Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘গোল্লাছুটি খেলা’

জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘গোল্লাছুটি খেলা’

Written By zakigonj news on রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ | ১:৪০ PM

জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা
জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় গোল্লাছুটি খেলা। কালের বিবর্তনে অন্য দেশীয় খেলার মতো গোল্লাছুটিও জকিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে হারিয়ে গেছে। মাত্র কয়েক বছর পূর্বেও গ্রামের বিস্তৃত স্কুল মাঠ, বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় সাধারণত কিশোর-কিশোরীরা গোল্লাছুটি খেলতে দেখা যেত। জানা যায়, এ খেলার জন্য ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ির জন্য বেশ জায়গা লাগে। গোল্লাছুট খেলায় দু’টি দল থাকে। এ খেলায় দলগঠনের নিয়মটিও মজার। প্রথমে দু’টি দলের জন্য দলনেতা নির্ধারণ করা হয়। এর পর অন্য খেলোয়াড়দের দু’জন দু’জন করে জুটি বেঁধে একটু দূরে যেতে বলা হয়। প্রত্যেক জুটি পৃথকভাবে তাদের নাম রাখে। তারপর দলনেতাদের সামনে এসে নাম বলে এবং যে নাম যে দলনেতা পছন্দ করে সেই নামের জন তার দলে যোগ দেয়। যেমন : কোনো জুটি একটু দূরে গিয়ে তাদের নাম ঠিক করল চাঁদ ও তারা। দলনেতাদের সামনে গিয়ে তারা বলে আমরা চাঁদ ও তারা। তোমরা কে কাকে চাও। একজন চাঁদ চাইলে অন্যজনের ভাগে পড়ে তারা। ভাগ হয়ে দুজন দু’দলে চলে যায়। এভাবেই দুই দলে সবাই ভাগ হয়। এরপর খেলা শুরু হয়। খেলা শুরুর আগে একটা ছোট্ট গর্তকে ঘিরে খেলা চলে। এই গর্তে একটি কাঠি বা কঞ্চি পুঁতে সেটির নাম দেয়া হয় গোল্লা। আর ৬০/৭০ গজ দূরে কোন গাছ বা খড়ের গাদাকে সীমানা ধরা হয়। ওই গোল্লা থেকে দৌড়ে সীমানাকে ছোঁয়াই খেলার প্রধান লক্ষ্য। গোল্লা থেকে ছুটে গিয়ে সীমানা ছোঁয়ার কারণেই এই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট। এই খেলার দলনেতা গোল্লাকে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর গোল্লার হাত ধরে দাঁড়ায় এক সদস্য। এরপর একে অপরের হাত ধরে লম্ব হয়ে ঘুরতে থাকে। আর অন্য পক্ষের খেলোয়াড়রা তাদের ঘিরে দূরে দাড়িয়ে থাকে। দলনেতাকে ধরে ঘুরতে থাকা খেলোয়াড়রা ফাঁক বুঝে দৌড় দিয়ে সীমানাকে ছুঁতে চেষ্টা করে। আর অপরপক্ষ ছুটে চলে দৌড় দেয়া খেলোয়াড়কে সীমানা ছোঁয়ার আগে ছুঁয়ে দিতে। যদি ছুঁয়ে দিতে পারে তাহলে ওই খেলোয়াড় খেলা থেকে বাদ পড়ে। অন্যদিকে সীমানা ছুঁতে পারলে জয়ের দিকে একধাপ এগিয়ে যায় তারা। এভাবে চলতে চলতে গোল্লাকে ঘিরে ঘুরতে থাকা দলের সব সদস্য সীমানা ছুঁয়ে ফেললে তারা সকলে গোল্লায় এসে জোড় লাফ দিয়ে দিয়ে সীমানার দিকে যেতে থাকে। সবাই জোড় লাফে ঠিকমতো সীমানা ছুঁতে পারলে ওই দান (পর্ব) তারা জিতে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ যদি কোন খেলোয়াড়কেই সীমানা ছুঁতে না দেয় তাহলে তারা দান পায়। পরে প্রতিপক্ষ দলনেতা গোল্লাকে ছুঁয়ে দাঁড়ায় আর অন্য সদস্যরা তাকে ছুঁয়ে আগের মতো ঘুরতে থাকে এবং চেষ্টায় থাকে কখন ছুটে গিয়ে সীমানা ছুবে। এভাবেই ঘুরে ফিরে খেলা চলতে থাকে। খেলা চলাকালীন সময়ে কিশোর-কিশোরীদের হৈ-চৈ আর রৈ-রৈ আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠতো আশপাশ লোকজন। ১০/১৫ পূর্বে জকিগঞ্জের প্রতিটি গ্রামে পড়ন্ত বিকালে চোঁখে পড়তো পল্লী গাঁয়ের এ খেলা। এখন আর গোল্লাছুটি খেলা চোঁখে পড়েনা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলার আয়োজন না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে গোল্লাছুটি খেলা। ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জীবিত করতেও এ খেলাকে ধরে রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি খেলোয়াড়দের।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad