Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা

জকিগঞ্জে ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা

Written By zakigonj news on বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ | ৩:২৬ PM

রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শতাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। আগামী মার্চ কিংবা মে মাসে সম্ভাব্য নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করে এ সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গ্রাম-গঞ্জে নানা কৌশলে নিজের এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তর। রং-বেরংয়ের পোস্টার-ব্যানার ও ফেস্টুন সাটিয়ে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জানান দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম-গঞ্জে এক সাথে কয়েকজন বসলেই চলছে ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে কথা। আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে কারা হচ্ছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী? কার কি যোগ্যতা? কে কত ভোট পাবেন? এ সকল প্রশ্ন নিয়ে চলছে যুক্তিতর্ক। অনেকে প্রার্থীদের জীবনের সফলতা ও ব্যার্থতার নানা দিক তুলে করছেন আলোচনা-সমালোচনা। এবারের ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক হওয়ায় প্রার্থীরা প্রচারণার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন লাভেও দৌড়-ঝাঁপ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে নতুন, তরুণ ও প্রবাসী প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা ব্যাপক হারে চোঁখে পড়লেও বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের তেমন কোন প্রচার-প্রচারণা বা দৌড় ঝাঁপ চোঁখে পড়েনি। তবে সচেতন মহলের মতে, নতুন, তরুণ ও প্রবাসী প্রার্থীদের অনেকেই পরবর্তী নির্বাচনে সুযোগ নেয়ার লক্ষে এবং নিজের অবস্থান জানতে এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত নানা কারণে এত চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এছাড়া কোন কোন প্রার্থী নিজেকে পরিচিত করতে এবং নিজ এলাকা ও দলের অপর প্রার্থীকে কোনঠাসা করতে নির্বাচন করতে পারেন। কেননা নিজ এলাকার ও দলের অপর প্রার্থীকে এ নির্বাচনে বেকায়দায় ফেলতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে নিজে সুবিধা করতে পারবেন না। অপরদিকে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের নীরবতার বিষয়টি স্বীকার করে এলাকার লোকজন বলেন, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানরা এলাকার মানুষের নিকট নতুন করে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা এ সকল প্রার্থী ও তাদের বিগত দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে এলাকার মানুষ অবহিত রয়েছেন। তাই বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানরা পোস্টার-ব্যানার ও ফেস্টুন সাটানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, বিগত ইউনিয়ন নির্বাচনগুলোতে নিজ এলাকাকে পূজি করে প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থীতার বিষয়ে মুখ খুললেও এবার নিজ দলের অবস্থানকে পূজি করে অনেকে প্রার্থী হচ্ছেন। ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় জকিগঞ্জের বৃহৎ তিনটি রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী দলগুলো প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। কারণ আলেম-ওলামা অধ্যুষিত এ এলাকায় বিগত দিনে সংসদ, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ইসলামি দলের প্রার্থীরা ভালো ভোট টানতে সক্ষম হয়েছেন। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই ইসলামি দলগুলো। জকিগঞ্জে ইতিমধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ইসলামি সংগঠন খেলাফত মজলিস বৈঠক করে প্রাথমিকভাবে তাদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এছাড়া কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রিক দেশের শীর্ষ ইসলামি সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রাথমিক আলোচনা শেষে বেশ ক’জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে জকিগঞ্জ উপজেলা জামায়াত এখনও তাদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে অনেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাবী করে কিছুটা প্রচার প্রচারণা চালালেও এ ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেনা। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি উপজেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজ নিজ দলের মনোনয়ন নিতে তৎপরতা শুরু করেছেন একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নানা তথ্য ইতিমধ্যে এনএসআই সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সংগ্রহ করে রেখেছে। জকিগঞ্জে আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন এবং তাঁদের ভোটের অবস্থান কি? ব্যক্তিগত ও দলীয় পরিচয়সহ নানা বিষয়ে তারা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই প্রত্যেক ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রোফাইল তৈরি করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হচ্ছেন, ১নং বারহাল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত সমর্থক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন চৌধুরী, আওয়ামীলীগের তালুকদার মিছবাহ জামান, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক চৌধুরী (আবুল মিয়া), মঞ্জুরুল হামিদ চৌধুরী, মানিক মিয়া, আনিছুর রহমান মাসুক, বিএনপির বুরহান উদ্দিন রনি, জাতীয় পার্টির আফজাল চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের আব্দুল কাইয়ুম সিদ্দিকী, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, ছোহাইল আহমদ চৌধুরী, জমিয়তের মাওলানা আব্দুল হাফিজ ও মাওলানা মোস্তাক আহমদ প্রমূখ। ২নং বিরশ্রী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের আব্দুস সাত্তার, সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের মোঃ ইউনুছ আলী, উপজেলা মেম্বার এসোসিয়েশনের সভাপতি আওয়ামীলীগের মোঃ ইউনুছ আলী মেম্বার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সুলতান আজাদ, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির আব্দুস সালাম পানু, আব্দুল আহাদ মেম্বার, জাতীয় পার্টির আব্দুল আজিজ সিরাজী, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আফতাব উদ্দিন নুমানী ও মাওলানা আফতাব উদ্দিন উজীরপুরী প্রমূখ। ৩নং কাজলসার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন আল-ইসলাহ’র এম.এ.রশীদ বাহাদুর (স্বতন্ত্র), সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের জহুরুল হক খসরু, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাদির চৌধুরী মাখন, আওয়ামীলীগের জুলকারনাইন লস্কর, যুবলীগের আতিকুর রহমান মনি, আওয়ামীলীগের রাতুল বিশ্বাস, সেচ্ছাসেকলীগের আব্দুল গফুর, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির মোস্তাক আহমদ, আলহাজ্ব চেরাগ আলী, জয়নাল হক, জাতীয় পার্টির মস্তাক আহমদ লস্কর, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন, খেলাফত মজলিসের রহমত আলী হেলালী ও জমিয়তের মাওলানা সালেহ আহমদ দেওয়ানী প্রমূখ। ৪নং খলাছড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের কবির আহমদ, সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের গোলাম মোস্তফা মাসুক, আওয়ামীলীগের আব্দুল গফুর, বিএনপির আব্দুস শহীদ মাসুক, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ বুলবুল, হাফিজ আব্দুল হালিম, ডাঃ তাজ উদ্দিন ও জাতীয় পার্টির আব্দুস সালাম প্রমূখ। ৫নং জকিগঞ্জ ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়েজ আহমদ, আওয়ামীলীগের খলিলুর রহমান, সালেহ আহমদ জালালী, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আলাউদ্দিন তাপাদার, বিএনপির হাসান আহমদ মেম্বার, আব্দুল কাইয়ুম মুজিব, জাতীয় পার্টির আতাউর রহমান আলতা, জামায়াতের আজিজুর রহমান (কালন মেম্বার), জমিয়তের মাওলানা জামিল আহমদ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম শিরু প্রমূখ। ৬নং সুলতানপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল, সাবেক চেয়ারম্যান খেলাফত মজলিসের বুরহান উদ্দিন, বিএনপির হাসান আহমদ, প্রবাসী বিএনপি নেতা জাহিদ উর রহমান, জাতীয় পার্টির জালাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন খাঁন, আওয়ামীলীগের রফিক আহমদ, আব্দুল আহাদ, আব্দুস সাত্তার মেম্বার, নুমানুর রশীদ, প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহমান, টিপু চৌধুরী ও আব্দুল কুদ্দুছ তাপাদার প্রমূখ। ৭নং বারঠাকুরী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির নাসির উদ্দিন, জামায়াতের আব্দুল আজিজ মেম্বার, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা বুরহান উদ্দিন আহমদ, জাতীয় পার্টির আব্দুল জলিল, বিএনপির আহমদ রাজা মানিক, এস আলম রিয়াজ, জমিয়তের মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন আল-ইসলাহ’র মুহিউদ্দিন আহমদ আলতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাষ্টার জামাল উদ্দিন প্রমূখ। ৮নং কসকনকপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের আলতাফ হোসেন লস্কর, সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির আব্দুল আজিজ হারুন, আওয়ামীলীগের আব্দুর রাজ্জাক রিয়াজ, মোঃ আব্দুল হাই, শামীম আহমদ মেম্বার, জাতীয় পার্টির শামীম আহমদ চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আব্দুর রহিম মামরখানী, জমিয়তের মাওলানা হুমায়ুন কবীর বাবর, স্বতন্ত্র প্রার্থী সমাজসেবী হানিফ আহমদ লস্কর ও আব্দুল গফ্ফার শাহীন প্রমূখ। ৯নং মানিকপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের আবু জাফর মোঃ রায়হান, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির হেলাল আহমদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নুমান উদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামীলীগের এম.এ.মালেক, সওদাগর সেলিম, কেফায়াতুল কিবরিয়া চৌধুরী, সারওয়ার হোসেইন চৌধুরী রাজা, খেলাফত মজলিসের জুবায়ের আহমদ চৌধুরী আলমগীর, জামায়াতের এ.এফ.এম. লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, জুবায়ের আহমদ ও বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন আল-ইসলাহ’র ছড়াকার আহমদ ছিদ্দিক চৌধুরী হাছান প্রমূখ। এ সকল ব্যাক্তিবর্গ আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেন বলে লোক মুখে শুনা যাচ্ছেন। আবার তাদের অনেকেই নিজে থেকেই নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের সংরক্ষিত ২৭ মহিলা ওয়ার্ডের বিপরীতে প্রায় অর্ধশতাধিক ও ৮১টি ওয়ার্ডের বিপরীতে প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থী কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সর্বশেষ এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নির্বাচন ২০১১ সালের ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৭২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৮৬ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা প্রার্থী ও ৩৭২ জন সাধারণ সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad