Headlines News :
Home » » শিশু হত্যা, ধর্ষণ: মানবতার অপমান আর সহে না

শিশু হত্যা, ধর্ষণ: মানবতার অপমান আর সহে না

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ | ৪:৪২ PM

\ এম এ মালেক চৌধুরী \

চলমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত এবং আতংকজনক বিষয় হলো খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদি। বিশেষভাবে শিশু-কিশোর হত্যা এবং শিশুদের কিশোরীদের ধর্ষণের পর মেরে ফেলার মতো ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের মান-ইজ্জতের প্রশ্ন হয়ে দ্াড়িয়েছে। অনেক আগে এ দেশে ‘নুন এবং খুন স¯—া’ কথাটি মুখে বলাবলি হতো। প্রবীণ পাঠকদের মনে থাকার কথা যে ¯^াধীনতা লাভের বছর খানেক পর্যš— লবণের দাম ছিল প্রতি সের চার আনা। তখন প্যাকেটজাত আয়োডিনযুক্ত লবণের বালাই ছিল না। ¯^াধীনতা উত্তর প্রথম দেড়-দুই বছর দেশের আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি সে সময়ের প্রে¶াপটে দার“ন অবনতি ঘটেছিল। অবশ্য এখন কার চেয়ে শতগুন কম ছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধা, রাজাকার, আলবদর, চোর ডাকাত সহ অনেক সাধারণ মানুষের হাতে অস্ত্রের ছড়াছড়ি ছিল। তাই তখন খুন (অনেক সময় প্রতিহিংসাবশত) ডাকাতি বেড়ে যাওয়াতে মানুষের মুখেমুখে ‘নুন এবং খুন স¯—া’ বাক্যটি চালু ছিল। এখন তো মাশাআল­াহ আয়োডিন সমেত রিফাইন লবনের কেজি ত্রিশ-চলি­শ টাকা। আর মানুষ হত্যা তো কোন ব্যাপারই নয়। অস্ত্র ও নুনের চেয়ে সহজ লভ্য চুনো পুটি থেকে সবার কাছে কাটা রাইফেল আর পি¯—ল। দেশি অস্ত্র তো আছেই। কারণে অকারণে একেবারে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বা চোর-ডাকাত সাজিয়ে খুনের ঘটনা অহরহ ঘটেছে। শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পর মেরে ফেলা, গণধর্ষণ যেন একশ্রেণির মানুষ নামীয় পশুদের কাছে ডাল-ভাত তুল্য। গৃহ পরিচারীকা নির্যাতন, মুক্তিপনের জন্য শিশু জিম্মী এবং তা না পেয়ে হত্যা, ব­গার হত্যা ইত্যাদি ঘটনার খবর প্রতিদিনের খবরের পাতায় ভরপুর থাকে। দেশেতে যেভাবে শিশু নিধন, খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নারী নির্যাতন চলছে এবং মায়ের পেঠেও শিশু বুলেট হচ্ছে তা দেখে, সম্ভবত শয়তান দূরে বসে পুষ্পের হাসি হাসছে। যে সম¯— অপকর্ম করতে ইবলীসেরও লজ্জা লাগে বা করতে ভয় পায় তা এ দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ নামের পশুগুলো (পশুর বড় কোন শব্দ না পেয়ে পশু বললাম) তা করে চলেছে। তবে পশু জগতেও এক জানোয়ার তার ¯^গোত্রীয় অন্য জানোয়ারকে এরকম বধ করে না। জঙ্গলে-বনে-পাহাড়ে সব পশু সহবস্থানে বসবাস করছে। কিš—ু সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হয়েও আমরা এই ছোট দেশে শাšি—তে বসবাস যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতের উদাহরণ না টেনে স¤প্রতি সিলেটে রাজন, খুলনায় রাকীব, বরগুনায় রবিউল আলম, নাটোরে শাকিল কাজি, চাঁদপুরে মা-বাবার পিটুনিতে সাড়ে তিন বছরের শিশু  সুমাইয়া দেরকে যে রকম বিভৎস ও নিষ্ঠুর ভাবে মারা হলো তাতে নিশ্চয়ই আল­াহর আরশ কেঁপেছে এবং হত্যাকারী একে একে ধরা পড়েছে। অথচ এসব শিশু হত্যা ছাড়াও যারা অন্যান্য মানুষকে খুন করছে সে জন্য শুধু এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের নয় পুরো পৃথিবীবাসীর মনেও কর“ণা এবং আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ প্রধান, ইউনিসেফ, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন সহ বিশ্বের নাম করা মানবাধিকার কমিশন গুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আল­াহর লানতপ্রাপ্ত কওমে লুত, কওমে আদ, কওমে ছামুদ, কওমে নুহ, কওমে হুদ জাতির কথা বর্ণিত আছে। আল­াহর গজবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এসব জাতি কিš—ু মানুষ হত্যা, শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ধর্ষিতাকে মেরে ফেলা ইত্যাদি অপরাধের জন্য বিলুপ্ত করা হয়নি। পৌত্তলীকতা তথা মূর্তিপূজা এবং আল­াহ ও আল­াহর রসূল ও নবীগনের অ¯^ীকারের জন্য বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিš—ু আমাদের দেশে যে সম¯— মানুষ নামের জানোয়ারেরা বর্ণিত হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে তারা আল­াহকে ইলাহ হিসাবে মানে এবং আল­াহর প্রেরিত নবীকেও মানে। অথচ একজন প্রকৃত ইমানদার ব্যক্তি কখনো মানুষ হত্যার মতো জগন্য অপরাধে লিপ্ত হতে পারে না। শিশু তথা মানুষ হত্যা যে কবীরা গোনাহ সে সম্মন্ধে আল­াহর রাসুলের (সা:) অসংখ্য বাণী ছাড়াও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল কোরআনে আল­াহর প¶ থেকে অনেক সতর্কবার্তা রয়েছে। সূরা মায়িদার ৩২ নং আয়াতে আল­াহর ঘোষণা ‘ যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একটি প্রাণিকে হত্যা করলো সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানুষকে হত্যা করলো। কিš—ু আমাদের দেশে একশ্রেণির বিকারগ্রস্থ মানুষ নামীয় জানোয়ারদের কাছে মানুষ হত্যা যেন খেলায় পরিণত হয়েছে। আর সে জন্য পুরো দেশবাসী, জাতি ও সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তো শিশু হত্যা সহ সব রকমের হত্যাকান্ড এবং ধর্ষনের অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে কর্তৃপ¶ আš—রীক নয় এমন সাফাই দেওয়া যায় না। বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। কথা হলো দেশেতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ বাড়ার কারণ হিসেবে অপরাধ বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞজনদের অভিমত হলো বিচারের দীর্ঘসূত্রতা তথা বিচারহীনতা ও সময়োপযোগী আইান প্রণয়ন করে শা¯ি—র বিধান কঠোর করার পর্যাপ্ত অভাববোধ। প্রচলিত আইন ও বিচারের ধাপ সমূহ শেষ হতে ৪০-৫০ বছরেরও বেশি সময় লাগে। অনেকটা যেন তালগাছ রোপনের মতো দাদায় তালগাছ লাগান, ছেলে ফলের জন্য চেয়ে থাকে আর নাতি ফল খায়। বিচারের সব ধাপ শেষ হবার আগেই মামলা চালাতে চালাতে বাদী প¶ ক্লাš— হয়ে পড়ে, উকিল মোক্তারের খাই খরচ যোগান দিতে দিতে ফতুর হয়ে যায়, বেশির ভাগ বাদী, ¯^া¶ী, বিবাদী, উকিল-মোক্তার পরপারে চলে যান বা স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে পড়েন । কিš—ু চূড়াš— ফয়সালা আসে না। অর্থাৎ দুই তিন জেনারেশন চলে যায়। পর্যবে¶ক এবং ভূক্তভোগী মহলের মতে প্রচলিত বা¯—বতায় এবং মামলা জঠের পথ কমিয়ে আনতে বিচারের ধাপ সমূহ বহাল রাখা এখন অযৌক্তিক । উপনিবেশিক আমলে বৃটিশরাজ তাদের শাসনকাল দীর্ঘ করার ল¶্যে এবং তাদের বিচারকদের ¯^ার্থে আইন প্রণয়ন এবং বিচারের দীর্ঘমেয়াদী ধাপ রেখেছিল। গঠিত দ্র“ত বিচার আদালতে এখন মামলার জঠ এবং নির্ধাতির সময়ের মধ্যে এ আদালত সমাধান দিতে হ্যাপিতোশ করছে। শিশু হত্যা সহ বিভিন্ন হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের মামলাগুলোর চূড়াš— বিচারের ধাপ সমূহ কমিয়ে আনা একাš— দরকার। অথবা এ সব মামলা সামরীক সামারীকোর্টে দ্র“ত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। এ রকম সামারীকোর্ট পাকি¯—ানে রয়েছে এবং অপরাধীদের শা¯ি— কার্যকর হচ্ছে। অনেকের মতে, বৃটিশ কর্তৃক প্রণীত ফৌজদারী আইনের কয়েকটি বিধান যেমন সব রকমের হত্যা, শিশু হত্যা, ধর্ষণ, ইত্যাদি অপরাধ সমূহের শা¯ি—র বিধান পরিবর্তন করে ইসলামী শরীয়া বলবৎ করলে উদ্দেশী অনেকটা সফল হবে।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad