Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে!

জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে!

Written By zakigonj news on শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০১৫ | ১১:১৫ PM

স্টাফ রিপোর্টার
জকিগঞ্জে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎপ্রাপ্তি এখন কল্পনা করা যায় না। জকিগঞ্জ ছাড়া অন্যান্য জায়গায় ‘বিদ্যুৎ থাকে, মাঝে মধ্যে যায়’ কথাটি শুনা গেলেও এ উপজেলায় এর পুরোটাই উল্টো। জেলা শহর থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ এলাকার মানুষের মুখে শুনা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। তারা বলেন, ‘জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে! জানা যায়, জকিগঞ্জে ঘনঘন দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি আজ জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। ভ্যাপসা গরমের মাঝে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত করছে। মানুষ দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা লাঘবের জন্যই হোক বা একটু শ্বান্তনা পাওয়ার জন্যই হোক জকিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সাবেক ডিজিএম সুজিত বাবুকে ফোন করে জানাতো। এখন নতুন ডিজিএম মোস্তফা কামাল যোগদানের পর মানুষের সে শ্বান্তনাটুকুও যেন শেষ হয়ে গেছে। কারণ তিনি সাধারণ বা ভিআইপি গ্রাহক কারও ফোনই রিসিভ করেন না। এ অভিযোগ অনেক গ্রাহকের। এমনকি এ অভিযোগটির সত্যতা জানতে এ প্রতিবেদক ভিন্ন একটি মোবাইল ফোনে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (০১৭৬৯৪০০২৬৬) নাম্বারে একাধিক বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা জানার জন্য সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে তাকে মোবাইল ফোনটি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কারও অভিযোগ শুনেন না। যা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মনো কষ্টও আরও বেড়ে যাচ্ছে। চলতি রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ দৈনিক গড়ে ২০ ঘন্টার লোডশেডিংয়ের কবলে থাকতে হয় জকিগঞ্জের প্রায় তিন লক্ষ জনগণকে। বাসা-বাড়িতে ও হাসপাতালে অসুস্থ্য রোগী ও শিশুদের রাখা খুব কষ্ট হচ্ছে। মার্কেট ও অফিসের কার্যক্রম এবং ব্যাংকিং লেনদেনে সমস্যা হচ্ছে দাবি করছেন সংশ্লিরা। এ বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জকিগঞ্জবাসী। প্রতি মুহূর্তেই জকিগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘটছে বিঘœ। দীর্ঘদিন যাবৎ দিন-রাতের ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এখানে বিদ্যুৎ যে কখন আসে এবং কখন যায় তা কেউ বলেতে পারে না। এখন অনেকে বলছেন, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ আসে ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র চার্জ দেয়ার জন্য। কিন্তু গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল কম আসে না, বরং আগের চেয়ে বেশি আসে। জানা গেছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে দিনে-রাতে ২৫ থেকে ২৭ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। তাও আবার ২০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এমনকি কখনো যদি ২০ মিনিটের বেশী বিদ্যুৎ থাকে তাহলে এর বিপরিতে ৫/৬ ঘন্টা বিদ্যুতের আর দেখা পাওয়া যায় না। ফলে দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ শুন্যতায় থাকতে হয় জকিগঞ্জবাসীকে। জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গত এক মাস ধরে জকিগঞ্জ বাজার, পৌর এলাকা, কালিগঞ্জ বাজার থেকে শুরু করে ছোট বড় সব ক’টি বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ভোগান্তি লেগেই আছে। ফলে একদিকে যেমন ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকেরাও ক্ষতির মুখে পরে ক্ষুব্ধ। এছাড়াও অব্যাহত লোডশেডিং এর কারণে উপজেলার অনেক বিদ্যুৎ নির্ভর দোকান এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। জকিগঞ্জ থেকে প্রচারিত ৩/৪টি অনলাইন পত্রিকা বিদ্যুতের অভাবে সংবাদ প্রচার করতে পারছেনা। ফলে অনেক সাংবাদিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। জকিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ও বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক জকিগঞ্জ সংবাদ ও অনলাইন দৈনিক জকিগঞ্জ সংবাদের সম্পাদক বিদ্যুতের অসহনীয় দূর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে নিজেই ডিজিএম মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়াও তিনি রমজানের পূর্বে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলামের নিকট বিষয়টি তুলে ধরেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ মতবিনিময় সভায় অন্তত পবিত্র রমজান মাসে লোডশেডিংয়ের বিষয়টি গ্রাহকদের পূর্বে জানিয়ে দেয়ার দাবী করা হলো তা পাত্তা দেননি ডিজিএম মোস্তফা কামাল। উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত দোকানগুলোতে দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। সারাদিনে গড়ে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে। তবে প্রতিটি মার্কেটে জেনারেটর থাকলেও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মাঝে মধ্যে বাধ্য হয়েই জেনারেটর বন্ধ রাখতে হয়। ফলে মার্কেটগুলোতে এ সময় প্রচন্ড গরম এবং অন্ধকার থাকে। ক্রেতারা প্রচন্ড ঘরম আর অন্ধকারের ভিতরে বিপনী বিতানগুলোতে প্রবেশ করেত চায় না। তাই বেচা-কিনাও খুব কম হচ্ছে। এ অবস্থায় দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন এবং দোকান মালিকদের জীবন-যাপন খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল আহাদ জানান, গত কয়েকমাস ধরে আমাদের এলাকায় লোডশেডিং বেড়েই চলেছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৫ থেকে ২৭ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। তবে চলতি রমজান মাস শুরুর পর থেকে বিদ্যুতের যাওয়া-আসা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, যা অসহনীয়। বিদ্যুৎ একবার গেলে আসছে দুই ঘণ্টা পর। আবার ২৫ মিনিট থেকেই চলে যাচ্ছে। এদিকে উপজেলার জামডহর গ্রামের ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, লোডশেডিংয়ের কোন সময়সীমা নেই। সারাদিন বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। আবার রাতের বেলা আসলে এক ঘন্টা থেকে কয়েক ঘন্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। উপজেলার কামালপুর গ্রামের আতা মিয়া বলেন, লোডশেডিং তো আছেই, তার মধ্যে সামান্য ঝড় বা বৃষ্টি হলে আমাদের এলাকায় একটানা ৪/৫দিন বিদ্যুৎ থাকেনা। চলতি রমজানের শুরুতে আমাদের ট্রান্সমিটারটি নষ্ট হলে ৫/৬দিন থেকে বিদ্যুৎ অফিসে ধর্ণা দিতে দিতে তা ঠিক করা হচ্ছে না। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোস্তফা কামালকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad