Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে হাশিম হত্যাকান্ড : মোবাইলের কললিষ্টের সূত্রধরে এগুচ্ছে পুলিশ

জকিগঞ্জে হাশিম হত্যাকান্ড : মোবাইলের কললিষ্টের সূত্রধরে এগুচ্ছে পুলিশ

Written By zakigonj news on শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ | ৩:৪০ PM

রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাইল ইসলামপুর কাঁচা রাস্তার পশ্চিমের নেজাম উদ্দিনের শুকানো ডোবা থেকে গত ৭ ফেব্র“য়ারী শনিবার রক্তাক্ত অবস্থায় পাঠানচক গ্রামের আব্দুল হাশিম (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশের মাথার পেছনে ও উপরের অংশে এবং বাম গালে ও চোঁখের নীচে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল হাশিমের জকিগঞ্জ বাজারে ‘হাশিম সু-ষ্টোর’ নামে একটি জুতার দোকান রয়েছে। তিনি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকানে যান এবং রাত ১২টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসেন। গত ৬ ফেব্র“য়ারী শুক্রবার নিহত আব্দুল হাশিমের আপন চাচা মৃত জোনাব আলীর চল্লিশার শিরনী থাকায় তিনি বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাড়িতে ছিলেন। শিরনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বিকাল ৫টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে জকিগঞ্জ বাজারস্থ তার দোকানে যান। প্রতিদিনের মতো সেদিন রাত ১২টার দিকে তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। ফলে নিহত আব্দুল হাশিমের স্ত্রী সাবিনা বেগম (২৭) রাত ৩টার দিকে নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুস সালামকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার স্বামী বাড়িতে না আসার কথা জানান। তখন আব্দুস সালাম বিষয়টি নিহতের আপন বড় ভাই পার্শ্ববর্তী ইলাবাজ (সাতঘরি) গ্রামের আব্দুল মন্নান (ময়না)সহ আত্মীয় স্বজনকে অবগত করেন। খবর পেয়ে নিহতের আত্মীয় স্বজন চর্তুদিকে খুজাখুজি শুরু করেন। পরদিন শনিবার সকাল ৭টার দিকে নিহতের ভাগনা মোঃ মাতাবুর রহমান (৩৫) হাইল ইসলামপুর গ্রামের ভরণ সুলতানপুর থেকে রহিমখার চক গামী কাঁচা রাস্তার পশ্চিম পাশের নেজাম উদ্দিনের শুকানো ডোবায় তার মামা আব্দুল হাশিমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি পরিবারের লোকজনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে শতশত লোক জড়ো হন। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম.এ.জি.ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল মন্নান (ময়না) বাদী হয়ে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩, তারিখ-০৭/০২/২০১৫ইং। মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নিহত আব্দুল হাশিমের সাথে রহিমখার চক গ্রামের মৃত রইছ আলীর পুত্র আতাউর রহমান আলতা (৫০) ও ও তার বোন নাছিমা বেগম লেছু (৩৫) এর সাথে লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। তার ধারণা নাছিমা বেগম লেছুর ষড়যন্ত্রে আতাউর রহমান আলতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীদের সহযোগিতায় আব্দুল হাশিমকে রাতের আধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপিয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে পুলিশ নিহতের বড় ভাই আব্দুল মন্নান (ময়না)’র লিখিত অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক নাছিমা বেগম লেছু ও তার ভাই আতাউর রহমান আলতাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকৃতরা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তবে পুলিশ নিহত আব্দুল হাশিম ও নাছিমা বেগম লেছুর মোবাইল কললিষ্টের সূত্রধরে এগিয়ে যাচ্ছে। আটক নাছিমা প্রথমে আব্দুল হাশিমের সাথে ঐদিন যোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও আব্দুল হাশিমের মোবাইলের রিসিভ কলে তার নাম্বার দেখালে সে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করে। জকিগঞ্জ থানার ওসি সফিকুর রহমান খান জানান, আটক নাছিমা ঐদিন হাশিমের সাথে মোবাইলে দু’বার যোগাযোগ করে। একবার বিকালে ও আরেকবার রাত ১১টার দিকে। তিনি বলেন, এই সূত্রধরে আমরা তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আসামীদের অত্যান্ত চালাক প্রকৃতির উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারিনি। তবে পুলিশ আদালতে আটককৃতদের ৫দিনের রিমান্ড চেয়েছে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে মূল রহস্য উদঘাটন করার চেষ্ঠা করবে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, আটক আলতা নিজ ভাই হত্যা ও নিজ মেযেকে ধর্ষণের অভিযোগে ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন জেলে ছিল। এছাড়া নাছিমা বেগম লেছুর ব্যাপারেও অনেক কথা রয়েছে। নাছিমা ছিলেন জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্যা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, আটক নাছিমার সাথে নিহত হাশিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সুবাধে নাছিমা কয়েক বছর পূর্বে হাশিম বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে কিছু টাকা ধার দেয়। পরবর্তীতে হাশিম বিদেশ থেকে চলে আসলে তার পরিবার অন্যত্র বিয়ে দিলে ক্ষেপে যান নাছিমা। তখন তিনি হাশিমের নিকট টাকা দাবী করেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্ঠি হয়। বিরোধ মিমাংসার লক্ষে ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর একটি সালিশ বৈঠকে একটি স্বরণলিপির মাধ্যমে নাছিমার পাওনা পরিশোধ করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এই বৈঠকে উভয় পক্ষকের বিরোধ নিষ্পত্তি করা হলেও নাছিমার ভেতর প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থাকে। এরই জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। স্থানীয়রা জানান, হাশিমের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়িতে আনা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের পরিবারের লোকজনের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠে। নির্মম খুনের শিকার আব্দুল হাশিমের ৩টি অবুঝ শিশু সবার কান্না দেখে বাবা বাবা বলে কাঁদতে থাকে। শিশু ৩টি কান্না দেখে অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। রাত ৯টায় জকিগঞ্জের থানা বাজার দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে খুনীদের বিচার দাবী করেন। এছাড়া এ ঘটনায় জকিগঞ্জ বাজার বণিক সমিতি তাৎক্ষণিক তিন দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী শনিবার বিকালে কালো ব্যাজ ধারণ করা হয়। সোমবার মানববন্ধন ও মঙ্গলবার দোয়া মাহফিলের কথা রযেছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad