ PM

রহমত আলী হেলালী
সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলায় এবার সুপারীর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু গতবারের তুলনায় দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। গত বছর এক ‘ভি’ (৪৪০টি) সুপারী ১ হাজার টাকা দামে বিক্রি হলেও এ বছর ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় এক ‘ভি’ (৪৪০টি) সুপারী বিক্রি হচ্ছে। সুপারীর খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফলন বেশি হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই বাজার সয়লাব হয়ে গেছে সুপারীতে। চলতি সুপারী মৌসুমে বাজারে সুপারী অনুপাতে ক্রেতা কম। স্থানীয়রা জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে নবান্নের উৎসবের মতোই সুপারী উৎসব হয়। গাছ থেকে সুপারী পাড়া, চাতালে শুকানো, বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করা ও বাজারে নেওয়ার কাজে নিয়োগ করা হয় শ্রমিক। জকিগঞ্জের প্রায় প্রতিটি পরিবারে এ সময় কাটে ব্যস্ততার মধ্যে। মানুষের চোঁখে-মুখে ফুটে ওঠে অন্য রকম এক প্রাপ্তির ঔজ্জ্বল্য। উপজেলার প্রতিটি বাজারে প্রচুর সুপারী বিকিকিনি হয়। সপ্তাহে দু'দিন করে জকিগঞ্জ বাজার, বাবুর বাজার, শরীফগঞ্জ বাজার, কালিগঞ্জ বাজার ও শাহগলী বাজারে সুপারীর বড় হাট বসে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ছোট ছোট বাজার থেকে ফড়িয়ারা সুপারী কিনে বড় হাটে বিক্রি করে। অনেক বেপারী তাদের স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে বসতবাড়ির সুপারী বাগানও অগ্রিম কিনে রাখেন। স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ীও ফল পাকার আগেই নির্দিষ্ট দামে পুরো বাগান কিনে আস্তে আস্তে বিক্রি করেন। সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী জেলা সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নীলফামারী, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ নানা জেলায় জকিগঞ্জের সুপারীর রয়েছে বিপুল চাহিদা। মানের দিক থেকে জকিগঞ্জের সুপারী অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে ভালো, দামেও সস্তা। শুধু জকিগঞ্জ বাজারেই হাটবারে ৬/৭শ' বস্তা সুপারী কেনাবেচা হয় বলে জানান পাইকারি বিক্রেতারা। সিলেটের কাজির বাজারের সুপারীর আড়তই মূলত জকিগঞ্জের সুপারীর ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের চেয়ে সুপারীর ফলন এবার বেশী হলেও বিক্রি হচ্ছে কম দামে। গতবার 'ভি' (৪৪০টি) প্রতি ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ৫শ' থেকে ৬শ' টাকায়। স্থানীয় ভাষায় সুপারীর বলা হয় ‘গুয়া’। এর হিসাব-নিকাশটাও একটু ভিন্ন। ১১টি সুপারী একত্রে এক ‘ঘা’ এবং ৪০ ঘাতে এক 'ভি' ধরা হয়। স্থানভেদে এর ভিন্নতাও আছে। সুরমা-কুশিয়ারাবেষ্টিত সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের যেদিকে তাকাবেন চোঁখে পড়বে সারি সারি সুপারী গাছ। জকিগঞ্জের এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে সুপারী গাছ নেই। দেশের মানচিত্রের উত্তর-পূর্বাংশে বাড়তি জায়গা নিয়েই জকিগঞ্জ উপজেলা। বাড়ির আঙিনা, ক্ষেতের আইল, রাস্তার ধার, পুকুর পাড় সর্বত্রই দৃষ্টিনন্দন সুপারীর গাছ। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের সবক'টিতেই সুপারীর বাগান রয়েছে। সুলতানপুর ও বারঠাকুরী ইউনিয়নের চাপঘাট পরগনার নামকরণটিও সুপারীকে নিয়ে। মুখের চাপায় (গালে) সুপারী ভরে লোকজন অনবরত চিবাত বলে এ এলাকার নাম হয় চাপঘাট। এছাড়া প্রচুর সুপারী উৎপন্ন হয় বলে সুলতানপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম রাখা হয়েছে 'গুয়াবাড়ি'। আর সুপারী গাছে প্রচুর পিল্লা (বাবুই) পাখি বাসা করত বলে বারঠাকুরী ইউনিয়নের একটি গ্রামের নামকরণ 'পিল্লাকান্দি' হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। সুপারী বাগানের মালিকরা জানান, একবার গাছ লাগালে কমপক্ষে ত্রিশ বছর পর্যন্ত ফসল পাওয়া যায়। একবীজপত্রী চিরসবুজ শাখা-প্রশাখাবিহীন বৃক্ষ সুপারীর পানের সঙ্গে বহুল ব্যবহার হলেও এই বৃক্ষের কিছুই ফেলার নয়। ঘরের জানালার শিক, কাঁচা ঘরের খুঁটি, চালের ফ্রেমসহ বিভিন্ন কাজে সুপারী গাছের ব্যবহার হয়। বাড়ির বেড়া দেওয়া হয় সুপারীর পাতা দিয়ে। সর্বোপরি শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে সুপারীর জুড়ি নেই। জকিগঞ্জের সুপারি ব্রিটিশ ভারতে খুবই খ্যাতি ছিল। ৪৭-পরবর্তী সময়ে জকিগঞ্জ থেকেই দুই পাকিস্থানে সুপারীর জোগান দেওয়া হতো। তখন জকিগঞ্জে অবস্থাপন্ন গৃহস্থরা একরের পর একর জমিতে সুপারীর বাগান গড়ে তুলেছিলেন। আশির দশকে হাজার হাজার সুপারী গাছ অজ্ঞাত রোগে মারা যায়। ফলে সুপারী চাষে ভাটা পড়ে। বন্যার কারণেও প্রতি বছরই কমছে সুপারী গাছ। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ভাঙনও সুপারী বাগানের সংখ্যা কমার কারণ। সাধারণত ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে সুপারী গাছে ফুল হয় এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফল পাকে। সঠিক পরিচর্যা ও সুষম সার প্রয়োগ করা হলে ৪-৫ বছর বয়স থেকেই গাছে সুপারী ধরতে শুরু করে। তবে ১০-৪০ বছর বয়সের গাছ থেকেই অধিক ফল পাওয়া যায় বলে জানালেন বাগান মালিক তারা মিয়া। ফুল আসা থেকে শুরু করে ফল পাকতে সময় লাগে ৯ থেকে ১০ মাস। সাধারণত গাছ প্রতি ৩-৫টি ছড়া এবং ছড়া প্রতি ৫০-১৫০টি সুপারী ধরে। শুকনা সুপারীর ফলন হেক্টর প্রতি ২-৭ টন বলে স্থানীয় লোকজন জানান। অমৌসুমে দাম বেশি পাওয়া যায় বলে ব্যক্তি উদ্যোগেও সুপারী সংরক্ষণ করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন, সঠিক পরিচর্যা আর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে জকিগঞ্জে সুপারীর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল। এ খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। সুপারীর চাষ করে জকিগঞ্জের অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad