Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে মসজিদের টাকা আত্মসাত: কে চোর আর কে সাধু!

জকিগঞ্জে মসজিদের টাকা আত্মসাত: কে চোর আর কে সাধু!

Written By zakigonj news on সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০১৫ | ৬:৪৭ PM



স্টাফ রিপোর্টার
জকিগঞ্জের বারঠাকুরী মধ্যপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের বরাদ্ধকৃত ৪০ হাজার টাকা আত্মসাত করা নিয়ে উপজেলাব্যাপী চলছে আলোচনার ঝড়। এনিয়ে এক সময়ের ঘনিষ্ট দ্ইু বন্ধু সিলেট জেলা যুব সংহতির সাধারন সম্পাদক মরতুজা আহমদ চৌধুরী ও সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পরিচালক আখতার হোসেন রাজু এখন মুখোমুখি। মসজিদের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ওই দুই বন্ধু একে অপরকে দায়ী করে পত্র-পত্রিকায় বিবৃতি দিচ্ছেন। পবিত্র মসজিদের টাকা নিয়ে ওই দুই বন্ধুর কাঁদা ছুড়াছুড়িতে এলাকায় এখন তোলপাড় সৃষ্ঠি হয়েছে। এলাকার সাধারন মানুষ এখন জানতে চায় কে চোর আর কে সাধু! তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার কোন বক্তব্য না পাওয়ায় সুস্পষ্ট কিছু বুঝা যাচ্ছেনা। গুরুত্বপূর্ণ এ দুই ব্যক্তির মধ্যে সেলিম উদ্দিন এমপি দেশের বাহিরে ও পিআইও শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া ঈদের ছুটিতে রয়েছেন। তবে এ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন রাজু জানান, বারঠাকুরী মধ্যপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নে সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। টাকা প্রাপ্তির জন্য গত ১২ মে মরতুজা চৌধুরী তাকে একটি কমিটি গঠন করে দিতে বলেন। মরতুজার কথা অনুযায়ী তিনি ওই কমিটি গঠন করে দেন। পরবর্তীতে আরেকটি কাগজে রাজুর স্বাক্ষর নেন মরতুজা। স্বাক্ষর নেয়ার সময় তিনি মসজিদের টাকা তুলে কমিটির কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন। মসজিদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকার জন্য জুন মাসে মরতুজার সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। ১৪ জুলাই জকিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করে রাজু জানতে পারেন বারঠাকুরী মসজিদের টাকা ৩০ জুন মরতুজা তুলে নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে ১৫ জুলাই মরতুজা ২০ হাজার টাকা নিয়ে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের রাজুর বাসায় যান। তখন মরতুজাকে পুরো টাকা এক সাথে মসজিদ কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলেন রাজু। আখতার হোসেন রাজু বলেন, টাকা উদ্ধারে তিনি ব্যর্থ হয়ে গত ১৯ জুলাই বারঠাকুরী বাজারে ওই এলাকার মুরব্বী ও ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে প্রতিবাদ সভায় আয়োজন করেন। প্রতিবাদ সভার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন মরতুজা আহমদ চৌধুরী। তিনি মসজিদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন মরতুজা চৌধুরী টিপুর মাধ্যমে আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গিকার করেন। আখতার হোসেন রাজুর এ বক্তব্যে জবাবে মরতুজা আহমদ চৌধুরী বলেন, বারঠাকুরী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল হান্নান হানই মিয়ার ছেলে ও সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পরিচালক আখতার হোসেন রাজু বারঠাকুরী মধ্য মসজিদের নামে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন সাহেবের বরাদ্ধকৃত টি.আর প্রকল্পের ৪০ হাজার টাকা নিজে ভুয়া মোতাওয়াল্লী / সভাপতি এবং নিজের ভাতিজাকে মসজিদের ভুয়া ইমাম সাজিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা করেন। উক্ত কমিটির কেউই প্রকৃত পক্ষে মসজিদ কমিটিতে সম্পৃক্ত নন। বরাদ্ধকৃত টাকা সম্পর্কে মহল্লাবাসী এবং মসজিদের কমিটির সাথে কোন রকম আলোচনা না করে উক্ত টাকাসমূহ তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক একাউন্ট (আখতার ট্রেডার্স হিসাব নং-২০০০০৯৬২৭, রূপালী ব্যাংক, মিরাবাজার শাখা, সিলেট প্রেরনের জন্য ০১৭১১-৯৫৫১৯৯ এই নম্বার থেকে জনৈক ডিলারের ০১৭৪৬-৭৩০৩১৮ কাছে মোবাইলে এসএমএস প্রদান করেন। এমতাবস্থায় বিষয়টি জানাজানি হলে আখতার হোসেন রাজু এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে নিজেকে আড়াল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। ইহা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিষয়টির সাথে আমার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মরতুজা চৌধুরী বলেন, স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সাথে আমার ঘনিষ্টতা থাকার সুবাদে এলাকাবাসী আমার কাছে অভিযোগ করিলে আমি বারঠাকুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করি। তাদের উভয়ের এহেন বিপরীতধর্মী বক্তব্যে মহল্লাবাসীর মধ্যে হতাশার সৃষ্ঠি হয়েছে। সচেতন এলাকাবাসীর মতে, ওই দুই ব্যক্তি এ উপজেলার উদীয়মান সমাজকর্মী। তাদের উপর সমাজের অনেক কিছু নির্ভর করে। আগামীতে এরাই চালাবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। অথচ তারা মসজিদের টাকা নিয়ে একে অপরের উপর ঢিল ছুড়ছে। একে অপরকে মসজিদের টাকা আত্মসাতকারী হিসেবে চিহ্নিত করছে। একেকজন নিজেকে সাধু বানিয়ে অন্যকে চোর বানানোর চেষ্ঠা করছেন। এ ক্ষেত্রে এমপি মহোদয়ের উচিত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত চোরকে চিহ্নিত করা। মানুষ এখন জানতে চায় কে চোর আর কে সাধু! এলাকাবাসী মনে করেন, ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন এমপি পবিত্র মসজিদের টাকা আত্মসাতকারী চোরকে চিহ্নিত করতে না পারলে একদিন তিনিও এর দায় এড়াতে পারবেন না।

Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad