Headlines News :
Home » » হত্যাকান্ডের ভয়ংকর বর্ণনা দিল আটক রাসেল ও বুতই ॥ ৩০ হাজার টাকার জন্য খুন করা হয় ভূলন মিয়াকে!

হত্যাকান্ডের ভয়ংকর বর্ণনা দিল আটক রাসেল ও বুতই ॥ ৩০ হাজার টাকার জন্য খুন করা হয় ভূলন মিয়াকে!

Written By zakigonj news on বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৫ | ৭:০১ PM

স্টাফ রিপোর্টার
জকিগঞ্জের রতনগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী তেরাদিঘী থেকে উদ্ধারকৃত নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার ভূলন মিয়া হত্যার বিষয়ে ভয়ংকর বর্ণনা দিল আটক রাসেল ও বুতই। আটককৃতরা নানা নাঠকীয়তা শেষে জকিগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেনের নিকট জবানবন্দি প্রদান করে। আটক রাসেল ও বুতই জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাতে ফুলতলী ছাহেব বাড়িতে আয়োজিত ঈসালে সাওয়াব মাহফিলের কথা বলে ভূলন মিয়াকে সিলেট থেকে নিয়ে আসা হয়। তখন ভূলন মিয়ার নিকট নগদ ৩০ হাজার টাকার মতো ছিল। রাত ১১টার পর ঘাতকরা কৌশলে ভূলন মিয়াকে পার্শ্ববর্তী তেরাদিঘীতে নিয়ে আসে। রাতের আধারে নির্জন হাওরে এনে প্রথমে রাসেল পিছন থেকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ভূলন মিয়া মাটিতে পড়ে যান। তাৎক্ষণিক ঘাতকদের একজন পায়ে, অপরজন কোমরে শক্ত করে ধরে। আটক বুতই মাথায় শক্ত করে ধরলে ভূলন মিয়া আর মাটি থেকে উঠতে পারেননি। এ সময় এক সহযোগি গলা জবাই করে ভূলন মিয়ার নিকট থাকা টাকাগুলো নিয়ে য্না। পরে এ টাকা থেকে আটক হাবিবুর রহমান বুতইকে দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা ও রাসেল আহমদকে দেওয়া হয় ৩ হাজার টাকা। তবে টাকা কম দেওয়ায় রাসেল টাকাগুলো নেয়নি। আটক রাসেল ও বুতই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তারা দুই জন ছাড়া আর কারও নাম বলতে রাজী হয়নি। তারা বলেন, সহযোগিদের নাম বললে আমাদের পরিবারের লোকদের খুন করা হবে। আটককৃতদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তাদের একটি বড় চক্র রয়েছে। এরা সিলেট নগরীসহ সিলেটের সব ক’টি উপজেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন থেকে এ চক্র নানা অপরাধ করে আসলেও কেউ তাদের ধরতে পারেনি। তাদের চক্রের অনেক সদস্য পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। গত ২৩ জানুয়ারী শুক্রবার গভীর রাতে সিলেট নগরীর উপশহর এইচ ব্লকের একটি কলোনী থেকে জকিগঞ্জের কাজলসার গ্রামের মৃত হারিছ আলী উরফে ডালই ড্রাইভারের ছেলে রাসেলকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর রাসেল নিজেকে ভূলন মিয়ার হত্যাকারী বলে পুলিশকে জানায়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন শনিবার পুলিশ রাসেলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হত্যারকান্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরা ও রড কোথা থেকে নিয়েছে এবং কোথায় ফেলেছে তা পুলিশকে দেখায়। এ সময় রাসেল নিজেকে একমাত্র খুনি হিসেবে উল্লেখ করলেও জকিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নিকট অপর আসামী একই গ্রামের মুদরিছ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান বুতই’র কথা জানায়। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে শনিবার রাতেই পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে বুতইকে আটক করে। স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে আটক রাসেলকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে এলাকাবাসীর সাথে ‘বুতই’ সেখানে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিল। এদিকে গত ২৫ জানুয়ারী রোববার জকিগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আটক রাসেল আহমদ ও হাবিবুর রহমান বুতইয়ের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সোমবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব মন্ডল পৃথক পৃথক ভাবে আটক রাসেল ও বুতই’র নিকট থেকে হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বর্ণনা রেকর্ড করে রাখেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৬ জানুয়ারী শুক্রবার বেলা ১টায় জকিগঞ্জের রতনগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী তেরাদিঘী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে জকিগঞ্জ সংবাদের ফেসবুকে ছবি দেখে লাশটি সনাক্ত করেন নিহতের ছোট ভাই কেলন মিয়া। নিহত ব্যক্তি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠা মইন উপজেলার চারিগ্রামের মীর হোসেনের পুত্র ভূলন মিয়া (৪৭)। তিনি সিলেট নগরীর উপশহরে থেকে লেপ তোষক তৈরীর কাজ করতেন।  
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad