Headlines News :
Home » » সিলেট-৫ আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাপায় একাধিক প্রার্থী: একক প্রার্থী ইসলামী দলে

সিলেট-৫ আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাপায় একাধিক প্রার্থী: একক প্রার্থী ইসলামী দলে

Written By zakigonj news on শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭ | ৫:২৪ PM

রহমত আলী হেলালী
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে ২৩৩ সিলেট-৫ আসন গঠিত। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাপায় একাধিক প্রার্থী রয়েছে। একক প্রার্থী রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ইসলামী দলে। দীর্ঘদিন থেকে একক প্রার্থী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কৌশলে মাঠে কাজ করলেও গেল সাপ্তাহে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দুই উপজেলার যৌথ দায়িত্বশীল সভা করে একক প্রার্থী নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে। এ আসনে প্রতিটি ইসলামী দলের একক প্রার্থী হওয়ায় আসনটি পুনরুদ্ধারের তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দেড় বছর সময় বাকি থাকলেও ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাপার পাশাপাশি ইসলামী দলগুলোর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরী হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশী নতুন-পুরাতন অনেক প্রার্থী-ই মাঠে সরব হয়ে উঠছেন। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছেন সব দলের প্রার্থীরা। সে সুবাদে সকল রাজনৈতিক দলের তৃণমূলে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যেও আগামী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। তবে প্রচার বা গণসংযোগের চিত্র এখনো সেভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেনি।
এ আসন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সিলেট জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সাবেক দু’বারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদার, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অর্থনীতিবীদ ড. আহমদ আল কবীর, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সমাজসেবী আলহাজ্ব আব্দুল মোমিন চৌধুরী ও সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মোশতাক আহমদ নির্বাচন করবেন বলে শুনা যাচ্ছে। তবে বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মহাজোটের প্রার্থীকে আসন ছেড়ে দেয়ায় বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত মাসুক উদ্দিন আহমদ এলাকায় ঘন ঘন সফর করে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তারপরও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন ড. আহমদ আল কবীর, আব্দুল মোমিন চৌধুরী ও এড. মোশতাক আহমদ সহ মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা। তারা কেন্দ্রে তদবীরের পাশাপাশি এলাকায় নিয়মিত যোগযোগ রক্ষা করে চলছেন। তারা সকলেই নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে সম্পর্ক নিবিড় রাখার চেষ্টা করছেন। ড. আহমদ আল কবীর দুই উপজেলার যুবলীগের কমিটি ও আব্দুল মোমিন চৌধুরী দুই উপজেলায় কৃষকলীগের কমিটি দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বেশ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ ক্ষেত্রে অনেকটা ব্যতিক্রম সাবেক এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার। তিনি নির্বাচনী মাঠ থেকে নিজেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন করবেন না বলেও তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাব্বীর আহমদকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেয়া হয়। পরবর্তীতে এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে তার নির্দেশে শাব্বীর আহমদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট না থাকলে শাব্বীর আহমদ-ই জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন বলে অনেকের ধারণা। তবে এ আসনে জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও সাবেক ছাত্রনেতা এম. জাকির হুসাইন, জাপায় যোগদানকারী কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন খালেদ ও জাপা নেতা এম.এ.মতিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য। তন্মধ্যে তরুণ প্রার্থী প্রবাসী এম. জাকির হুসেইন হঠাৎ জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বেশ কিছুদিন থেকে তাকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন জাতীয় পার্টির নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। তবে বর্তমান এমপি সেলিম উদ্দিন এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ঘন ঘন নির্বাচনী এলাকা সফর করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। ক্লিন ইমেজের সেলিম উদ্দিন এমপি খুব অল্প সময়েই এ অঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এমনটাই দাবী স্থানীয় জনসাধারণের। তাই আগামী নির্বাচনে এ আসনে সেলিম উদ্দিন এমপিকে জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে পুনরায় মনোনয়ন দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্যদিকে  এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির একাধিক প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন (চাকসু মামুন), সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কাহির চৌধুরী এবং সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। জোটের প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়ায় গত দু’টি নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও এবার তারা কোনভাবেই এ আসনটি জামায়াতকে ছাড় দিতে নারাজ। তাই বিএনপির মনোনয় নিতে কেন্দ্রে তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীরা। তবে এ আসনকে বিএনপির ঘাটি হিসেবে তৈরী করতে সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) দীর্ঘদিন থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ দুই উপজেলার বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে তিনি নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের এই দুর্যোগময় মুহুর্তে জকিগঞ্জ-কানাইঘাট বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের একমাত্র ভরসাই চাকসু মামুন। তিনি নেতাকর্মীদের উপর মামলা ও হামলার কথা শুনলেই মেধা, শ্রম ও অর্থ নিয়ে হাজির হন তাদের পাশে। তাই আগামী নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে তাকেই প্রার্থী চায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মী।
এছাড়া এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, খেলাফত মজলিস থেকে যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মাওলানা এনামুল হাসান ছাবীর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ তিনটি ইসলামী দল-ই ২০দলীয় জোটভূক্ত হওয়ায় তারা জোট থেকে মনোনয়ন চাইবে। জোট মনোনয়ন না দিলে নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্তের উপর-ই নির্ভর করবে তাদের নির্বাচন করা না করার বিষয়। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জোটের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। কেননা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি-ই জোটের প্রার্থী হচ্ছেন বলে গুণজন শুনা যাচ্ছে। তবে এবার কিছুতেই জামায়াতকে ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী, জোটের স্বার্থে একাধিকবার জামায়াত প্রার্থীকে ছাড় দিতে গিয়ে বিএনপি এখন অস্থিত্ব সংকটে ভোগছে। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নতুন প্রজন্মের নিকট ধানের শীষ প্রতীকের কোন অস্থিত্ব নেই বললেই চলে। তাই নিজ দলের প্রতীক ধানের শীষের অস্থিত্ব রক্ষায় তারা এবার নিজ দলের প্রার্থী দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। তারা এ আসনটিকে নিজেদের দাবী করে এখন থেকে নিজ দলের প্রার্থী নির্বাচন করে আসনটি পুনরুদ্ধারে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবী, এ আসন থেকে ১৯৯১ সালে ইসলামী ঐক্যজোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের মাওলানা উবায়দুল হক উজিপুরী (রহ.) এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সে কারণে এ আসনটি তারা এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরুদ্ধার করতে চায়।
তবে এলাকার সাধারন ভোটাররা জানায়, তারা সব দলের অংশ গ্রহণে অবাধ, সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশী। বিগত দিনগুলোতে সুখে, দুঃখে তারা যাদের কাছে পেয়েছে তাদের মধ্যে বাছাই করে ভালো মানুষকেই নির্বাচিক করতে চায় ভোটাররা। যারা দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক ও সকল বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আগ্রহী তাদেরকেই তারা ভোট দিবেন। এ আসনে দিন যতই যাচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad