Headlines News :
Home » » ফলোআপ: নীরব-নিস্তব্ধ ঝুমা ও বাহারের বাড়ি

ফলোআপ: নীরব-নিস্তব্ধ ঝুমা ও বাহারের বাড়ি

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭ | ৭:০৭ AM


রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর (জানেরচক) গ্রামে ঘাতকের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত আলোচিত কলেজ ছাত্রী এলিনা আক্তার ঝুমা ও ঘাতক বাহার উদ্দিনের বাড়ি এখন নীরব-নিস্তব্ধ। কথা বলার কেউ নেই বাড়িতে। আদরের মেয়ে ঝুমাকে বাঁচাতে বাবা মুসলিম আলী ও মা করিমা বেগম সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন। আর ঘাতক ছেলে বাহার উদ্দিনের বেপরোয়া ও নির্লজ্জ্ব কর্মকান্ডে আতংকিত হয়ে ১১ সদস্যের পরিবার নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন মা-বাবা। উভয় পরিবারের বাড়ি ঘর এখন পিনপতন নীরব। পুলিশী হয়রানী ও বিরোধ সৃষ্টির ভয়ে মুখ খুলছেন না প্রতিবেশীরা। গতকাল সোমবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে সরেজমিন সুরমা নদীর তীরবর্তী রসুলপুর (জানেরচক) গ্রামে গেলে মানিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরীর বাড়ির সামনে রসুলপুরের ধুলা ভর্তি রাস্তায় ঝুমা রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া ঝুমাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, নীরব-নিস্তব্ধ একটি বাঁশ-বেতের জীর্ণশীর্ণ ভাঙ্গাচোরা ঘর। বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা ঝুমার বড় বোন জামিলা বেগম ছাড়া বাড়িতে কেউ নেই। সবাই ঝুমাকে নিয়ে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জামিলা জানান, বেশ কয়েক বছর যাবৎ বখাটে বাহার ঝুমাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। মোবাইল ফোনে ঝুমা ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দিয়েছে। মাদ্রাসা থেকে দাখিল  পাশ করার পরেও বখাটে বাহারের যন্ত্রনায় বেশ কয়েক মাস ঝুমার লেখাপড়া বন্ধ ছিল। তার কবল থেকে রক্ষা পেতে বারহাল ইউনিয়নের শাহগলীতে অবস্থিত তাদের খালার বাসায় রেখে ঝুমাকে বারহাল ডিগ্রী কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকে ঝুমা একাদশ শেণীতে পড়াশোনা করতেন। জামিলা আরও জানান, ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে ঝুমা চতুর্থ। তার বাবা মুসলিম আলী দিনমজুরের কাজ করেন। জামিলা অশ্রু ঝড়া কন্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। হুনছি, নারী নির্যাতনের লাগি সরকারে অনেক আইন করছইন। আমার বইনরে (বোন) মারার বিচার চাইয়ার। অপরদিকে বাহারদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টি নন্দন একটি পাকার ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে। আতংকিত হয়ে পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছেন। পাশের ঘরের তার চাচী ছানা বেগম ও প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগমসহ অন্যান্য মহিলারা জানান, ঝুমা যখন পূর্ব ইছামতি দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী তখন বাহার উদ্দিন একই মাদ্রাসার পড়তো এবং ঝুমাকে প্রাইভেট পড়াতো। এর পর থেকেই তাদের মধ্যে সখ্যতা হয়। এক বছর আগে বাহারের সাথে ঝুমার আদালতের মাধ্যমে বিয়ে হয় বলেও দাবী করেন তারা। তবে বিয়ের বিষয়ে কোন কাজগপত্র দেখাতে পারেননি কেউই। তারা বলেন, ছোট বেলা থেকে ঝুমার লেখা-পড়ার খরচ দিয়ে আসছে বাহার। আজ অবধি সে ট্রেইলারি ও ইলেক্ট্রিকের কাজ করে ঝুমার পরিবারকে দিয়ে আসছে। শারীরিক প্রতিবন্ধি হিসেবে সরকার থেকে সে ভাতা পেত তাও ঝুমাকে দিয়ে আসছে। সে ঝুমাকে মনে প্রাণে ভালোবাসতো। কিন্তু ঝুমার পরিবার মেয়ে শিক্ষিত ও সুন্দর হওয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বাহারের সাথে ঘর করতে এখন ইচ্ছুক নয়। তারা অভিযোগ করে বলেন, বাহারের নিকট মেয়েকে না দেওয়ার জন্য ঝুমার মা এবং ঝুমা তাদের কোর্ট মেরিজের কাগজ কিছুদিন পূর্বে পুড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ঝুমার মা করিমা বেগম ঝুমাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সম্ভবত বাহার ঝুমা’র উপর হামলা চালায়। তবে এনিয়ে প্রতিবেশী বাড়ির কোন লোকজন মুখ খুলতে নারাজ। এদিকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপাচারে পর ঝুমার শরীরের রক্ত দেয়া হয়েছে। বাম হাতে, বুকে ও পেটে একাধিক জখম থাকলেও ঝুমার কিছুটা শারীরির উন্নতি হয়েছে বলে সাথে থাকা ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির জানিয়েছেন। জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা রেকর্ড হয়নি।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad