Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে কিশোরী নাজুর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে তরুণরা

জকিগঞ্জে কিশোরী নাজুর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে তরুণরা

Written By zakigonj news on শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫ | ৩:০২ AM

রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের মঙ্গলশাহ (সাদিরখাল) গ্রামের কিশোরী নাজুর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার তরুণ সমাজ। অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপসহ তরুণদের ফাঁদে ফেলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কিশোরী নাজুর এহেন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সে এলাকার মানুষ। এনিয়ে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই কিশোরীর অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফুছনা বেগম। এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন নাজুর বাবা আব্দুল জব্বার (জবাই)। তবুও থামছেনা কিশোরী নাজুর অসামাজিক কার্যকলাপ। এবার সে বিয়ের দাবীতে পার্শ্ববর্তী গোটারগ্রামের আব্দুস শুক্কুরের ছেলে আবুলের ঘরে গিয়ে অনশন শুরু করেছে। গত ১৩ মে বুধবার সকাল থেকে সে আবুলের সাথে বিয়ের দাবীতে এ অনশন পালন করছে। নাজুর এহেন অনশনের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন আবুলের বাবা আব্দুস শুক্কুর ও তার পরিবারের লোকজন। জন্ম নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী মেয়েটির বয়স ১২ বছর হওয়ায় আবুলের সাথে বিয়ে দেয়া যাচ্ছে না নাজুকে। উপায়ন্তর হয়ে আব্দুস শুক্কুর স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও এলাকার মুরব্বীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু এলাকার লোকজন তার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না। এলাকাবাসীর দাবী, নাজুর এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে আবুলের পিতা ওই আব্দুস শুক্কুর জড়িত ছিলেন। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে নাজুর বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফুছনা বেগমের দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার এসআই মনোয়ার হোসেন বলেন, কিশোরী নাজুকে দিয়ে তার বাবা আব্দুল জব্বার দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। আর এসবের মূল হোতা ছিল গোটারগ্রামের আব্দুস শুক্কুর। এখন ওই নাজু আব্দুস শুক্কুরের ছেলে আবুলের সাথে বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করেছে। বিষটি এলাকার লোকজন সুরাহা না করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাজলসার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম.এ.রশীদ বাহাদুর বলেন, বাবা-মায়ের সহযোগিতায় কিশোরী নাজু একটি দুস্কৃতিকারী চক্রের ইন্দনে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। মাত্র কিছুদিন আগে নাজুর ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন গোটারগ্রামের লেগুনা চালক রুবেলের পরিবার। নাজুর খপ্পড় থেকে ছেলেকে বাঁচাতে দালালদেরকে সত্তর হাজার টাকা দিতে হয়েছে রুবেলের অসহায় মা কালা বেগমের। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন গোটারগ্রামের লেগুনা চালক রুবেলের মা কালা বেগম। তিনি বলেন, গোটারগ্রামের আব্দুস শুক্কুরসহ এলাকার কয়েক জন দুস্কৃতিকারী ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির কারণে মামলা থেকে বাঁচতে এ টাকা খরচ করেছেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাজু বেগম তার বাবা ও মায়ের কাছ থেকে সুযোগ পেয়ে অর্থের লোভে দীর্ঘদিন থেকে এ সকল অসামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। মোবাইল ফোনে বা সরাসরি কথা বলে তরুণ ও যুবকদের ফাঁদে ফেলে শিকার ধরে নাজু। শুধু তরুণ বা যুব সমাজ নয় তার ফাঁদে পড়েছেন অনেক বয়স্করাও। তার মন ভোলানো কথায় অনেকে পা দিয়েছেন ভয়াবহ ফাঁদে। কিন্তু এ ফাঁদ যে কত ভয়ানক তা যখন টের পেতো তখন কিছুই করার আর থাকতো না। নাজুর ফাঁদে পড়ে এমন বহু যুবক হয়েছে নিঃস্ব। অনেকেই মামলা ও ইজ্জতের ভয়ে টাকা দিয়ে রেহাই পেয়েছেন তার হাত থেকে। গত মার্চের প্রথম সাপ্তাহে নাজুর ফাঁদে পড়েছিলেন পার্শ্ববর্তী গোটারগ্রামের লেগুনা চালক রুবেল আহমদ (২০)। তার বাড়ীতে গিয়ে অনশন ও টাকা উদ্ধার করতে না পারায় নাজুর বাবা আব্দুল জব্বার জবাই মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের চেষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ হলেও বড় অংকের টাকা দিতে হয় রুবেলের পরিবারকে। এর আগে ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সাপ্তাহে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নাজু বাড়ীতে নিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী রায়গ্রামের পারভেজ নামের এক যুবককে। বাড়ীতে নিয়ে আসার পর পারভেজকে আটক করে নাজুর পরিবার। পরে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বড় অংকের টাকা দিয়ে রেহাই পান পারভেজ। এ প্রসঙ্গে নাজুর বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফুছনা বেগম বলেন, নাজুর কাছে প্রতিদিন অপরিচিত তরুণ ও যুবকরা আসা যাওয়া করে। তার এহেন বেপরোয়া ভাব দেখে আমি আমার শশুর ও শাশুড়ীকে বললে তারা উল্টো আমাকে গালি-গালাজ করে। গত ২২ এপ্রিল সকালে আমি বাড়ীতে অপরিচিত লোকের যাতায়াত বন্ধে ও অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তার শশুর, শাশুড়ী, দেবর ও ননদ মিলে তাকে মারধর করে। তিনি বলেন, খোদ তার শশুড় আব্দুল জব্বার জবাই অপরিচিত লোকদের বাড়ীতে এনে এহেন অপকর্ম চালাচ্ছেন। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তার শশুড় আব্দুল জব্বার জবাইকে আটক করে। তিনি এখন জামিনে বের হয়ে এসে তাকে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। নাজুর পিতা আব্দুল জব্বার জবাই বলেন, আমার পূর্ব পুরুষের বাড়ী এখানে না হওয়ায় আমার মেয়েকে নিয়ে এলাকার তরুণ ও যুবকরা ছিনিমিনি খেলছে। আমি কিছুদিনের মধ্যে এ এলাকা থেকে চলে যাব। এ বিষয়ে গোটারগ্রামের আব্দুস শুক্কুর নাজুকে একজন নষ্টা মেয়ে দাবী করে বলেন, পারিবারিকভাবে নাজুর পরিবার আত্মীয় হওয়ায় তারা সে বাড়ীতে যাওয়া আসা করতেন। নাজুর সাথে তার কোন অনৈতিক সম্পর্ক ছিলনা। তবে নাজু এখন তার ছেলের সাথে বিয়ের দাবীতে ঘরে এসে আর ফিরে যাচ্ছেনা। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তারা এখন চরম বিপাকে রয়েছেন। ছেলে ও মেয়ে উভয়ে বিয়ে করতে রাজী হলেও তারা বিয়ে দিতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে আব্দুস শুক্কুরের ছেলে আবুল ও আব্দুল জব্বার জবাইর মেয়ে নাজু তারা একে অপরকে বিয়ে করতে রাজী বলে জানায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়েছে। এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসনের নিকট নাজু ও তার সহযোগিদের সুষ্ট বিচার দাবী করেছেন।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad