Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে এগিয়ে যাচ্ছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম

জকিগঞ্জে এগিয়ে যাচ্ছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম

Written By zakigonj news on বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০১৫ | ২:৩১ AM

রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জে কয়েক হাজার অসহায় ও দারিদ্র পরিবারের ভাগ্য বদলে কাজ করছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। এ প্রকল্পের অধীনে এ পর্যন্ত উপজেলার ৮০টি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠনের মধ্যদিয়ে ৩ হাজার ৮শ ৪৭টি পরিবারকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এ প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। জকিগঞ্জে এ প্রকল্পের টার্গেট পূরণের লক্ষ্যে খোদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে চষে বেড়াচ্ছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা ও প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী জুলকারনাইনের নেতৃত্বে গ্রামে গ্রামে সমিতি গঠন, সদস্য অর্ন্তভুক্তি, সঞ্চয় আমানত জমা, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলো একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পকে ভূঁইফুড় সমিতি মনে করলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসার নিরলস তত্বাবধানে তা সময়ে সময়ে কাটিয়ে উঠছে। জকিগঞ্জ উপজেলায় টার্গেটকৃত ৮১টি সমিতির মধ্যে ৮০টি সমিতি গঠন করে টার্গেটকৃত ৪,৮৬০টি পরিবারের মধ্যে ৩,৮৪৭টি পরিবারকে গ্রাম সমিতিগুলোর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনও ১টি সমিতি গঠন ও ১,০১৩টি পরিবারকে অর্ন্তভূক্তিকরণের কাজ বাকি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমন্বয়কারী জুলকারনাইন জানান, আমরা টার্গেট পূরণে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ  ্ক্ষেত্রে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা স্যার। আমরা আশাবাদী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে টার্গেটকৃত ১টি সমিতি ও ১,০১৩টি পরিবারকে প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসবো। তিনি জানান, এ উপজেলায় ৮০টি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে চলতি জুন মাসের প্রথম সাপ্তাহে সদস্যদের দেয়া আমানত ও সরকার প্রদত্ব বোনাস মিলে ৩২,৪৪৯,৬২৪ টাকার তহবিল রয়েছে। তবে এ টাকা থেকে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণ দেয়া হয়েছে ১৮,৮২৪,৭০০ টাকা। আবার এ থেকে ৬,০৪০,৩২৮টাকার মতো ঋণ পুনরায় সমিতিগুলোতে জমা হয়েছে। সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের কার্যক্রমকে স্থায়ী করণের লক্ষে ইতিমধ্যে মহান জাতীয় সংসদে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাংকটি বাণিজ্যিক হিসেবে নয় শুধুমাত্র দারিদ্র্য বিমোচনকে প্রধান্য দিয়ে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের ৪৮৫টি উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা খোলা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের ভিতরে ভূমি অফিসের পাশে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। সূত্র আরোও জানায়, পল্লী উন্নয়ন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। ব্যাংকের ৫০ ভাগ মালিকানা সরকারের অধীনে সংরক্ষিত থাকবে। তবে এ মালিকানার জন্য সরকার কোনো লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড পাবে না। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে সরকার এ ব্যাংক প্রতষ্ঠা করতে চায়। ইতিমধ্যে মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি বিলুপ্ত করে ব্যাংক গঠনের প্রস্তবে অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি ব্যাংকে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রতিটি দরিদ্র সদস্য মাসে ২০০ টাকা সঞ্চয় করেন। সরকার সমিতির প্রতি সদস্যকে ২০০ টাকা বোনাস ও ২০০ টাকা ঘূর্ণায়মান তহবিল সহায়তা দিয়ে দু’বছরে ৯ লাখ টাকার তহবিল গড়ে দিচ্ছে। এ টাকা তাদের ৬০ জন সদস্যের ব্যাংক হিসেবে জমা থাকে। এ টাকার মালিক দরিদ্র জনগণ। সরকার এ টাকা কখনও ফেরত নেবে না। এটা তাদের স্থায়ী তহবিল। জকিগঞ্জের সদস্যরা তাদের জামাকৃত তহবিল থেকে সময়ে সময়ে ঋণ নিয়ে নানা আয়বর্ধক কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে উপজেলা বিআরডিবি, কৃষি সম্প্রসারণ, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও সমবায় অফিস সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিটন খীসা বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতির মাত্রা বাড়ানো গেলে জকিগঞ্জের অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হতো। এ প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়নে আমার আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। আমি এ প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে যখন যেখানে যাওয়ার সেখানে যাচ্ছি। আমি মনে করি, বাড়ী একটি খামার এখন আর স্বপ্ন নয় এটি একটি বাস্তবতা, প্রকল্পের সদস্যরা সমবায় ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের লাভ জনক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত বৈঠক ও কারিগরি তদারকিসহ সরকারী ভাবে সকল সহযোগিতা অব্যাহত আছে। যার ফলে  সাধারণ মানুষের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যান্য লোকজনদের মাঝে নিজ চেষ্টায় দারিদ্রতা বিমোচনে এরূপ কর্মকান্ডের স্পৃহা তৈরী হচ্ছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad