Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ থেকে কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘লাটিম খেলা’

জকিগঞ্জ থেকে কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘লাটিম খেলা’

Written By zakigonj news on শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৫ | ৭:২১ PM


জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা

জকিগঞ্জে কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘লাটিম খেলা’। জকিগঞ্জ উপজেলার কোন গ্রামেই এ খেলাটি এখন আর দেখা যায় না। ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে জনপ্রিয় এ খেলা। এখনকার অনেক তরুণ জানেনা লাটিম খেলা কি বা কিভাবে খেলা হতো। শহরের পাশাপাশি আজকের দিনে গ্রামের তরুণদের ল্যাপটপ, কম্পিউটারের গেইমস্ নিয়ে ছুটছুটির পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা নিয়ে বেশী ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। অথচ আগে জকিগঞ্জের প্রতিটি গ্রামের স্কুলের মাঠে ও বাড়ির উঠানে প্রতিনিয়ত লাটিম খেলা দেখা যেত। শিশু কিশোররা সহপাঠিদের নিয়ে জড়ো হয়ে এ খেলায় মেতে উঠতো। অনেক সময় বড়দেরকে দেখা যেত দর্শক হিসেবে। তখনকার সময়ে ছোট ও মাঝারি বয়সের বালকদের পছন্দ ছিল লাটিম খেলা। লাটিম খেলার একটি আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা ছিল লাটিম ফাটানো। অর্থাৎ খেলার মাধ্যমে কার লাটিম ফাটতে পারে। আজ এই সব কথা নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস কিংবা রূপকথার গল্পের মতো! এখন বদলে গেছে অনেক কিছুই। আর এই পাল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে পাড়া-মহল্লার পরিবেশও। গ্রামে খেলাধুলায় এখন হয়ে পড়ছে সবকিছু ডিজিটাল। ফলে শিশু-কিশোরদের পুরনো খেলা (লাড্ডু) বা লাটিম খুব একটা চোখে পড়ে না। গ্রামগঞ্জের দোকান গুলোতে এখন তেমন একটা (লাড্ডু) বা লাটিম পাওয়া যায় না। এক সময় দোকানগুলোতে ঘোলা কাঁচের শো‘কেসের ভেতর সাজানো থাকত লাল-নীল, লাল-সবুজ, লাল-বেগুনী এরকম বাহারী রঙের লাটিম। দেখতে যেমন দামেও তেমন! আগে সুতার মিস্ত্রিরাই গ্রামের কিশোরদেরকে লাটিম বানিয়ে দিতো। তারা সাধারণত পেয়ারা ও গাব গাছের ডাল দিয়ে এই লাটিম তৈরি করতো। নির্বাচিত পাট থেকে লাটিমের জন্য লতি বা ফিতা বানানো হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তুলাজাতীয় নরম কাঠ দিয়ে লাটিম এবং গেঞ্জির কাপড় দিয়ে লাটিমের ফিতা বানানো হয়। সাধারণত (লাড্ডু) বা লাটিম খেলা দুই ধরনের হয়ে থাকে।
বেল্লাপার : বেল্লাপারে একটি দাগ কেটে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় নির্ধারণী খেলায় যে লাটিম পরাজিত হয় তাকে ঘর থেকে নিজেদের লাটিম দিয়ে আঘাত করে করে প্রতিযোগীরা সীমানা পার করে দেয়। ঘুর্ণায়মান লাটিম হাতে নিয়েও প্রতিযোগী লাটিমকে আঘাত করা যায়। মাটিতে রাখা লাটিমকে আঘাত করতে ব্যর্থ হলে ঐ লাটিমের স্থানে ব্যর্থ লাটিমকে রাখা হয় এবং তাকে বেল্লা পার করা হয়। শর্ত অনুযায়ী সীমানা পার করা লাটিমকে নিজের লাটিম বা দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়।
ঘরকোপ : লাটিমের ফিতা ও লাটিম দিয়ে একটি বৃত্ত আঁকার পর বৃত্তের ভিতর বন্দী লাটিমগুলোকে রাখা হয়। বৃত্তের ভিতরের লাটিমগুলিকে বাইরের মুক্ত প্রতিযোগীদের লাটিম দিয়ে আঘাত বা কোপ মেরে ক্ষত করাই এই লাটিম খেলার উদ্দেশ্য।
বর্তমান ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তার নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি। মাত্র এক যুগ পূর্বেও এ খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। গ্রামের স্কুলের মাঠে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করে পুরস্কার দেওয়া হত। বর্তমানে যেন তা নেই বললে চলে। অথচ গ্রামীণ খেলাধুলা ধরে রাখার জন্য সরকারী অথবা বেসরকারী পর্যায়ে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad