Headlines News :
Home » » শিক্ষক করিম হত্যা মামলার এক বছর ॥ আদালতে আজও শুরু হয়নি বিচারিক কার্যক্রম!

শিক্ষক করিম হত্যা মামলার এক বছর ॥ আদালতে আজও শুরু হয়নি বিচারিক কার্যক্রম!

Written By zakigonj news on শনিবার, ১১ জুলাই, ২০১৫ | ১০:০৫ PM


রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জের মেধাবী শিক্ষক মোঃ আব্দুল করিম হত্যা মামলা এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত বছরের ১১ জুলাই এই রাতেই জকিগঞ্জ থানায় নানা নাঠকীয়তা শেষে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। হত্যাকান্ডটি ৮ জুলাই দিবাগত রাতে ঘটলেও পুলিশ বাদীর অজুহাত দেখিয়ে প্রথম দিকে মামলা নিতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিহত শিক্ষক আব্দুল করিমের ছোট ভাই ফাহিমের স্ত্রী রোজিনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এতে আসামী করেন নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শিক্ষক আব্দুল করিমের ছোট ভাই আব্দুর রহিম, আব্দুস শাকুর, আব্দুর রহীমের স্ত্রী শেফা বেগম, শালা আবুল হোসেন ও নিহতের ভাগনা হেলাল আহমদকে। এদের মধ্যে আব্দুস শাকুর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই হিসেবে ওসমানী বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের কর্মরত ছিলেন। জানা যায়, গত বছরের ৮ জুলাই দিবাগত রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে জনপ্রিয় এই শিক্ষককে আপন ছোট দুই ভাই রহিম ও শাকুর ঘুমন্ত অবস্থায় পিটিয়ে নির্মমভাবে খুন করেন। এ সময় বাড়িতে ছিলেন মামলার বাদী রোজিনা বেগম ও তাঁর সহজ সরল স্বামী আব্দুল হামিদ ফহিম। তাছাড়া নিহতের ভাগনা আলী (১৩) ও ভাগনী কলি (১১) সেখানে ছিলেন। অত্যান্ত নিরিবিলি পরিবেশের এ বাড়িতে অবস্থানরতরা প্রথম দিকে হত্যাকান্ডের বিষয়টি বুঝে উঠতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত সবাই বিষয়টি দেখেন ও বুঝেন। কিন্তু প্রভাবশালী পুলিশের এসআই আব্দুস শাকুরের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজী না হওয়ার সুবাদে তারা মেধাবী ওই শিক্ষকের মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরদিন সকালে শিক্ষক আব্দুল করিম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রচার করে তড়িগড়ি করে দাফনের ব্যবস্থা করেন। প্রথম দিকে হত্যাকান্ড না স্বাভাবিক মৃত্যু তা আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী টের না পেলেও শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে হত্যাকান্ডের বিষয়টি। সরাসরি মুখ খুলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক আব্দুল করিমের ছোট ভাই ফাহিমের রোজিনা বেগম। এলাকাবাসীর কথায় নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ লাশ উত্তোলনের জন্য আবেদন করে। শেষ পর্যন্ত লাশ দাফনের ১৫ দিন পর গত বছরের ২৩ জুলাই তাঁর লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের পর বেরিয়ে আসে হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক চিত্র। লাশের প্রাথমিক ছুরতহাল রিপোর্টে দেখা যায়, নিহত করীম স্যারের বাম হাতের কুনুই ও কবজি ভাঙ্গা, পেটের বাম পাশে জখন, বাম পা ভাঙ্গা, ডান পায়ের হাটুর উপরে জখম, ডান পায়ের রগ কাটা, অন্ডকোষের কোন অস্তিত্ব নেই। পীঠের এক পাঁশে কাঁধের নীচে রক্তাক্ত জখম, ডান পায়ের রানের উল্টা দিকে আঘাতের দাগ, ডান পার নীচে উল্টা দিকে ছেচা জখম, মাথার বাম পাশ ও পিঠে জখম দেখা যায়। লাশ কিছুটা ফুলে গেলেও আঘাতের চিহ্নগুলো স্পষ্ট ভেসে উঠে সকলের নিকট। এদিকে মামলার পরপরই ৪নং আসামী আবুল হোসেন ও লাশ উত্তোলনের পর মামলার ১নং আসামী আব্দুর রহিম বিদেশে চলে যায়। আবার এই ফাঁকে পুলিশের এসআই আব্দুস শাকুর মহামান্য হাইকোর্টে ভূল তথ্য দিয়ে চার সাপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে আসে। এই মামলার শুরু থেকেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন ছিলেন পুলিশ ভাইয়ের প্রেমে মগ্ন। অভিযোগ রয়েছে তিনি শুরু থেকেই আসামীদের বাঁচাতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। প্রথম দিকে প্রকাশ্যে আসামীরা ঘুরাফেরা করলেও কাউকে আটক করেননি তিনি। তার এহেন অপকর্ম দেখে ফুঁসে উঠেন জকিগঞ্জের শিক্ষক ও সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ। গড়ে তুলেন ‘শিক্ষক করিম হত্যার প্রতিবাদী মঞ্চ’। উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল উত্তাল হয়ে উঠে বিচারের দাবীতে। সুষ্ঠ বিচারের দাবীতে সিলেটের তৎকালীন ডিআইজি মকবুল হোসেনের নিকট আবেদন করেন প্রতিবাদী মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় মামলা হয় পুলিশের এসআই আব্দুস শাকুরের বিরুদ্ধে। বিভাগীয় মামলা চলাকালীন সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন এজাহারনামীয় ৫ জন আসামীসহ নিহতের সহজ সরল ছোট ভাই ফহিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৯ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।  চার্জসীট পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার ২নং আসামী এসআই আব্দুস শাকুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার নানা প্রমাণাদি থাকা সত্বেও পুলিশ তাকে অনেকটা রক্ষা করে শুধু “ওইদিন এসআই শাকুর বাড়িতে ছিলেন বলে জানা যায়” কথাটি উল্লেখ করেন। এছাড়া তাকে রক্ষার জন্য মামলায় বাদীনির স্বামীকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী উল্লেখ করে তাকে জড়িয়ে চার্জসীট দাখিল করেন। তবে মামলার বাদী রোজিনা বেগম তার এই চার্জশীটের উপর নারাজি দিয়েছেন আদালতে। মামলার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানতে সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী এড. আজম খাঁনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, শিক্ষক আব্দুল করিম হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজও শুরু হয়নি। মামলাটি এখনও সিলেটের জজ কোর্টে আসেনি। শুধুমাত্র আসামীদের জামিন না হওয়ার জন্য আমরা জজ কোর্টে মুভ করেছি। ফলে আসামীরা সিলেট জজ কোর্ট থেকে জামিন পায়নি। তাদের সকলেই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলাটি বর্তমানে জকিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে রয়েছে। সেখানে সরকারি কৌশলী (সিএসআইর) পাশা-পাশি মূল মামলাটি পরিচালনা করছেন এড.কাওছার রশিদ বাহার। তাকে বিভিন্ন সময় সহযোগীতা করছেন এড. ফয়জুল হক, এড. মুয়াজ্জেম হোসেন ও এড.মইন উদ্দিন। আর নারাজির বিষয়টি বর্তমানে সিলেট কোর্টে পিপি এ্যাড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের পক্ষে এপিপি এড.শামছুল হক পরিচালানা করছেন। এছাড়া এসআই শাকুরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলায় ইতোমধ্যে তিন দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবাদী মঞ্চের সভাপতি কুতুব উদ্দিন, সদস্য সচিব আবুল কালাম আযাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যক্ষ মোঃ আজির উদ্দিন, সদস্য সাংবাদিক রহমত আলী হেলালী, শিক্ষক আব্দুস শহিদ তাপাদার, মাওলানা মুহিবুর রহমান ও কেএম মামুন ছাড়াও জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন, সাবেক শিক্ষক আব্দুস সোবহান ও মামলার বাদীনি রোজিনা বেগমকে বিভাগীয় মামলায় স্বাক্ষী করা হয়েছে। আসামীদের সর্বশেষ অস্থান সম্পর্কে জানা যায়, ১নং আসামী আব্দুর রহিম এখনো পলাতক, ২নং আসামী আব্দুস শাকুর প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে সিলেটে অবস্থান করছেন। ৩নং আসামী শেফা বেগম প্রায় ১১মাস কারাভোগের পর গত মাসে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। ৮নং আসামী আবুল হোসেন ঘটনার পর পরই বিদেশে চলে যায়। সে এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছে। ৫নং আসামী হেলাল মাস দেড়েক কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছে। আর চাঞ্চল্যকর এ মামলার বাদী শিক্ষক করিমের ছোট ভাইর স্ত্রী রোজিনা বেগম ঘটনার পর থেকে তার বাবার বাড়ীতে অবস্থান করছেন। ফলে মানুষ শূণ্য হয়ে পড়ে আছে তাদের তিরাশী দাসগ্রামের নিজ বাড়িটি। এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী রোজিনা বেগম বলেন, আমার দেখামতে যে লোকটি তিলে তিলে তার উপার্যনের টাকা দিয়ে আপন ভাইদের সাংসারিক হিসেবে গড়ে তুলেছে। যে তার টাকা দিয়ে ভাই বোনকে শিক্ষিত করে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আর আমার চোঁখের সামনে সেই ভাইয়েরা নিজ হাতে তাকে হত্যা করল। এমন নির্মম ঘটনা যখন আমার মনে আসে তখন আমি বাকরূদ্ধ হয়ে পড়ি। আমি এই মামলার দৃষ্ঠান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়তে চাই।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad