Headlines News :
Home » » ইমামদের মর্যাদা ও করনীয়

ইমামদের মর্যাদা ও করনীয়

Written By zakigonj news on রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ | ২:২৪ PM

॥ মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার ॥

আল্লাহ কুরআনে বলেন: প্রকৃত কথা এই যে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল ইলম-সম্পন্ন লোকেরাই তাঁকে ভয় করে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাশক্তিশালী ও ক্ষমাকারী। (সুরা ফাতির-১৮)।  অতীত কালে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সমাজ-সভ্যতা, সমাজ পরিচালনার সমগ্রিক নেতৃত্বে ইমামদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। বর্তমানে বিভিন্ন কাজে তাদের উপস্থিতি অপ্রতুল, যা জাতির জন্য অসনীসংকেত, কারন সৎ-যোগ্য, তাকওয়াবান ব্যক্তিরা যখন নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত না হয়, জাতি তখন বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হয়। আল ফিকহে ইসলামে বলা হয়; প্রত্যেক এ ব্যক্তিকে ইমাম বলা হয়, যার আনুগত্য ও অনুসরণ করা হয়। চাই সেটা ভাল কাজই হোক আর খারাপ কাজই হোক। আল্লাহ কুরআনে ঘোষনা করেন; আমি তাদের মধ্যে এমন ইমাম নিযুক্ত করেছি, যারা আমার দ্বীনের পথ দেখিয়েদেয়। (সুরা আল আম্বিয়া-৭৩)। আল্লাহ আরো বলেন;  অর্থাৎ তাদেরকে আমি এমন ইমাম করেছি যারা লোকদেরকে জাহান্নামের পথে আহবান করে। (সুরা কাছাছ-১৪১)। একটি রাষ্ট্রে ইমামদেরকে দু’ধরনের দেখতে পাই। প্রথমত: যারা নামাজের ইমামতি করেন। অর্থাৎ মুক্তাদির নামাজকে তার ইমামের নামাজের সাথে সম্পৃক্ত করা। দ্বিতীয়: যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। অর্থাৎ দ্বীন ও পার্থিব বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতা, ইসলামের সোনালী যুগে এই দুটি দায়িত্ব এক্ ব্যক্তি একই সাথে পালন করেছেন। কেননা তারা ছিলেন একাধাঁরে দ্বীন ও পার্থিব জ্ঞানে পরাদর্শী। অথচ এই অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হচ্ছে। ইমামরা পার্থিব জ্ঞান থেকে দুরে সরার কারণে দুনিয়ায়ী নেতৃত্ব তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, যা অন্য একশ্রেনীর লোক গ্রহন করছে। যাদের দ্বীনের ব্যাপারে জ্ঞান নগন্য অথবা একেবারে নেই। আলেমরা হল মর্যাদাবান ব্যক্তি, তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া, আমার মত নগন্য ব্যক্তির পক্ষে অশোভনীয়, তবু বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে তাদেরকে, বলব, আপনারা পাথির্ব জ্ঞান আহরনে এগিয়ে এসে সোনালী ঐতিহ্য ফিরে আনুন। পার্থিব বিষয়ে জ্ঞান আহরনের ব্যাপারে মহান আল্লাহ কুরআনে তাগীদ প্রদান করেছেন: আর পার্থিব জীবনে তোমাার অংশ ভূলে যেওনা আর অনুগ্রহ কর যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। (সুরা  কাসাস-৭৭)। ইমাম একটি অতীব মর্যাদা ও সম্মানের আসন। তাই এদেরকে যেমন আল্লাহ সম্মানিত করেছেন, তেমনি তাদের উপর অর্পিত করেছেন কতিপয় গুরু দায়িত্ব, তাদের সম্মান মর্যাদা সর্ম্পকে মহানবী (সাঃ) বলেছেন: দুই শ্রেণীর মানুষ কিয়ামতের দিন মেশকের তৈরী টিলার উপর অবস্থান করবে। (১) ঐ গোলাম যে আল্লাহর এবং তার মনিবের হক আদায় করেছে। (২) এমন ইমাম যে কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করেছে আর তারা তার প্রতি সন্তুষ্ট ছিল। মহানবী রাসুল (সাঃ) আরো বলেন; তিন শ্রেণীর লোকের কোন প্রকার ভয়ভীতি থাকবে না। তাদের কোন হিসাব নিকাশ নেয়া হবেনা, এবং তারা মেশকের তৈরী টিলার উপর আরোহন করা থাকবে এমনকি সৃষ্টি জগতের হিসাব থেকে তাদের মুক্ত রাখা হবে। তারা হেেলন- (১) এমন ব্যক্তি যে আল্লহর সন্তুষ্টির জন্য কোরআন তেলওয়াত করে। (২) এমন ব্যক্তি যে জাতির ইমামতি করে আর জাতি তার উপর সন্তুষ্টি থাকে (তাবরানী)। (৩) অন্য হাদীসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করল এই অনুভূতি নিয়ে সে তার পিছনে এক্তেদাকারী সকল লোকদের দায়িত্বশীল এবং তাদের নামাজের যামিন আর যদি সে নামাজকে যথাযথভাবে আদায় করে থাকে, তবে তার পিছনে এক্তেদাকারী সকল মুসল্লির নামাজের ছাওয়াব তার (ইমামের) আমল নামায় দেওয়া হবে, তবে মুসল্লিদের ছাওয়াব থেকে কোন প্রকার কমতি করা হবে না বা মুসল্লিদের ছাওয়াব থেকে কেটে দেয়া হবে না। (তিবরানী)। উপর্যুক্ত আলোচনায় মসজিদে ইমামতির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। মসজিদের ইমামতির মর্যাদার পাশাপাশি যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অধিষ্ঠিত ন্যায়পরায়ন শাসকের মর্যাদা উপলব্ধি করা যায় তাহলে ধর্মীয় নেতৃত্বের অন্তর আত্মার উপলব্ধি বৃদ্ধি পাবে। সে ইমামতি সর্ম্পকে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন- নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ন বাদশাহ (ইমামগণ) দয়াময় আল্লাহর ডান হাতের নিকট একটি নূরের মিম্বরে অবস্থান করবে। আর আল্লাহর উভয় হাতই ডান হাতের ন্যায় মর্যাদাবান। এই মর্যাদা তাদের জন্য হবে যারা দুনিয়ায় বিচারব্যবস্থায় ন্যায়পরায়ন ছিল এবং তাদের পরিবার পরিজন ও অধিনস্থ সকলের সাথেই ন্যায়পরায়ন আচরন করেছেন। (মুসলিম শরীফ)। মহানবী (সাঃ) আরো বলেনঃ সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর ছায়ায় আশ্রয় পাবে যে দিন আল্লাহর ছায়া ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না; তাদের এক শ্রেণী হলো-ন্যায়পরায়ন বাদশা (বুখারী) তাই আলেমদেকেই সত্যটি উপলব্ধি করে নামাজের ইমামতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আল্লাহ যে, ইমামদের কে (উপরোক্ত) মর্যাদার কথা ঘোষনা করেছেন ঠিক তেমনি তাদের কিছু করনীয় আছে। যা আমরা কুরআনে দেখতে পাই।
(১) ইসলামের যাবতীয় বিষয়াবলী মানুষের নিকট তুলে ধরা কোন রকম সংকোচ ব্যতিরেকে এই সর্ম্পকে আল্লাহ বলেন; হে রাসুল (সাঃ) ! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ হতে আপনার নিকট যা (অবতীর্ণ) করা হয়েছে তা পৌছে দিন।  আর যদি আপনি তা না পারেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম পৌছালেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা কাফির সম্প্রদায়কে পথ  প্রদর্শন করবেন না, (সূরা-মায়েদা-৬৭)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, নিঃসন্দেহে ঈমানের বাণী প্রচারে দ্বিধা-দ্বন্ধে ভোগা সমুচিত নয় বরং তা পরোপুরি নিঃসংকুচে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া উচিত। এতে বিরুদ্বাচরণকারীরা যা বলার বলুক এবং দ্বীনের শত্র“রা যা করার করুক। কারণ আকীদার সত্যবাণী কামনা বাসনায় তোষামোদ ও তাবেদারী করেনা। অনুরূপভাবে তা মনের অনাকাংখিত ইচ্ছার প্রতি ও ভ্রক্ষেপ করেনা, বরং তা একমাত্র এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখ যে, ঈমানের প্রচার এমনভাবে হোক যেন তা মানব অন্তরের অন্তস্থলে কার্যকরী অবস্থায় পৌছে।
(১) কল্যাণকর কাজের আদেশ ও খারাপ কাজ থেকে লোকদের নিষেধ করা। আল্লাহ কুরআনে ঘোষনা করেন:  তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকবে, যারা মানুষকে কল্যাণের পথে ডাকবে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। (আল ইমরান-১০৪)। এ আয়াতটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবুও ইমামদের ক্ষেত্র এটি বেশী প্রযোজ্য, কারণ তাঁরা এ কাজটির সুযোগ বেশী পান।
(৩) যারা দ্বীনকে নিছক খেলা-তামাশার বস্তু বলে মনে করে তাদের সর্ম্পক ত্যাগ করা এবং লোকদের-কে এদের সর্ম্পকে সর্তক করা। আল্লাহর বাণী: সে সব লোকের সংগ তুমি বর্জন করো, যারা তাদের দ্বীনকে নিছক খেলা-তামাশায় পরিণত করে রেখেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে প্রতারণার জালে আটকে রেখেছে। তুমি এই (কুরআন) দিয়ে (তাদের-কে আমার কথা) স্বরণ করতে থাকো, যাতে করে কেউ এই পার্থিব কর্মকান্ডের ফলে নিজেই ধবংস হয়ে যেতে না পারে। [ মহা বিচারের দিন] তার জন্যে আল্লাহ তায়ালা ছায়া ব্যতিত কোনা সাহায্যকারী বন্ধু এবং সুপারিশকারী থাকবেনা। সে যদি নিজের সব কিছুকে মুক্তিপণ হিসেবেও নিতে চায়, তবু তার কাছ থেকে (সেদিন) কিছু গ্রহন করা হবে না। এরাই হচ্ছে সে হতভাগ্য মানুষ, যারা নিজেদের অর্জিত গুনাহের কারণে নিজেরাই ধবংস হয়ে যাবে, আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করার কারণে তাদের জন্য (আরো থাকবে) ফুটন্ত পানি ও মর্মন্তুদ শাস্তি, (সুরা আনয়াম-৭০)। আল্লাহ তায়ালা এ জীবন ব্যবস্থার সমালোচনায় বা এর ত্র“টি সন্ধানে কেউ যদি কোন কথা বলে তাহলে অবশ্যই সে দ্বীন ইসলামের গন্ডী থেকে খারিজ হয়ে যাবে, তাই এদের সাথে সর্ম্পক রাখা উচিত নয় সজাগ রাখা উচিত নয়। দ্বীনি ও পাথির্ব জ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করা কারণ দ্বীনের জ্ঞান ছাড়া ও পার্থিব জ্ঞানের সমন্বয় না ঘটলে ইসলামের সঠিক ধারনা মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। কারণ রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন : সম্প্রদায়ের ইমামতি সেই করবে যে আল্লাহর কিতাব সর্ম্পকে বেশী জ্ঞানের অধিকারী। 
(৫) শিরকের ভয়াবহতা জনগণের কাছে তুরে ধরা আল্লাহ বলেন: নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার গুনাহ ক্ষমা করবেন না, তাছাড়া যে কোন গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন (সুরা নিসা-৪৮)।
(৬) বিদ্আত এবং নিফাক সর্ম্পকে জনগণকে সর্তক করা; রাসুল (সাঃ) বলেন: বিদআতী ব্যক্তির নামাজ, রোযা, সাদকা, হজ্ব, উমরা, জিহাদ এবং ফরজ ও নফল ইবাদত কিছুই আল্লাহ তা’য়ালা কবুল করবেন না, সে ইসলাম থেকে তেমনিভাবে বেরিয়ে যায় যেমনি বেরিয়ে আসে আটার খামির হতে চুল (ইবনে মাজাহ পৃঃ-৬) নিফাক সর্ম্পকে আল্লাহ বলেন; নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের নি¤œস্থরে (সুরা-নিসা-১৪৫)।
(৭) সুদ-ঘুষ, গিবত, চোঘলখোরী, ইত্যাদি  ভয়াবহ পরিনতি সর্ম্পকে জনগণকে সর্তক করা।
(৮) ইসলামী অর্থনীতির উপকারিতার বাস্তব চিত্র জনগনের কাছে তুলে ধরা।
(৯) কুরআন ও হাদীসের বিশদ ব্যাখ্যা পরিস্থিতির আলোকে কৌশলে মানুষকে বুঝাতে হবে।
আল্লাহ বলেন, হে নবী! প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা এবং সদুপদেশী সহকারে তোমরা রবের পথের দিকে দাওয়াত এবং লোকদের সাথে বির্তক করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে, তোমার রবই ভালো জানেন কে তার পথচ্যুত হয়ে আছে এবং কে আছে সঠিক পথে ( আল কুরআন)।
এই আয়াতে হিকমা সর্ম্পকে শায়খুল হাদিস ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)  বলেন: মানুষ তিন ধরনের-
(১) যে সত্য জানে এবং মানে তাকে হিকমত অবলম্বন করে দাওয়াত দিতে হবে।
(২) যারা সত্য জানে কিন্তু মানেনা তাদেরকে সুন্দর করে বোঝাতে হবে যাতে আমল করে।
(৩) আর একদল যারা কিছুই জানেনা তাদের সাথে ভালোভাবে বির্তক করতে হবে যাতে করে। সে উপকার লাভ করতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত বিষয় সমুহ দলীল সহকারে জনগণের নিকট ইমাম সাহেব উপস্থাপন করতে হবে। তাহলে সমাজে পঞ্জীভূত কুসংস্কার ও বিষাক্ত আবর্জনা ক্রমান্বয়ে দূরিভূত হবে। তাছাড়া তাদেরকে গোপনে জনগনের জন্য দোয়া করতে হবে। হযরত উমর (রাঃ) বলেন- সবচেয়ে ভালো নেতা তিনি যিনি তার অধীনস্থদের জন্য দোয়া করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইমাম সাহেব কোরআনে হাদীসের সঠিক কথা বলার কারণে, ইমামের উপর কোন লোক যদি অসন্তুষ্ট হয় তাহলে সে দিকে নজর দেওয়া  যাবেনা, ইমামতি একটি মহান দায়িত্ব, তেমিন তিনি মর্যাদাবান ব্যক্তিও, তাই এদের দায়িত্বের  জন্য জবাবদিহি অবশ্যই আল্লাহর কাছে করতে হবে। রাসুল (সাঃ) বলেছেন- তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইমাম সাহেবদেরকে ভূলে গেলে চলবেনা। ইসলাম হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবতার মুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম বিজয়ী বেশে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা লাভ করার জন্য আগমন করেছে, পরাজিত ও পরাধীন অবস্থায় থাকার জন্য নয়। তাই এই ব্যাপারে মানুষকে কৌশলে দাওয়াত প্রদানের মাধ্যমে আপনাদের কঠিন জিম্মাদারীর দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসবে। এই প্রত্যাশ করি।
লেখক ঃ পিএইচডি গবেষক ও প্রভাষক, ইছামতি ডিগ্রী কলেজ। মোবাঃ ০১৭১৪৫২৮৬৭২।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad