Headlines News :
Home » » বজ্রের কাছ থেকে ধ্বনি কেড়ে জকিগঞ্জবাসী বলো, "করিম স্যার হত্যাকারীদের রেহাই নেই"

বজ্রের কাছ থেকে ধ্বনি কেড়ে জকিগঞ্জবাসী বলো, "করিম স্যার হত্যাকারীদের রেহাই নেই"

Written By zakigonj news on শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫ | ২:৪৫ AM


মো.ইউনুছ আলী ॥

হ্যা, আমি ক্ষণজন্মা পুরুষ মাষ্টার আব্দুল করিম স্যারের কথাই বলছি। গত বছরের ৮ই জুলাই (পবিত্র রমজান মাসে) দিবাগত রাতে নিজ গৃহে তিনি আপন ভাইদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। "তোমরা আমাকে মেরোনা; তোমাদের নির্মম নির্যাতনে আমার হাত-পা ভেঙ্গে গেলেও আমি লোকদের বলবো, সড়ক দুর্ঘটনায়-ই আমার এমনটি হয়েছে "-তাঁর এমন করুণ আর্তনাদও পুলিশের এসআই পাষন্ড আব্দুস শাকুর ও আব্দুর রহিম গংদের মন গলাতে পারেনি। হায়! কি নির্মম সেই কাহিনী!! পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি আছে কিনা তা আল্লাহ মালুম। আমরা জানি, জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের ঘেছুয়া নিবাসী আব্দুল করিম স্যার খুবই সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন। টানাপোড়নের সংসারে ছোট ভাই আব্দুস শাকুরের লেখাপড়ার স্বার্থে তাঁকে নিজের কাছে রেখে নিজের টিফিনের ভাত খাইয়ে পড়াশোনা করিয়েছন। এরপর ধাপেধাপে তাঁরই অক্লান্ত প্রচেষ্ঠায় শাকুর পুলিশের এসআই হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। কিন্তু আব্দুর রহিম শিয়ালের 'ধূর্ততা' নিয়ে করিম স্যারের সাথে ফাঁকিবাজি করায় বেশিদূর পড়া-লেখা করতে পারেনি। এরপরও করিম স্যারের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে সে ব্যবসা-বাণিজ্য করে প্রচুর লাভমান হয়। উপরন্তু করিম স্যারের নিষেধ সত্ত্বেও সে 'শাইলক' স্টাইলে সুদ ব্যবসা শুরু করে প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হয়ে ওঠে। চার ভাইয়ের মধ্যে ফাহিম নামে তাঁদের তৃতীয় ভাইটি ছিল কিছুটা সহজ-সরল। লেখাপড়াও তেমন নেই। তাই এ ভাইটিকে তুলে আনার লক্ষ্যেই করিম স্যার শিক্ষিত এক মহিলাকে তাঁর সাথে বিবাহ করিয়ে আনেন। উদ্দেশ্য ছিল, ওকে লেখা-পড়া করিয়ে চাকুরীর ব্যবস্থা করণের মাধ্যমে ফাহিমের অবস্থারও উন্নতিকরণ। পরিতাপের বিষয়, হিংসুক শাকুর ও রহিমের তা বরদাশত হয়নি। করিম স্যার সম্পদ বণ্টনের সময়েও ফাহিমের প্রতি হয়তো বেশি সহানুভূতি দেখাতে পারেন-এই হিংসায় তারা জ্বলেপুড়ে ওঠে। অবশেষে তাঁকে হত্যার মাধ্যমেই তাঁদের প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ ঘটায়। ধিক! শত ধিক!! এ যুগের কাবিল রহিম-শাকুরকে। আমরা জানি, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার সাথে করিম স্যারের ব্যবহার ছিল চমৎকার! তিনি জকিগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে আমার সাথে প্রায়ই দেখা হতো। তখন পর্যন্ত আমার চাকুরী ছিলনা। দেখা হলেই চাকুরী সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করতেন। আর তা অনেকটা গায়ে পড়েই। আমার চাকুরী নিয়ে তাঁর এত মাথা ব্যথা কেন ছিল, তা বলতে পারবোনা। তবে তাঁর মৃত্যুর পর প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী বলতে পারি, জকিগঞ্জে কর্মরত অর্ধশতাধিক শিক্ষকই তাঁর দিকনির্দেশনায় চাকুরী লাভে ধন্য হয়েছেন। যতদূর জানি, বিয়ের অল্পদিন পরেই আধুনিকা স্ত্রীর সাথে তাঁর সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে এবং এরপর আর বিয়ে করেননি। তাঁর সর্বশেষ কর্মস্থল ছিলো সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার স্বরূপচন্দ্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরিশেষে বলবো, এ হত্যাকান্ড আমাদের পারিবারিক জীবনে আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। ভাইদের পরষ্পরের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে। অন্তত এ দিকটি বিবেচনা করেই শতাব্দীর এই জঘন্য হত্যাকান্ডের দৃষ্ঠান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। অতএব বজ্রের কাছ থেকে ধ্বনি কেড়ে জকিগঞ্জবাসী বলো, "করিম স্যার হত্যাকারীদের রেহাই নেই"। ধন্যবাদ সকলকে। দোয়া করি আল্লাহ যেশহীদ আব্দুল করিম স্যারকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমীন।
লেখক: মোঃ ইউনুছ আলী, সদস্য-জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব ও সহকারী শিক্ষক- কামালপুর (খ) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad