Headlines News :
Home » » রাত পোহালেই জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন: কে হাসবেন বিজয়ের হাসি?

রাত পোহালেই জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন: কে হাসবেন বিজয়ের হাসি?

Written By zakigonj news on বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ | ৩:১৫ AM

রহমত আলী হেলালী
রাত পোহালেই জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোন অনাকাংখিত ঘটনা ঠেকাতে ও একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পৌর এলাকায় নেয়া হয়েছে নিশ্চিন্দ্র নিরাপত্তা বলয়। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর)  জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি-ই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার থেকেই জকিগঞ্জে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া থাকছে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনী। একটি সূত্র জানায়, জকিগঞ্জ পৌরসভায় ১ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন র‌্যাব, শতাধিক পুলিশ ও শতাধিক আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। একই সাথে ১ জন বিচারিক হাকিম ও বেশ ক’জন নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু  নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি পৌরসভায় ১ প্লাটুন করে বিজিবি, এক প¬াটুন করে র‌্যাব দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশের একটি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া প্রতিটি পৌরসভায় একজন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অবস্থান করবেন। এছাড়া বিজিবি’র অতিরিক্ত একটি প্লাটুন প্রস্তুত থাকবে। ভোট গ্রহণ চলবে সকাল আটটা থেকে একটানা বিকাল চারটা পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম জানান, নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে এক্সিলেন্স একাডেমী, মধুদত্ত এফআইডিবি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা, আইডিয়াল কেজি স্কুল ও পঙ্গপটসহ সব কয়টি কেন্দ্রই ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জকিগঞ্জ পৌরসভার এবারের নির্বাচনে ৬ জন মেয়র প্রার্থী, ৮ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার প্রার্থী ও ৩১ জন সাধারন কাউন্সিলার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও সাধারন কাউন্সিলর নিয়ে সাধারন ভোটারদের তেমন কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সবার দৃষ্টি কে হচ্ছেন জকিগঞ্জ পৌরসভার পরবর্তী মেয়র। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৬ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল মার্কার প্রতিনিধি বর্তমান মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক বার বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও বিগত পৌরসভা উপ-নির্বাচনে বিপূল ভোটে নির্বাচিত একজন মেয়র। তফসিল ঘোষনার পর সকলেই তাকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হিসেবে গণণা করে আসলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারছেন না বলে মনে করছেন ভোটাররা। ব্যক্তি ইমেজে ভোট টানতে সক্ষম হলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি পিছিয়ে আছেন। জকিগঞ্জে তিন বলয়ে বিভক্ত জাতীয় পার্টির দু’টি বলয় আব্দুল মালেক ফারুকের পাঁশে নেই। নিজেদের অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বে বিরোধীদলীয় হুইপ সেলিম উদ্দিন এমপি সমর্থকরা ছাড়া আর কাউকে ফারুকের প্রচার-প্রচারণায় দেখা যায়নি। এ কারণে আব্দুল মালেক ফারুকের অবস্থানটা নড়েচড়ে হয়ে উঠেছে। ফলে ভোটারদের অনেকেই তাকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে দেখছেন না। আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রতিনিধি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার হাজী খলিল উদ্দিন তফসিল ঘোষণার পর মূল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হিসেবে গণনায় না আসলেও শেষ পর্যন্ত তিনি একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ ভোট ধরে রাখতে না পারলে খলিল উদ্দিন হতে পারেন পৌর মেয়র এমনটাই ভোটারদের ধারণা। তবে আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ ফারুক আহমদ কিছুতেই খলিল উদ্দিনকে ছাড় দিতে রাজী নন বলে লোক মূখে শুনা যাচ্ছে। তিনি খলিল উদ্দিনকে আওয়ামীলীগের কেউ নন দাবী করে ভোটের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এনিয়ে চরম বিপাকে আছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী হাজী খলিল উদ্দিন। অনেকের ধারণা হাজী খলিল উদ্দিনের চেয়ে আওয়ামীলীগ ঘরানার বেশী ভোট নিয়ে যেতে পারেন বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ। ধারণা অনুযায়ী বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ আওয়ামীলীগ ঘরানারা ভোট টানতে সক্ষম হলে সুবিধা করতে পারবেন না হাজী খলিল উদ্দিন। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রতিনিধি পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক বদরুল হক বাদল শুরুতে ভোটের মাঠে পিছিয়ে ছিলেন। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়ে ৩১৫টি ভোট পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে বিরূপ ধারণা ছিল। এছাড়া উপজেলা বিএনপির গ্রুপিংয়ের কারণে প্রথম দিকে তাকে কেউ শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখেনি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যান অধ্যাপক বদরুল হক বাদল। গ্রুপিং ভেঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী কাজে বিএনপি নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠায় এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম.ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা প্রচারণায় অংশ নেয়ায় এমনটি হয়েছে বলে ভোটারদের ধারণা। এছাড়া জকিগঞ্জ পৌরসভা প্রথম মেয়র ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ সকল মতানৈক্য ভূলে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোটার। তবে ২০দলীয় জোটের শরীকদল খেলাফত মজলিসের একজন শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় শেষ পর্যন্ত বিজয়ের বিষয়ে সন্দিহান সচেতন ভোটাররা। খেলাফত মজলিস মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি মার্কার প্রতিনিধি মোঃ জাফরুল ইসলাম শুরু থেকেই একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সচেতন ভোটাররা মনে করছেন। তরুণ এ প্রার্থী বিগত জকিগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে প্রায় ১ হাজার ৩শ ভোট পেয়ে অনেকটা চমক সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত নির্বাচনে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক মেয়র প্রার্থী থাকায় তিনি পঙ্গপট, বিলেরবন্দ ও মাইজকান্দি এলাকা থেকে পর্যাপ্ত ভোট আনতে না পারলেও এবার সে এলাকা থেকে প্রচুর ভোট টানতে সক্ষম হবেন বলে সমর্থকদের ধারণা। শেষ পর্যন্ত দেওয়াল ঘড়ি মার্কার প্রতিনিধি জাফরুল ইসলাম পঙ্গপট, বিলেরবন্দ ও মাইজকান্দি এলাকা থেকে পর্যাপ্ত ভোট আনতে সক্ষম হলে তিনি মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন বলে ভোটারদের ধারণা। তবে একটি পক্ষের মতে, জাফরুল ইসলাম দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন করায় যেমন বড় ধরণের একটি সহযোগিতা পেয়েছেন ঠিক তেমনি অনেক ভোটার হারিয়েছেন। আল ইসলাহ্ সমর্থিত মোবাইল ফোন মার্কার প্রতিনিধি অধ্যক্ষ কাজী হিফজুর রহমান শুরুতে বেশ ভালো অবস্থানে ছিলেন। তিনটি ভোট কেন্দ্রের এলাকা একাই নিজের ভাগে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তখন মানুষের মুখে মুখে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে কাজী হিফজুর রহমানের নাম শুভা পাচ্ছিল। কিন্তু আকষ্মিকভাবে এ এলাকায় হানা দেন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী বদরুল হক বাদল। বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে খ্যাত সে এলাকায় প্রভাব ফেলেন বাদল। নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম.ইলিয়াস আলীর সহধর্মীণী লুনার গণসংযোগ পাল্টে দেয় সে এলাকার চিত্র। একই সাথে মাইজকান্দি এলাকাকে কেন্দ্র করে দেওয়াল ঘড়ি মার্কার প্রতিনিধি জাফরুল ইসলাম বড় ধরণের ভাগ বসিয়েছেন। এমনটাই শুনা যাচ্ছে লোকমূখে। তবে শেষ পর্যন্ত একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে কাজী হিফজুর রহমানকে ধরে নিচ্ছেন ভোটাররা। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগ মার্কার প্রতিনিধি ফারুক আহমদ এবারের পৌরসভা নির্বাচনে আলোচিত এক প্রার্থী। তাকে নিয়ে ভোটারদের আগ্রহের কমতি নেই। সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের এই যুগ্ম আহবায়ক শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ ঘরানার সমর্থক ছাড়াও নিরীহ ও সাধারণ ভোটারদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলে ফারুক আহমদ নিশ্চিত মেয়র বলে দাবী করছেন অনেকে। ভোটারদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও ফারুক আহমদ যে চমক তৈরী করেছেন তা লক্ষণীয়। তার প্রতি অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে তা কল্পনাতিত। তবে দলীয় বৃত্তের বাইরে থেকে তিনি কতটা সুবিধাজনক অবস্থান তৈরী করতে পারছেন তা সাধারণ ভোটারদের মূখে মূখে। এটাই জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের সর্বশেষ চিত্র হিসেবে মনে করছেন ভোটাররা। তবে বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটাই প্রতিয়মাণ হয় যে, এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৬জন প্রার্থী নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারলে প্রতি প্রার্থী-ই ১ হাজারের চেয়েও ভোট বেশী টানতে সক্ষম হবেন। এ হিসেবে ১০ হাজার ৪০৭ জন ভোটারের এ পৌরসভায় মোট কাস্টিং ভোটের মধ্যে ৬ জন প্রার্থী ৬ হাজার ভোট টানতে সক্ষম হবেন। আনুমানিক কাস্টিং ভোট ৮ হাজার ধরে নেয়া হলে মূল লড়াই হবে ২ হাজার ভোট নিয়ে। যে প্রার্থী আজকের রাতে এ ২ হাজার ভোটে বড় ধরণের ভাগ বসাবেন তিনি-ই হচ্ছেন আগামী দিনের পৌর মেয়র। তিনি-ই হাসবেন বিজয়ের হাসি।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad