Headlines News :
Home » » নষ্ট রাজনীতির বলি নিরীহ দেশবাসী

নষ্ট রাজনীতির বলি নিরীহ দেশবাসী

Written By zakigonj news on বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ | ১১:০৪ AM

॥ এম এ মালেক চৌধুরী ॥

এ দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ‘দিবস’ পালনে ৫ জানুয়ারী চলতি সাল থেকে যুক্ত হয়ে গেলো। এমনিতে এ দু’টি দলের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ৭ নভেম্বর, ১৭ নভেম্বর, ৩০ মে ইত্যাদি আরও কয়েকটি দিবস রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব দিবস আওয়ামীলীগ ও বিএনপি ভিন্ন তাৎপর্য, ভাবাদর্শ ও মতাদর্শ নিয়ে পালন করে থাকে। ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা দিবস হিসেবে আওয়ামীলীগ ও সমমনা দলগুলো পালন করে থাকে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সাল থেকে এ দিনটি তার জন্ম দিন হিসেবে তিনি এবং বিএনপি পালন করে আসছেন। ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতার হত্যা দিবস বিএনপি পালন করেনা। ৭ নভেম্বর জেনারেল জিয়ার ক্ষমতারোহন তথা জাতীয় সংহতি ও সিপাহী জনতার বিপ্লব দিবস হিসেবে বিএনপি পালন করে থাকে। অপরদিকে আওয়ামীলীগ এ দিনটিকে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবসরূপে গণ্য করে পালন করেনা। ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস হিসেবে আওয়ামীলীগ পালন করলেও বিএনপি পালন করেনা। ৩০মে জিয়াউর রহমানের হত্যা দিবস বিএনপি পালন করে, আওয়ামীলীগ পালন করেনা। আর সর্বশেষ ২০১৫ থেকে শুরু হলো ৫ জানুয়ারী পালন। এ দিবসকে আওয়ামীলীগ পালন করলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে এবং বিএনপি ও সমমনা দলগুলো পালন করেছে গণতন্ত্র হত্যা দিবস রূপে। বর্ণিত দিবসগুলোতে আওয়ামীলীগ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও মাজারে এবং বিএনপি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেনারেল জিয়ার কবরে। পাঠক, নিশ্চয়ই অবগত আছেন আমাদের প্রধান এ দু’টি শাসকদলের রাজনৈতিক দর্শন, ভাবাদর্শ মিল-গরমিলের ফ্যারাক আসমান-জমিনতুল্য।
রাজনীতির লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া তা সবাই বুঝেন এবং মানেন। পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর একই লক্ষ্য এবং সেসব দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার সমৃণ পালাবদল হয়ে থাকে। দূর্ভাগ্যজনক বিষয় যে বাংলাদেশে রাজনীতির লক্ষ্য যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় টিকে থাকা। এ জন্য শত শত মানুষ মেরে, পুড়িয়ে হত্যা করে, শত শত গাড়ী জ্বালিয়ে, শত শত দিন হরতাল করে, অবরোধ করে, হাজারো গাছ বিনষ্ট করে, দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে, কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে, ট্রেনযাত্রীদের উপর পেট্রোলবোমা ছুড়ে, রেললাইনের ফিশপ্লেট উঠিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে, চোরাগুপ্তা আক্রমণ করে পথযাত্রীদের মেরে, সর্বমহল ও দেশবাসীর মনে ভয়-ভীতি শংকা জাগিয়ে হলেও ক্ষমতা নামক সোনার হরিণ পেতেই হবে। অতীতেও এ রকম ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করে সরকারের আমলে বিরোধী দল চালিয়েছে। আর সরকারগুলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আন্দোলনকারীদের দমন করেছে, মামলা দিয়ে হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীকে জেলে ঢুকিয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কথা হলো, রাজনীতি তো দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়ে থাকে তবে মানুষ মারা হচ্ছে কেন? সে জিজ্ঞাসা কার কাছে করা যায়! মানুষ মরছে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হচ্ছে এর দায়ভার কোন পক্ষই নেয় না- না বিরোধী দল, না সরকার। উভয় পক্ষই পরস্পরকে দোষারূপ করে। রাজনৈতিক কারণে এত সস্তা মানুষ মারার রাজনীতি পৃথিবীর কোন দেশে আছে বলে মনে হয়না। বিরোধী দল বলে তাদের আন্দোলন গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য। আর সরকার বলছে জনগণের জানমাল রক্ষার্থে তারা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। যে কোন মূল্যে তারা তা রক্ষা করবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বিনষ্ট হতে দেবে না। পর্যবেক্ষক মহলের মতে সরকারের দমনপীড়ন আর বিরোধীদলের জ্বালাও পোড়াও কর্মকান্ডের মকসুদে মঞ্জিল হলো মসনদ ধরে রাখা এবং মসনদে যাওয়া এখানে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কোন সম্পৃক্ততা নেই। তা সত্বেও সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক আত্মঘাতি রাজনীতির বলীর শিকার। 
এ দেশের বিগত ৪৩ বছরের রাজনীতির ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন প্রথম সাড়ে তিন বছর মোটামুটি গণতান্ত্রিকভাবে চলেছে। যদিও তেয়াত্তরের নির্বাচনের দু’তিনটি আসনে বিজয়ী হবেন সম্ভাবনাময় প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছিলেন। পঁচাত্তর পরবর্তী থেকে রাজনীতির মোড় ঘুরে যায় এবং সামরিক আধাসামরিক শাসন চলে পুরো পনের বছর। ১৯৯০ তে জেনারেল এরশাদ শাসনের অবসানের পর প্রধান দু’টি দলের মধ্যে মোটামুটি ঐক্যমত্য দেখে দেশবাসী আশা করেছিল দেশের রাজনীতি স্থিতিশীল হবে, আর হরতাল অবরোধের রাজনীতি থাকবে না, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা মোতাবেক শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। অথচ হীতে বিপরীত হয়ে গেল। পর্যবেক্ষক মহলের হিসেব মতে নব্বই এর পূর্ব পর্যন্ত এ দেশে রাজনৈতিক হানাহানিতে যত প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে শতগুণ জানমালের ক্ষতি হয়েছে নব্বই উত্তর থেকে এ পর্যন্ত। বিএনপিওয়ালাগণ হয়তো নাখোশ হবেন তবে রুঢ় সত্য হলো চৌরানব্বইতে যাওয়া নির্বাচনে যে কারচুপি ও নাশকতার মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী কাজী সলিমুল হক কে আনা হয়েছিল তখন থেকেই দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পাঠকদের নিশ্চয়ই স্মরণে আছে যে মাওরায় তদানিন্তন শাসকদল বিএনপির কর্মীদের গোন্ডামী দেখে তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ রাতের অন্ধকারে পৈতৃক প্রাণ বাঁচানোর জন্য মাওয়া থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনিও বিএনপির টিকেটে প্রার্থী হয়ে নাজুকভাবে পরাজিত হোন। তিনিও মাঝে মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সাধুবেশে দেশবাসীকে নসিয়ত করে থাকেন এমন খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়ে থাকে। 
তো, বলছিলাম মাওয়ার বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং যে নাশকতাপূর্ণ দেশবিরোধী ও মানুষ মারার রাজনীতি আজও অব্যাহত রয়েছে। আজ যে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য মরিয়া হয়ে আন্দোলন করছে সেই ব্যবস্থা সংবিধানে প্রবর্তন করতে দেশের সাধারণ মানুষের অনেক রক্ত ঝরাতে হয়েছিল। আবার এ ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতে বিএনপিরই ব্যর্থ উদ্যোগই প্রধানত দায়ী বলে অনেকের অভিমত। ২০০১ সালে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে ক্ষমতায় টিকিয়ে থাকার জন্য তৎকালীন বিএনপি দলীয় রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজ উদ্দিনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান মনোনয়ন তথা দায়িত্ব প্রদানই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ছুরি চালানো হয়। তা সত্বেও বর্তমান শাসক দল আওয়ামীলীগ ড. ইয়াজ উদ্দিনের অধীনে নির্বাচনে গিয়েছিলো কিন্তু জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মনোনয়ন বাতিল করলে (তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আরেক বিচারপতি বিএনপির পোষ্য ভাঁড়তুল্য এম এ আজিজ সাহেব) জং বেঁধে যায়। শুরু হয় আওয়ামীলীগের লগি বৈঠার আন্দোলন। শুরু হয় তিন উদ্দিনের শাসন, পরের ইতিহাস সবার জানা।
অপরদিকে, যে আওয়ামীলীগ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করে তৎকালীন বিএনপি সরকারকে নতি স্বীকারে বাধ্য করে তারাই আবার সে ব্যবস্থাকে জীবন্ত কবর দেয় ২০১৩ সালে এই অজুহাত যে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ কেয়ারটেকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। তাই এ ব্যবস্থা আর বহাল রাখা যায় না। তখন থেকে বিএনপি চোখে সরিষা ফুল দেখে তাহলে আর ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হবে না। ঐ সময়ে শুরু হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং অভিযুক্ত জামায়াতী নেতাদের ধরপাকড়। এ বিচার ঠেকাতে জামায়াত নাশকতামূলক আন্দোলনে নামে এবং বিএনপি জামায়াতের আন্দোলনের সাথে শরীক হয় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবী নিয়ে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন ঠেকাতে ২০ দলীয় জোটের সহিংসতা এবং বর্তমানে চলমান সহিংসতা নাশকতার আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোন ফলাফল বয়ে আনে তা অননুমেয়। যেহেতু গত দু’দশকের আন্দোলনে বিএনপি বা আওয়ামীলীগ কোন সরকারই শতভাগ নত হয়নি। বিএনপি ১৫ ফেব্র“য়ারীর নির্বাচন যেমন করেছে তেমনি আওয়ামীলীগ ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন করেছে এবং তারা গদীতে বহাল ছিল।
বেগম খালেদা জিয়া চলমান এ সহিংস আন্দোলনে নামার আগে সাত দফা দাবী সরকারের কাছে পেশ করেছেন। এসব দফায় নতুন কোন চমক নেই, সেই পুরানো দাবী যা তিনি গত দু’বছর আগ থেকে করে আসছেন। তাঁর এ সাত দফার মূল দফা একটি তত্ত্বাবদায়ক ব্যবস্থার পুন:প্রবর্তন। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে এক হাজার একটিরও বেশি বিতর্ক আছে। এমনকি আওয়ামীলীগও জানে এটি ছিল একটি অভিনব অদ্ভূত নির্বাচন যা গণতন্ত্রের কোন নিয়মনীতি জায়েজ মনে করে না। তা সত্বেও সরকার হিল্লা-সরাই করে সুবিধাজনক পজিশনে আছে। শুধুমাত্র একটি দেশ ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশ ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকে সঠিক মনে করছে না। তবে গত এক বছরে সরকার জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ও দাতাগোষ্ঠীর সহানুভূতি লাভ করে সরকার তার নাজুক অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে। অপরদিকে ২০১৪’র বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন এবং চলমান আন্দোলনের সামর্থ্য দেখে নিয়ে তার অবস্থানে অনঢ় রয়েছে। যেহেতু কোন আন্দোলনেই বিএনপি গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। তবে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে সভা মিছিল করতে না দেওয়া সরকারের বাড়াবাড়ি বলে অনেকে মনে করেন। 
চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে জনগণ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি রাজনৈতিক পার্টির নেতৃবৃন্দ আওয়ামীলীগ থেকে বিতাড়িত বা তালাকপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ বিএনপি ঘেষা সুশীল সমাজ, দল নিরপেক্ষ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবিদের পক্ষ থেকে দুটি দলের মধ্যে সংলাপের তাগীদ দিয়ে আসছেন বারবার কিন্তু অতীত ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় সংলাপ হলেও সংলাপ কোন সুফল প্রসব করবে এমন আশা একেবারে ক্ষীণ। অস্ট্রেলিয়ার স্যার নেনিয়ানের মধ্যস্থতায় আব্দুল জলিল-মান্নান ভূঁইয়া সংলাপ, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারীর উপস্থিতিতে সৈয়দ আশরাফ-মির্জা ফখরুল সংলাপ শুধু সময় ক্ষেপন করেছে, চা পান ও নাশতা তাশতায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হলে এবং উভয় পক্ষ ‘ছাড়’ দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সংলাপে বসলে কিছু আশার আলো সম্ভবত: দেখা যাবে বগদার শেষ প্রান্তে। তবে এ নিবন্ধের ভূমিকায় বলেছি দুটি ভিন্ন আদর্শ, দর্শন মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা হওয়া অনেকটা অসম্ভব এবং তা আরও অসম্ভব করে জটিল সংকটে নিয়ে গেছে লন্ডনে বসে তারেক রহমানের বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য।
লেখক ঃ সভাপতি-জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব, মোবাঃ ০১৭১৬-৯০১৪৭৬।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad