Headlines News :
Home » » বৃষ্টির পানিতে ভাসছে জকিগঞ্জ! কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বৃষ্টির পানিতে ভাসছে জকিগঞ্জ! কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Written By zakigonj news on রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৫ | ৩:০৫ AM


স্টাফ রিপোর্টার

জকিগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর কোথাও ভাঙ্গন দেখা না গেলেও লাগাতার বৃষ্টির ফলে পানিতে ভাসছে উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল। কৃষি জমি, ফিসারী ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের কষ্টের শেষ নেই। বিশেষ করে কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো এখন বাঁচা মরার সম্মুখীন। জানা যায়, চলতি বন্যায় জকিগঞ্জ উপজেলায় রোপা আমনের প্রায় ৮শ হেক্টর জমির সাত কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলার নি¤œাঞ্চলের ১০/১২টি ফিসারীর পার ডুবে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আমলশীদে কুশিয়ারা নদীর পানি গতকাল ২৯ আগস্ট শনিবার দুপুর তিনটায় বিপদ সীমার ১.৬৭ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমলশীদ পয়েন্টে বিপদ সীমা ১৫.৮৫ আর বর্তমানে ১৭.৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জকিগঞ্জ রয়েছে মারাতœক বন্যা ঝুঁকিতে। নদী তীরবর্তী মানুষ রাত কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। উপজেলায় সুরমা-কুশিয়ারা তীরবর্তী বারঠাকুরী, মানিকপুর, সুলতানপুর, জকিগঞ্জ, কাজলসার, খলাছড়া, বীরশ্রী ও বারহাল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধান। বন্যাকবলিত কোনো কোনো এলাকায় রাস্তায়, বিদ্যালয়ে পানি উঠে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফখরুল আলম জানান, বন্যায় জকিগঞ্জে বিপুল পরিমাণ রোপা আমন নষ্ট হবার খবর শুনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সাদিও উদ্দিন গত বুধবার জকিগঞ্জ সফর করেছেন। তিনি জানান, বন্যায় জকিগঞ্জে রোপা আমনের সম্ভাব্য সাত কোটি টাকার ফসল কেঁড়ে নিয়েছে। প্রথম দফা বন্যার পানি ফসল থেকে নেমে গেলেও দ্বিতীয় দফার বন্যায় এ ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার কাজলসার ইউপির কড়ইমুড়া গ্রামের হতদারিদ্র কৃষক সিরাই মিয়া জানান, ঋণ করে এবার ১১ কিয়ার জায়গায় রোপা আমন চাষ করলেও সবগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এহেন পরিস্থিতিতে এখন বাঁচার চেঁয়ে মৃত্যু-ই ভালো। ঋণদাতাদের কি দিয়ে বুঝাবো? একই ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের আব্দুস সবুর জানান, তাঁর ফিসারীর একটি পার ডুবে কয়েক হাজার টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। তিনি এখন জাল দিয়ে মাছ আটকিয়ে নৌকা দিয়ে মাটি এনে শেষ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। কসকনকপুর ইউনিয়নের নিয়াগুল গ্রামের গৃহিনী রাবেয়া বেগম বলেন, বাবার বাড়ি নান্দিশ্রীতে এসেছিলাম বেড়াতে। কিন্তু বন্যায় রাস্তাঘাট ডুবে কাঁদা পানিতে ভরে যাওয়ায় এখন ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছেনা। এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার সুরমা-কুশিয়ারার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা  প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। ঝুকিপূর্ণ বিরশ্রী ইউনিয়নের কুশিয়ারার ডাইকে জরুরী ভিত্তিতে মাটি ও ইটের বস্তা ফেলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad