Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে আসেন মাসে দুই দিন!

জকিগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে আসেন মাসে দুই দিন!

Written By zakigonj news on রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৭ | ২:১১ AM

শ্রীকান্ত পাল
জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম মাসে দুই দিন বিদ্যালয়ে আসেন। ফলে জেলা শহর থেকে ৯১ কিলোমিটার দুরের নারী শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৯ জুলাই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রওশনারা বেগম। এরপর থেকেই তিনি মাসে দুই দিনের বেশী বিদ্যালয়ে আসেন না । হাজিরা খাতায় তিনি তাঁর নামও লিখেন নাই এমনিক স্বাক্ষরেরও কোন ব্যবস্থা নাই। মাসে একদিন এসে বেতন বিলে সাক্ষর করেন আর একদিন বেতন ভাতা উত্তোলন করে নিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক না আসাতে অন্যান্য শিক্ষকদেরও গাছাড়া ভাব। প্রতিদিন ১১টায় ক্লাস শুরু করে ২টার মধ্যেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জকিগঞ্জ বাজারে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। কোন কোন শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রাইভেট টিউশনি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন। সরকারি এ বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় না।  বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী ৫ শতাধিক, কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক, নিয়মিত ৫টি ক্লাস চালাতে অন্তত ৫ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। প্রধান শিক্ষকসহ ৯টি পদের মধ্যে ৪টিই শুন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষক খলিল উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ে পদ সংখ্যাও কম। ৪ জন শিক্ষকের দ্বারা ৫টি ক্লাস চালানো কি সম্ভব? ফলে শিক্ষকদের ক্লাস চালাতে হিমশিম খেতে হয়। প্রধান শিক্ষক সিলেট শহরের বাগবাড়ীস্থ নিজস্ব বাসায় অবস্থান করেন। তার সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করার পর তিনি ফোন  রিসিভ  করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অভিভাবক এ.এম জাকির হোসেন মুকুল বলেন, আমার দুই মেয়েই বিদ্যালয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে গিয়ে কোন দিনই প্রধান শিক্ষককে পাইনি। বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেও কোন ফল হয়নি।  জকিগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী সামছ উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলার ময়নুল হক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয়ে পদ সংখ্যা বাড়ানো ও শুণ্যপদ পুরন করা একান্ত প্রয়োজন। তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, সরকার শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ ধরনের কিছু শিক্ষকের কারণেই সরকারের উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। একাধিকবার বিদ্যালয়ে পরিদর্শণ করেও তাকে বিদ্যালয়ে পাইনি আমি। এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তিনি।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশ্বেরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষককে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার জন্য আমি বার বার বলেছি। তিনি কথা শুনেননি এমনকি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানেও তাকে পাওয়া যায়নি। সিলেটের মাধ্যমিক শিক্ষা আঞ্চলিক উপ-পরিচালক জাহাঙ্গির কবির আহমদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে কর্মস্থলে অবশ্যই অবস্থান করতে হবে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শূন্য পদের ব্যপারে তিনি বলেন, দেশব্যাপাী শিক্ষক নিয়োগের চুড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। শূণ্য পদ পুরণে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad