Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জের কৃতি সন্তান বিচারপতি এম.এ.মতিনের সাক্ষাৎকার

জকিগঞ্জের কৃতি সন্তান বিচারপতি এম.এ.মতিনের সাক্ষাৎকার

Written By zakigonj news on বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ | ১১:৫৪ AM

স্টাফ রিপোর্টার
বিচারপতি এম এ মতিনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৬ ডিসেম্বরে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি নেন এবং ১৯৬৬ সালে সিলেট বারে যোগদানের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে শপথ নেন। ২০০৭ সালে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২৫ ডিসেম্বর ২০১০ অবসরে যান। এরপর ২০১১ থেকে ২০১৩ প্রশাসনিক আপিল আদালতের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর এটাই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান। সম্প্রতি প্রথম আলো সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে। জকিগঞ্জের পাঠকদের জন্য অনলাইন জকিগঞ্জ সংবাদে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরছি।
মিজানুর রহমান খান: বিচারপতি নিয়োগে আপিল বিভাগে থেকে প্রথম আইন আপনার হাতেই তৈরি। গত ১০ বছরে এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
এম এ মতিন: বারের সভাপতি যখন বলেন, সুপারসিড করে বিচারক নিয়োগ ঘটছে। নীতিমালা চাই। এটা বিস্ময়কর। যেখানে সুনির্দিষ্ট আইন আছে, সেখানে আপনি নীতিমালা দিয়ে কী করবেন? সংবিধানে একটা আইন করার কথা বলা থাকলেও সংসদ আইন করেনি। তাই আমাদের একটা গাইডলাইন দিতে হলো। যদি বাছাই-প্রক্রিয়ায় অনাচারের দাবি কেউ করেন, তাহলে বুঝতে হবে আইনের ব্যত্যয় বা তাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। ভারতে বিচারপতি ভার্মা কলিজিয়াম প্রথার রায় লিখেছিলেন। পরে অবসরে গিয়ে বলেছিলেন, বিচারক নিয়োগ এখন হতাশার বিষয়। আমাদের এখানে তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না সেটাই প্রশ্ন। ওই গাইডলাইন মানা হচ্ছে কি না জাতি দেখবে।      
মিজানুর রহমান খান: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানার কথা যে আইন আছে। কিন্তু তারপরেও সবাই আইন চান। আইনমন্ত্রীও বলেন আইনের খসড়া হচ্ছে। কিন্তু যে আইন আছে, তার কেউ বাস্তবায়ন চান না। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?  
এম এ মতিন: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনেই ছিল ফেডারেল কোর্টের রায় হাইকোর্ট ও অধস্তন কোর্টগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে ওই বিধানটি লেখার সময় দুটো জিনিস বদলানো হয়। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের রায় লেখা, সেখানে আনা হয়েছে রায়টাই ‘ঘোষিত আইন’। আর সেখানে যত দূর সম্ভব বাস্তবায়ন করার একটা কথা ছিল, সেটা বিলোপ করা হয়েছে। আমরা যে গাইডলাইন দিয়েছিলাম, সেটা মানা বাধ্যতামূলক। আমরা শুধু ১০ বিচারকের নিয়োগের বিষয়টি ফয়সালা করিনি, আমরা বিচারক নিয়োগের স্থায়ী একটা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলাম। আরেকটি আইন দ্বারা তাকে প্রতিস্থাপন না করা পর্যন্ত পুরো জাতির জন্য এটাই কার্যকর আইন।
মিজানুর রহমান খান: আপিল বিভাগের আইনে বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং প্রত্যেকের বিষয়ে মতামত প্রদানের বিষয়ে লিখিত রেকর্ড রাখার কথা বলা আছে। এটা কীভাবে, কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে? এই রেকর্ড কে রাখবে, তথ্য অধিকার আইনে মানুষ তা জানতে পারে?
এম এ মতিন: অবশ্যই। এখানে প্রধান বিচারপতি সুপারিশ রাখছেন। তাই কীভাবে বাছাই করা হলো সে-বিষয়ক রেকর্ড সুপ্রিম কোর্ট রাখবেন। যিনি কোনো বিচারক বাছাই-প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করবেন, তিনি যেন তা দেখতে পান।
মিজানুর রহমান খান: কিন্তু ১০ বিচারকের মামলায় প্রধান বিচারপতি আদৌ পরামর্শ দিয়েছেন বা দিলে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেই রেকর্ড ছাড়াই আপনারা ১০ বিচারকের মামলা নিষ্পত্তি করেছিলেন। এটা কী স্বচ্ছ ছিল? 
এম এ মতিন: যেহেতু সেখানে কোনো কর্তৃপক্ষ দাবি করেনি যে প্রধান বিচারপতি পরামর্শ দেননি, তাই রেকর্ড ছাড়াই সে দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। 
মিজানুর রহমান খান: আইনে যে উন্মুক্ত নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কি ধরতে পারি না এটা একটা পাবলিক রেকর্ড।
এম এ মতিন: হ্যাঁ, পাবলিক রেকর্ড। এটা দেখার দায়িত্ব জনগণের। আপনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বলতে পারেন যে অমুক বিষয়টি আমি দেখতে চাই, কারণ মনে হচ্ছে সেখানে স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করা হয়নি।  
মিজানুর রহমান খান: আপনি বলছেন বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ প্রাধান্য পাবে। তাঁর পরামর্শ সরকারের ওপর বাধ্যতামূলক কি না?
এম এ মতিন: এই বিষয়ে ভারতে গঙ্গাসাগরের একটা মামলা আছে। সেই রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, এটা মানতে হবে। কারণ, এখানে আইন ঘোষণা করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান খান: কিন্তু প্রধান বিচারপতি একা কেন সিদ্ধান্ত নেবেন? ভারতের কলিজিয়াম ব্যবস্থায় প্রধান বিচারপতিসহ চার জ্যেষ্ঠ বিচারককে বাছাই-প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের বৃহত্তর বেঞ্চও তেমন ফর্মুলা দিয়েছিলেন।
এম এ মতিন: সেটা আমরা গ্রহণ করিনি।
মিজানুর রহমান খান: এর মাধ্যমে আপনি প্রধান বিচারপতিকে কর্তৃত্ববাদী আসনে বসালেন কি না?
এম এ মতিন: আপনি যদি জাগ্রত থাকেন তাহলে কোনো প্রধান বিচারপতি কর্তৃত্ববাদী হতে পারবেন না। বিচারক নিয়োগ–প্রক্রিয়া আপনার জানার অধিকার আছে, সেটা প্রয়োগ করতে হবে। এখনকার মতো বিভক্ত নয়, বারকেও ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ হতে হবে।       
মিজানুর রহমান খান: বিচারপতি নিয়োগের বিদ্যমান আইনটি বাস্তবায়নের শক্তি বার, বার কাউন্সিল ও মিডিয়া দলীয়ভাবে বিভাজিত হওয়ার কারণে অনেকটা কমে গেছে?
এম এ মতিন: নিশ্চয়ই হ্রাস পেয়েছে। আমরা তার প্রমাণ পাচ্ছি। কারণ, আপনি বলছেন যে নীতিমালা চাই। নতুন একটি আইন চাই। আপনারা বহাল থাকা আইনটিকে অবজ্ঞা করছেন বলেই তো প্রতীয়মান হয়। সেদিন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রেসক্লাবে আমি এটাই বলতে চেয়েছি যে স্বাধীনতা একটি মানসিক অবস্থা বা গুণ যা দিয়ে মানুষ নিজকে স্বাধীন বলে অনুভব করে। স্বাধীন মানে অন্তরে বাইরে স্বাধীন। চিন্তা ও মননে কেউ স্বাধীন না হলে আইন দিয়ে তাকে স্বাধীন করা যায় না। বিচারকসহ সবার জন্যই এটা সত্য। নিজেরা নিজেরাই যদি স্বাধীন না হন, আমার একটা অধিকার আছে, সেটা যদি আমি না জানি, তাহলে নতুন আইন বা নীতিমালা প্রতিকার নাও দিতে পারে। বারের নেতৃত্ব যেভাবে মনোনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলের নেতার কাছে যাচ্ছেন, এটা ঠিক হচ্ছে না। তারা তাদের স্বায়ত্তশাসনের শক্তি নষ্ট করেছে। শামসুল হক চৌধুরী যখন বারের সভাপতি ছিলেন, সেই পরিবেশ আর তাহলে হবে না।
মিজানুর রহমান খান: তবে বার ও বেঞ্চ অন্তত তিনবার, অষ্টম ও পঞ্চম সংশোধনী এবং মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে মৌলিক কাঠামো ঘোষণা করে ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ৯৫ অনুচ্ছেদ, যার দ্বারা নির্বাহী বিভাগ বিচারক নিয়োগ ও তাঁদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করছে, সে দুটোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারতেন। এ কথায় কোনো যুক্তি দেখেন কি?
এম এ মতিন: চতুর্থ সংশোধনীতে ৯৫ অনুচ্ছেদের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ কথাটি বাদ পড়লেও আমরা বলেছি যে রেওয়াজটাই আইনে পরিণত হয়ে গেছে। ১১৬ সম্পর্কে আমারই লেখা রায়ে আছে যে ওটাকে বাহাত্তরের সংবিধানে না ফিরিয়ে নিলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দূরবর্তী ঢোলের শব্দ হয়ে থাকবে। আপনার পয়েন্ট বুঝতে পেরেছি। এর উত্তর হলো কোর্ট রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন না, এটা আইন। আমরা বাণী দিয়ে আইন করতে পারি না। যখন কোনো বিতর্কে মামলা হবে, তখন আমরা খতিয়ে দেখব। এসবের প্রতিকার চাইতে আপনারা কেউ আদালতে আসেননি।
মিজানুর রহমান খান: আপনারা সংবিধানের অনেক মৌলিক কাঠামো পরখ করেছেন। তাই সুয়োমোটো এসব পয়েন্ট নিতে পারতেন না কি। আপনার কি মনে হয় এখনো এর দরজা খোলা আছে?
এম এ মতিন: আমি তা-ই মনে করি।
মিজানুর রহমান খান: আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচারক বদলিতে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ৯০ শতাংশ মানা হয়। আর ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ অগ্রাহ্য রাষ্ট্রপতির ডিসক্রিশন আছে।’ মন্তব্য করুন।
এম এ মতিন: না, এই বক্তব্য মাসদার হোসেন মামলার রায় সমর্থন করে না।
মিজানুর রহমান খান: আপনি কি মনে করেন গাইডলাইন দিয়ে চলবে, নাকি একটি বিচারক নিয়োগ কমিশন করা ঠিক হবে?
এম এ মতিন: আমি কমিশনের পক্ষে। ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে কমিশন করেছে।
মিজানুর রহমান খান: আপনি সুপ্রিম কোর্টের অঙ্গনে মিটিং-মিছিল না করতে একটা আইনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটা কেউ মানছেন না বলে মনে হয়। আর সেটা মানাতে আপনাকেও উদ্যোগী দেখিনি।
এম এ মতিন: সেটা আমার নয়, প্রধান বিচারপতির ব্যাপার। যখন রায় দিয়েছিলাম তখন অনেকে এসে বলেছেন, বাগে না রাখলে রক্তারক্তি হবে। সেটা কিন্তু কমেছিল, পুরো বন্ধ হয়নি। প্রধান বিচারপতিসহ বিচারকেরা প্রধান ফটক দিয়ে কোর্টে ঢুকতে পারেননি।
মিজানুর রহমান খান: অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের সংবাদ সম্মেলন কম বাধা নিষেধের মধ্যে পড়ে? 
এম এ মতিন: রায় দেখতে হবে। পড়লে সবাই পড়বেন। ওটা ছিল একটা সুয়োমোটো রুল এবং আমার জানামতে সেটা এখনও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন আছে। সুরাহা হয়নি। তবে আমি যে আদেশ হাইকোর্টে দিয়েছিলাম, সেটা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত সবার জন্যই বাধ্যতামূলক। কেউ না মানলে আদালত অবমাননা হবে।  
মিজানুর রহমান খান: বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন বলে দাবি করতে পারে না। আপনি কীভাবে দেখেন?
এম এ মতিন: বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা ছিল এবং প্রতীয়মান হয় যে এই দুটোই মানা হচ্ছে না।
মিজানুর রহমান খান: কীভাবে?
এম এ মতিন: ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগ থেকে আমরা বললাম, কোনটা অপরাধ আর কোনটা অপরাধ নয় তা বলার এখতিয়ার হাইকোর্টের নেই। তেমনিভাবে সংসদে বসে বিচারকদের বিষয়ে কথা বলার বিষয়ে বাঁধা নিষেধ আছে। সংসদের ফ্লোরে বিচারকের আচরণ বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব আনা যাবে না। বিচার বিভাগ বা অন্যরা বিচার বিভাগকে স্বাধীন বললেই হবে না, মানুষকে বলতে হবে। স্বাধীন শুধু বললেই হবে না, তাকে স্বাধীন বলে প্রতীয়মান হতে হবে। অমর্ত্য সেনের বই আইডিয়া অব জাস্টিস থেকে একটা বিষয় পেলাম যে এই যে কথাটা সেটা এসেছে লর্ড হিউয়ার্ডেও ১৯২৩ সালের রায় থেকে। রেক্স বনাম সাসেক্স মামলায় তিনি বললেন যে একজন বিচারক যদি মনে করেন যে তিনি স্বাধীনভাবে বিচারকার্য করছেন, তাহলে তো হবে না। আমি বলে দিলাম আবেদন খারিজ বা মঞ্জুর। তার আগে সবাই দেখবে যে আমি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শুনলাম কি না। বিচারক যিনি বেশি কথা বলেন, মর্মে একটি চ্যাপ্টার পড়েছিলাম। সেখানে বিচারক ধৈর্যশীল শ্রোতা নন। পক্ষগুলোর কথা শুনতে নারাজ। অমর্ত্য সেন এটাই বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতীয়মান হতে হবে। প্রতিটি নাগরিক এই রাষ্ট্রের সমান সহ-অংশীদার। তাই নাগরিকের সঙ্গে কী আচরণ করা হলো তা পরিষ্কার হতে হবে।        
মিজানুর রহমান খান: সম্প্রতি বিচারপতিদের আচরণ সংসদে আলোচনার ঘটনা ঘটেছে। এটা কি সীমারেখার ব্যত্যয়? 
এম এ মতিন: নিশ্চয়ই। আমি তা-ই মনে করি। কারণ, সংসদের কার্যপ্রণালিতে বিচারকদের বিষয়ে মন্তব্যের বিষয়ে পরিষ্কার সীমারেখা টানা রয়েছে।
মিজানুর রহমান খান: আবার সংবিধান এও বলেছে যে সংসদে ফ্লোরে যাই আলোচনা হোক তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ হবে না।
এম এ মতিন: সংবিধান ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে। বিচারকদের জন্য ৯(৪) এবং সাংসদদের জন্য ৭৮ অনুচ্ছেদ। আবার সাংসদের যে বাক্স্বাধীনতা তাকে সংসদীয় কার্যপ্রণালি (বিধি ৫৩, ৬৩, ১৫১) দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, সেখানে কোনো বিচারকের আচরণ নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। 
মিজানুর রহমান খান: প্রধান বিচারপতিকে নিয়েও তারা করেছে, আর যদি করে তাহলে তার প্রতিকার কী?
এম এ মতিন: মানুষ জানছে যে তারা আইন মানছে না। আবার আমাদের অঙ্গনেও তার ব্যত্যয় ঘটছে। তবে হাইকোর্ট কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে আর তাতে ত্র“টি ঘটলে আমরা তা শুধরে দিচ্ছি। কিন্তু সংসদের ওপরে তো আরেকটি অ্যাপিলেট অথোরিটি ধরনের কিছু নেই। হাউসে কখনো কখনো যে কাটাকাটি চলে সে বিষয়ে বলার কেউ নেই যে আপনারা এটা পারেন না।
মিজানুর রহমান খান: আপনার কী মনে হয় তাহলে রাষ্ট্রকে ইউনিটারি রেখেও একটা উচ্চকক্ষ ধরনের কোনো ফোরাম থাকলে ভালো? 
এম এ মতিন: নিশ্চয়ই। আমি তা-ই মনে করি। উচ্চকক্ষের সদস্যরা দীর্ঘ মেয়াদে নির্বাচিত হবেন। তাঁরা দলের নেতাদের মতো অতশত আবেগকে প্রাধান্য দেবেন না। এ রকম একটা ব্যবস্থা থাকলে দেশের জন্য ভালো মনে করি।
মিজানুর রহমান খান: সব বিচ্যুতি নিরসনে বিচারক অপসারণের প্রশ্ন আসে না। তাই অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার জন্য অনেক দেশে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি পিয়ার কমিটি কাজ করে। বাংলাদেশে কি করা যায়?  
এম এ মতিন: আমাদের ফুলকোর্টই এটা পারে। এখানে ফুলকোর্টে প্রধান বিচারপতিসহ কেবল হাইকোর্ট জাজরা বসেন। এখানে উভয় বিভাগ থেকে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিয়ে একটি পিয়ার কমিটির গঠন হতে পারে।
মিজানুর রহমান খান: আবু সাফায় আটটি যোগ্যতা নির্ধারণ, ইনডেমনিটি বাতিল ও প্রায় দেড় কোটি ভুয়া ভোটারের মামলার রায়ের মূল লেখক হিসেবে আপনি বিএনপির বিরাগভাজন হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন কি?
এম এ মতিন: মন্তব্য নেই।
মিজানুর রহমান খান: প্রধান বিচারপতি পদে আপনার নিয়োগ নিশ্চিত জেনে সহপাঠী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিরকুট পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু জাতি দেখল আপনি জ্যেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও আপনাকে সুপারসিড করা হলো। এটা কেন?
এম এ মতিন: আমি আমার বিদায়ী ভাষণে বলেছিলাম, সুপারসেশনের ঘটনায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটা ব্যক্তির আইনগত বৈধ আশা-আকাঙ্খার পরিপন্থী। ব্যক্তির নৈতিক মনোবল ভেঙে দেয় এবং তাকে অন্যের চোঁখে হেয় করা হয়। এটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মরত বিচারকদের জন্য মন্দ বার্তা বয়ে আনে। বার্তাটি হলো, বিড়াল হও, স্বাধীন বিচারক হয়ো না। আর তা বুশের নীতি স্মরণ করিয়ে দেয় যে: হয় তুমি আমাদের পক্ষে অথবা আমাদের শত্র“ শিবিরে।
মিজানুর রহমান খান: আবু সাফায় আটটি যোগ্যতা নির্ধারণ, ইনডেমনিটি বাতিল ও প্রায় দেড় কোটি ভূয়া ভোটারের মামলার রায়ের মূল লেখক হিসেবে আপনি বিএনপির বিরাগভাজন হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন কি?
এম এ মতিন: মন্তব্য নেই।
মিজানুর রহমান খান: প্রধান বিচারপতি নিয়োগের জন্য কি আলাদা নীতিমালা হওয়া উচিত?
এম এ মতিন: নিশ্চয়ই। দলীয় স্বার্থ ও এজেন্ডার ঊর্ধ্বে উঠে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হতে হবে।
মিজানুর রহমান খান: অবসরের পরে রায় লেখা যাবে না, সেই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
এম এ মতিন: অবসরে গিয়ে রায় লেখা যাবে না, সেই বিষয়ে ১৯৬৪ সালে দেওয়া পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রায় বাধ্যতামূলক নয়, কারও কারও এমন ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। এটা বাধ্যতামূলক।  ল’জ কন্টিনিউয়েন্স এনফোর্সমেন্ট অর্ডার, ১৯৭১ এবং সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদের আলোকে বলা যায়, পাকিস্তান আমল থেকে অব্যাহত সব প্রচলিত আইনের কার্যকরতা বলবৎ থাকবে। এই অনুচ্ছেদ পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়কেও সুরক্ষা দিয়েছে। তবে অনুরূপ আইন বর্তমান সংবিধানের অধীনে প্রণীত কোনো আইন দ্বারা সংশোধন বা রহিত করা যাবে। কিন্তু ওই রায়ের বিষয়ে তা ঘটেনি। প্রকাশ্য আদালতে রায় মানে পূর্ণাঙ্গ রায়। আমি হাইকোর্টে থাকতে কখনো শুনিনি যে কোনো রায় ঘোষণার দিনটিতেই পূর্ণাঙ্গভাবে ডিকটেশন দেওয়া হয়নি।
মিজানুর রহমান খান: উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এম এ মতিন: সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের রায়ের নিদেন পক্ষে অপারেটিভ অংশ বাংলায় দেওয়া উচিত। কারণ, এটা জনগণের জানা ও ভাষার অধিকারের মধ্যে পড়ে।      
মিজানুর রহমান খান: আপনাকে ধন্যবাদ। 
এম এ মতিন: ধন্যবাদ।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad