Headlines News :
Home » » ‘রাবেয়া খাতুন চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল’র যাত্রা লগ্নে কিছু কথা, কিছু স্মৃতি

‘রাবেয়া খাতুন চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল’র যাত্রা লগ্নে কিছু কথা, কিছু স্মৃতি

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ | ৫:১৬ AM

॥ তাহেরা আজাদ ॥

জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার বাসষ্টেশন সংলগ্ন নবনির্মিত ‘রাবেয়া খাতুন চৌধুরী জেনারেল হাসাপাতাল’ আগামী ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছে। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালের যাত্রা জকিগঞ্জে এই প্রথম। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা জকিগঞ্জবাসী যুগ যুগ থেকে এমন কিছু পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন। অবশেষে জকিগঞ্জের-ই গৌরবের সন্তান মহিয়সী নারী মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরী বদৌলতে এশিয়ার দানবীর খ্যাত ড.সৈয়দ রাগীব আলীর সম্পূর্ণ অর্থায়নে একটি বেসরকারি হাসপাতাল যাত্রা শুরু করছে। দানবীর ড.সৈয়দ রাগীব আলীর সহধর্মীনী মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরী তাঁর জীবদ্দশায় সর্বদা পিতৃভূমি জকিগঞ্জের উন্নয়নে কিছু একটা করার চিন্তা করতেন। করেছেনও অনেক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বড় ধরণের কোন পরিকল্পনা নেয়ার পূর্বে-ই তিনি মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে এ নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে যান। যাক শেষ পযন্ত তাঁর জীবদ্দশায় না হলেও ইন্তেকালের ৯ বৎসর পর, প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক বাংলার হাতেম তাই এশিয়ার দানবীর হাজারো প্রতিষ্টানের জনক ও দাঁতা দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরী (আদরী নাম লনী) মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৭ ডিসেম্বর ১৫ইং বৃহস্পতিবার, এক অনুষ্টান ও কুলখানীর মধ্যে দিয়ে শুভ উদ্ভোধন করতে যাচ্ছেন ”রাবেয়া খাতুন চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল” । শেষ অবধি জকিগঞ্জবাসীর পরিকল্পিত স্বপ্নের সেই শুভ কাজটি তাঁর প্রিয়তম স্বামী দানবীর ড.সৈয়দ রাগীব আলীর হাত ধরে সম্পন্ন হচ্ছে। আর এ সুসংবাদে জকিগঞ্জ উপজেলাবাসী তথা পূর্ব সিলেটের মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। দানবীর রাগীব আলী তাঁর (রাবেয়া) আত্মার শান্তির জন্য এই হাসপাতাল করছেন বলে আমি বিশ্বাস করি। দোয়া করি আল্লাহ যেন মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে জান্নাতের ১ম সারিতে স্থান দেন (আমিন )। বিশেষ করে দানবীর ড.সৈয়দ রাগীব আলীকে কিভাবে সম্মান বা শ্রদ্ধা জানাবো সে ভাষা আমার মাঝে নেই। কেননা আমার পর দাদী বলতেন, বুকাসীর খানী, আর পিয়াসী পানি, যেই খাওয়ায় সেই পায় বেহেশতের নিশানী, বুকাসী জকিগঞ্জবাসীর র্দীঘ প্রায় এক যুগের দাবী ও স্বপ্ন পূরণ করেছেন দানবীর ড.সৈয়দ রাগীব আলী। আমার স্মৃতিতে ভেসে উঠছে আলহাজ্ব মাওলানা রেজাউল করিম জালালী ২০০৬ সালে রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর প্রতিবেশী বলরামের চকের কৃতি সন্তান মরহুম শফিকুর রহমান (সোনামনি ) দাদাকে সাথে নিয়ে রাবেয়া আপার মালনীছড়া বাংলোয় সাক্ষাত করে এলাকার উন্নয়ন সর্ম্পকে আলাপ করেছিলেন। তার মাত্র ক’দিন পর তিনি মৌলার ডাকে সাড়া দিয়ে (সকল আত্বীয় স্বজন শুভাকাঙ্কী গুণ গ্রাহীকে কাঁদায়ে ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর রাত্রে) চলে গেলেন মা’বুদের দরবারে। এর র্দীঘ দিন পর মধুবন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে দানবীর রাগীব আলী সাহেবকে দেয়া সংর্বধনা অনুষ্টানে, কুদরত উল্লাহ মার্কেটের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত হয়ে সোনাসার মাদ্রাসার প্যাডে হাসপাতালের জন্য একটি আবেদন করেন মাওলানা রেজাউল করীম জালালী। এনিয়ে ডা: মোস্তফা আহমদ আজাদ সাহেব বৃহত্তর সিলেটের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক সিলেটের ডাকে মতামত কলামে (২০০৯ সালের ৩০ অক্টোবর) দানবীর রাগীব আলী সাহেবের কাছে আকুল আবেদন জানান। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আমি যখন কবিতা লেখি, সেটি প্রকাশ পায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারী। কবিতাটির একটি লাইন ছিল ”তুমি ছিলে জকিগঞ্জের বলরামের চকের কৃতি সন্তান” ডাকের সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক এড: আব্দুল মুকিত (অপি) ভাই আমাকে প্রশ্নœ করেছিলেন রাবেয়ার বাড়ি তো আম্ভরখানা পাক্কা বাড়ি মাহফিজ মঞ্জিল্। তুমি লিখলে জকিগঞ্জ তখনও তাঁহার জানা ছিল না যে, রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর পৈত্রিক নিবাস জকিগঞ্জের বলরামের চক। ২০১০ সালের ১৬ জানুয়ারী লেখক সমাবেশ ও কবিতা পাঠের ২৫ বছর পুর্তি উৎসব উপলক্ষে আমন্ত্রণ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে অনুষ্ঠানে আগে বাগে চলে গেলাম মালনী ছড়া বাংলোয়। গিয়ে দেখি বাংলোর সামনে বসে আছেন আমার প্রিয় ব্যাক্তিত্ব দানবীর রাগীব আলী, মরহুম সৈয়দ মোস্তফা কামাল, শাহ নজরুল ইসলাম, কবি মুসা হাফিজসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এ সময় দানবীর আমাকে দেখে আমার পরিচয় জেনে হাসলেন আর বললেন, শিশু আবার কবি? তখন মরহুম সৈয়দ মোস্তফা কামাল উত্তর দিয়েছিলেন, কবি হবে না কেন? আমাদের গড়া শিষ্য। তখন দানবীর অনুষ্ঠানে আগে তাঁর সহর্ধমীনির প্রেমে হৃদয়ের টানে আমার কবিতাটি বার বার পাঠের জন্য নির্দেশ করেন। আমিও বুক ভরা সাহস নিয়ে বার বার পাঠ করতে আনন্দ পেলাম। সেই দিনের অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনাব আব্দুল হামিদ মানিক। সভা উপস্থাপনায় ছিলেন এড: আব্দুল মুকিত (অপি)। যখন ঘোষনা দিলেন একমাত্র শিশু কবি তাহেরা আজাদ তাহার স্বরচিত কবিতা নিয়ে মঞ্চে আসছে। তারপর কবিতা পাঠ করলাম কবিতা পাঠ করার পর আমার ফাইলে ছিল হাসপাতালের জন্য একটি আবেদনপত্র। তখন আমার মনে হল এই সুযোগ হাত ছাড়া করা যাবেনা। কবিতা পাঠ করে মঞ্চেই দানবীর সাহেবের হাতে হাসপাতালের আবেদন তুলে দিয়ে বলেছিলাম, আমার আপার (রাবেয়া) নামে সোনাসার হাসপাতাল করে দিতে যেন ভুল না করেন। দানবীর হাঁস্য উজ্জল মুখে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, যাও ইনশাল্লাহ তোমার দাবী পূরণ হবে, তখন অনুষ্ঠানে সকলের দৃষ্টি আমার দিকে ছিল। কি ব্যাপার কচি একটি মেয়ে দানবীরের সাথে মঞ্চেই তাঁহার সাথে কথা বলছে কত সাহস! তখন আমার হাতে কড়কড়া লাল একটি কমলা দিয়েছিলেন দানবীর রাগীব আলী। সেই কমলাটির কথা আমার মনে এখনও নাড়া দেয়। এই অনুষ্টানে ৫০ জন কবি ও সাহিত্যিক কে পূরষ্কৃত করা হয়, এরমধ্যে আমার নাম ঘোষনা করেন দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক। এছাড়া হাসপাতালের দিকে দানবীরের দৃষ্টি কাড়ার জন্য বেশ কয়েকটি কবিতা লিখেছি। এগুলো শুধু সিলেটের ডাকে নয়, রাগীব-রাবেয়ার জীবনী বইগুলোতে স্থান পেয়েছে। কবিতা গুলোর পিছনে আমি এক শিশু কবি হিসাবে যতেষ্ট উৎসাহ ও প্রেরনা দিয়েছেন মরহুম সৈয়দ মোস্তফা কামাল, শাহ নজরুল ইসলাম, কবি মুসা হাফিজ, তৌফিক মজিদ লায়েক ও আব্দুল মুকিত (অপি)। হাসপাতালের দাবী দিয়ে আমার এক দাদা ভাই সিলেটের অতি পরিচিত মুখ সিলেট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অর্থ কামান্ডার (সাবেক ) বীরমুক্তিযোদ্ধা শুয়েব আহমদ ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একখানা আবেদন করেছেন, হাসপাতাল হওয়ার লক্ষে তিনি যতেষ্ঠ অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন। সর্বশেষ সোনাসার এলাকাবাসীর দেয়া (২৮ সেপ্টম্বর ২০১০ইং) সংবর্ধনা সভায় আবেগ আপ্লুত মনে চোঁখের পানি ফেলে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেদিন দানবীর রাগীব আলী সাহেব ঘোষনা দিয়েছিলেন কেহ যদি হাসপাতালের জায়গা দান করেন তাহলে হাসপাতাল হবে। তখন এলাকার ব্যক্তি মাওলানা রেজাউল করিম জালালী ব্যতিত আর কোন দাতা না থাকায় শেষ র্পযন্ত রাস্তা ব্যতিত ৩১শতক জায়গা হাসপাতালের নামে দানপত্র রেজিষ্টেশন করে দেন। ২৩ নভেম্বর ২০১২ তারিখে এক ঐতিহাসিক  জনসভার মাধ্যমে ৫০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন  করেন দানবীর রাগীব আলী। বর্তমানে হাসপাতালের ২য় তলা পর্যন্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া হাসপাতালের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল নাজমুল হক গত ২১নভেম্বর ২০১৫ইং তারিখে হাসপাতাল পরির্দশন করেন। পরির্দশন করে হাসপাতালের শুভ উদ্ভোধন এর তারিখ ঘোষনা করেন ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ইং। বিজয়ের মাসে জকিগঞ্জবাসীর জন্য আরেকটি  বিজয় হল রাবেয়া খাতুন চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল শুভ উদ্ভোধনের মাধ্যমে। উদ্বোধন করবেন দেশ বরেণ্য দানবীর রাগীব আলী এই সুসংবাদে বর্তমানে জকিগঞ্জের প্রতিটি প্রান্তে একই আলাপ হাসপাতাল উদ্ভোধন হচ্ছে। জকিগঞ্জের দুলাভাই শুভ উদ্ভোধন করবেন। দুলাভাই কে আবার  সকলে  এক নজর দেখার সুযোগ হবে। তার মুখের বাণী সবাই শুনার অধিক অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। এ সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হাসপাতাল উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে। আমি মনে করি, এ হাসপাতালের মাধ্যমে জকিগঞ্জবাসী যেমন অসহ্য রোগ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবে, ঠিক তেমনি মরহুমা রাবেয়া আপার বিদ্বেহী আত্মা শান্তি পাবে। আমি হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও তাঁর নবম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁহার বিদেহী পবিত্র আতœার মাগফেরাত কামনা করে মাবুদের কাছে কড়োজুড়ো প্রার্থনা করছি, সেই মহিয়সী নারীকে যেন আল্লাহ জান্নাতের প্রথম সারিতে স্থান দিয়ে জান্নাতের সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন। একই সাথে এশিয়ার দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী সাহেবের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। যাতে করে রাবেয়ার প্রেমে পড়ে জকিগঞ্জের উন্নয়নে আরও অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। আমিন।
লেখক: তাহেরা আজাদ, ৬১/এ  অনামিকা পূর্ব শাহী ঈদগাহ্, সিলেট। মোবাইল-০১৭১২-২৭৩৭০০
Share this article :

1 টি মন্তব্য:

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad