Headlines News :
Home » » ভালবাসা দিবস: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

ভালবাসা দিবস: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ | ১:২৫ PM

॥ এহসান বিন মুজাহির ॥

চৌদ্দ ফেব্র“য়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আগামী ১৪ ফেব্র“য়াারি সারাবিশ্বে পালিত হবে ভালবাসা দিবস। এই দিন বিশ্বের তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজ,ভার্সিটির ক্যাম্পাস, পর্যটন কেন্দ্র, দর্শনীয় স্থান, হোটেল-রেস্তুরা, বাগান, গাছতলা-বটতলাসহ বিভিন্ন স্থানে পরস্পর ঘেষা-ঘেষী করে নির্লজ্জভাবে বসে অবৈধ ভালবাসায় মেতে ওঠে। একে অন্যকে ভালবাসার অফার দেয়ার জন্য তারা পূর্ব থেকেই এই দিনকে নির্বাচিত করে রাখে। অপসংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবলে মুসলমানদের সন্তান-সন্তুতিরাও আক্রান্ত। তারাও এ দিবসকে বিভিন্নভাবে উদযাপন করতে শুরু  করেছে। অপসংস্কৃতির বিষাক্ত ব্যাধিতে মুসলিম উম্মাহও আজ আক্রান্ত। মুসলমান হিসাবে আমাদের জানা থাকা দরকার যে,বিবাহের পূর্বে তরুণ-তরুণীর পরস্পর দেখা-সাক্ষাত,কথা-বার্তা-মিলা-মিশা,প্রেম-ভালবাসা ইসলাম ধর্মে স¤পুর্ণভাবে হারাম। ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের পূর্বে যুবক-যুবতীদের প্রেম-ভালবাসা বলতে কিছুই নেই। কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে ভালবাসা কেবল বিয়ের পরে-ই। বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রির মধ্যে যে ভালবাসা সৃষ্টি হয় এর মধ্যে অনেক সওয়াবও রয়েছে। কিন্ত বিবাহের আগে একে অন্যকে ভালবাসা হারাম। ভালবাসা শব্দটি অত্যান্ত পুতপবিত্র। ভালবাসা এমন ্একটি বস্তু যা মানুষের মনের গহিনে প্রবিষ্ট হয়ে থাকে। ভালবাসা সকল মাখলুকাতের মাঝে রয়েছে। একে অন্যের মধ্যে প্রীতি স্থাপনের জন্য রাহমানুর রাহিম আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতা’য়ালা প্রত্যেক প্রাণির মধ্যে-ই ভালবাসা তৈরী করে দিয়েছেন। ভালবাসার কারণেই শ্রদ্ধাময়ী মা কষ্ট করে সন্তানকে গর্ভধারণ করেন। আবার শৈশব থেকে কৈশর কাল পর্যন্ত কষ্ট করে লালন করেন। পিতা তাঁর সন্তানকে কঠোর পরিশ্রম করে ভাল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলার চেষ্টা করেন। ভালবাসার কারণেই বন-জঙ্গলের হিংস্র প্রাণিগুলোও স্বজাতিদের নিয়ে একসাথে বসবাস করে। ভালবাসা আল্লাহর মহান দান। সৃষ্টি জগতের প্রতি ভালবাসার টান হওয়াই স্বাভাবিক। তবে ভালবাসার জন্য কোন ক্ষণ, দিবস-রজনী নির্দিষ্ট নেই বা প্রয়োজনও হয় না। ভালবাসার স্রোত সবসময় চলমান। বিয়ের পূর্বে যুবক-যুবতীদের ভালবাসা হারাম, বিশেষ করে ১৪ ফেব্র“য়ারি “ভ্যালেন্টাইন ডে” নামের অপসংস্কৃতি। কারণ এটা অবৈধ ভালবাসা। ভালবাসা দিবস বা অন্যান্য কোন দিবস উদযাপনের নিয়ম ইসলাম ধর্মে নেই। তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এ যুগে এসেও সারাবিশ্বের মুসলমান যুবক-যুবতীরা ‘ভালবাসা দিবস ’নামে বিজাতিদের তৈরী একটি দিবস নির্লজ্জতার সাথে পালন করে আসছে। এটা ইসলামী কোন সংস্কৃৃৃতী হতে পারে না । বরং এটা হচ্ছে মুসলিম মিল্লাতের জন্য অপসংস্কৃতির বিষাক্ত একটি ছোবল।
ভ্যালেন্টাইনস ডে পরিচিতি : ‘ভ্যালেন্টাইন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ভালবাসা আর ‘ডে’ অর্থ হচ্ছে দিবস। সমষ্টিগত শব্দের অর্থ হচ্ছে; ভালবাসা দিবস। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় যে, যিশু-খৃষ্ট আগমণের পূর্বে মূর্তিপূজারি ও পৌত্তলিকরা দেবতা পূজা করতো এবং দেবতার নামে নানা রকমের অনুষ্টান পালন করতো। অনুষ্টানের কর্মসূচির মধ্যে ছিল যুবতিদের নামে লটারি দেয়া। অর্থ্যাৎ লটারিতে যে যুবতির নাম যে যুবকের ভাগ্যে পড়তো, সে যুবক আগামী এক বছর ঐদিন আসার আগ পর্যন্ত সে যুবতিকে ভোগ করতো। ঐদিনকে যুবতি বন্টনের দিনও বলা হতো। ১০ ফেব্র“য়ারি এই অনুুষ্টানের আয়োজন করা হতো। খৃষ্ট ধর্ম মতে যীশু-খ্রীষ্টের ভূমিষ্টের পর তারা তাদের ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী এই কুসংস্কার দিবস পরিবর্তন করে ১৪ ফেব্র“য়ারি তারিখে পাদ্রির নাম দিয়ে আবারো পালন করতে লাগলো। কিছুদিন এটা পালন করে আবারো ্এই দিবসেরর মধ্যে কিছু সংস্কার আনলো। ১৪্র ফেব্র“য়ারি নাম পরিবর্তন করে তাদের প্রাদ্রির নামে এই দিবস উদযাপন করতে লাগলো। আবার কোন কোন সুত্রে এই তথ্যও পাওয়া যায় যে, ভ্যলেন্টাইন’নামে একজন যাজক ছিলেন। রোমান রাজা তাকে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছিল। তিনি দীর্ঘদিন আটক থাকাকালিন সময়ে কারাগারের প্রধান রক্ষকের যুবতি মেয়ের প্রেমে পড়েন। তিনি মৃত্যুর আগে তার জন্য একটি চিঠি লিখে যান। যার কারণে তিনি খৃষ্ট সমাজে প্রেমিকাদের যাজক হিসাকে খ্যাত। তিনি যে দিন মৃত্যুবরণ করেন ঐ দিনটি ছিল ১৪ ফেব্র“য়ারি। এজন্যই ঐদিনের নাম ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীকালে এই দিনকেই ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসেবে নামকরণ করা হয় এবং পালন করা হয়। আামেরিকা, বৃটেন, ইউরূপ, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুবক-যুবতিরা নাচ-গান,ড্যান্সসহ বিভিন্ন কূরুচিপূর্ণ অনুষ্টানের মাধ্যমে ১৪ ফেব্র“য়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন করে থাকে। বক্ষমাণ এ প্রবন্ধে বিশ্ব ভালবাসা দিবস এবং ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি সর্ম্পকে আলোকপাত করার প্রয়াস করলাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে বিজাতীয় সংস্কৃতী পালন থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন ।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad