Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জের পাত্রকে বিয়ে না করায় আমেরিকান সিটিজেন কন্যা মুন্নী অপহরণ চেষ্টা : এলাকায় চাঞ্চল্য

জকিগঞ্জের পাত্রকে বিয়ে না করায় আমেরিকান সিটিজেন কন্যা মুন্নী অপহরণ চেষ্টা : এলাকায় চাঞ্চল্য

Written By zakigonj news on বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৫ | ১২:১২ AM

স্টাফ রিপোর্টার
জকিগঞ্জের পাত্রকে বিয়ে না করায় আমেরিকান সিটিজেন কন্যা আফরোজা আক্তার মুন্নীকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক অপহরণের চেষ্ঠা করেন তার পিতৃপরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ জানুয়ারী রোববার বিয়ানীবাজার উপজেলার আঙ্গাজুর গ্রামে। এনিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়েছে। জানা যায়, আমেরিকান সিটিজেন কন্যা আফরোজা আক্তার মুন্নী (২৬) ভালবেসে বিয়ানীবাজার উপজেলার আঙ্গাজুর গ্রামের  আজির উদ্দিনের পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুহেল আহমদকে বিয়ে করেন। সুহেলের  সাথে বিয়ে মেনে নিতে পারেনি মুন্নীর পিতৃপরিবার। তারা মুন্নীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা রফাদফায় জকিগঞ্জের এক পাত্রের সাথে বিয়ে ঠিক করে নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মুন্নী তার স্বামী সুহেলকে জানালে সুহেল তার পরিবার পরিজন নিয়ে দেশে আসেন। মুন্নী তার স্বামী সুহেলের বাড়ি চলে গেলে পিতা-মাতার বিয়ের আয়োজন পন্ড হয়ে যায়। এ ঘটনার পর মুন্নীর পিতৃপরিবার মুন্নীকে তাদের কব্জায় আনতে নানা অপ-তৎপরতা শুরু করলে মুন্নী বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এ দিকে সাবালক মুন্নীকে আইনের দৃষ্টিতে কব্জায় আনতে না পেরে তার পিতৃপরিবার মুন্নী ও তার স্বামী পরিবারকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা গাজি মিজানকে হাত করে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিলেট জেলা ডিবির সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজান তাকে অপহরণ করে পিতৃ-পরিবারের হাতে দেয়ার দায়িত্ব নেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ডিবি পুলিশের এসআই গাজী মিজান মুখোশপরা এক যুবক ও এক মহিলা নিয়ে গাড়িসহ মুন্নীর স্বামীর বাড়িতে হানা দেন। রাস্তায় আরো দুটি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষমাণ ছিল একটি অপহরক চক্র। এসআই গাজি মিজানসহ বাড়িতে প্রবেশকারীরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কোর্টে মামলা আছে জানিয়ে মুন্নী, তার শ্বশুর আজির উদ্দিন ও ননদ লাবনীকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের দিকে রওয়ানা হয়। ইতোমধ্যে বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস, বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বত্র চাউর হয়ে যায় । খবর পৌঁছে যায় জেলা পুলিশ সুপার, থানা পুলিশ ও মিডিয়াকর্মীদের কাছে। ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর গাজী মিজানের এ কাজ বে-আইনি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপার তাদেরকে বাড়িতে ফেরত দিতে সাব-ইন্সপেক্টর গাজি মিজানকে কড়া নির্দেশ দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে গাজি মিজান তাদেরকে বাড়ি না পৌছিয়ে সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের শেওলা ব্রিজের কাছে ফেলে রেখে দ্রুত গাড়ি নিয়ে চম্পট দেন। এ সময় পিছন থেকে অপহরক চক্রের আরো দুটি গাড়ি মুন্নীদের ধাওয়া করলে মুন্নী তার শ্বশুর ও ননদ নিয়ে অপর একটি গাড়িতে করে গোলাপগঞ্জ থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। বেলা ২টায় গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী একদল পুলিশ দিয়ে মুন্নীদের বিয়ানীবাজার থানা পুলিশে পৌঁছান। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ জুবের আহমদ মুন্নীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বক্তব্য নেন। এ সময় মুন্নী বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ তাদেরকে নিরাপদে বাড়ি পৌছিয়ে দেয়। থানা কম্পাউন্ডে থেকে আমেরিকান সিটিজেন কন্যা মুন্নী যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুহেলকে ভালবেসে বিয়ে ও ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক পিতৃ-পরিবারের বিয়ে দেয়ার চেষ্টার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ডিবির সাব ইন্সপেক্টর মিজানের সাহায্যে রোববার তাদের অপহরণ করে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। বিয়ানীবাজার থানার ওসি জুবের আহমদ বলেন, আমার এলাকায় কোন অফিসার প্রবেশ করতে হলে আমার সাথে যোগাযোগ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমার সাথে যোগাযোগ না করে প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবগত হয়ে পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করি। তাঁর নির্দেশে ডিবি পুলিশ শেওলা ব্রিজের কাছে তাদের ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা গোলাপগঞ্জ থানায় আশ্রয় নিয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি আমার সাথে যোগাযোগ করলে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদেরকে বিয়ানীবাজার নিয়ে আসা হয় এবং তাদের বাড়ীতে পৌঁছে দেয়া হয়। ওসি জানান, এ বিষয়ে আফরোজা আক্তার মুন্নী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডিবি পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর গাজী মিজান মুন্নীদের তুলে আনার কথা অকপটে স্বীকার করে জানান, আদালতের একটি আদেশ বলে তাদেরকে আদালতে হাজির করার জন্য তিনি পুলিশ নিয়ে গিয়েছিলেন । পরবর্তীতে উপর মহলের নির্দেশে তাদের রেখে আসেন। তবে কোন আদালত থেকে তাদের নিয়ে আসার জন্য তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। সিলেট জেলা ডিবি পুলিশ কর্মকর্তার এহেন অপহরণ সহায়তার ঘটনায় পুলিশসহ পুরো জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad