Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু হচ্ছে

জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু হচ্ছে

Written By zakigonj news on শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ | ৭:২৯ PM

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন
জকিগঞ্জ সীমান্তের জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর উপর ভারত একটি সেতু তৈরীর প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট শেখ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ভারতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্র“পের নবম সভায় সম্প্রতি বিষয়টি আলোচিত হয়। ঐ সভায় দুই দেশের যে ২৫টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তার মধ্যে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণের বিষয়টি নয় নম্বর আলোচ্যসূচিতে অর্ন্তভুক্ত ছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় ভারতের রেভিনিউ সেক্রেটারী সুমিত বোস, ল্যান্ডপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান ওয়াই এস সারায়াত, এফটিএনটিআর-২ (সিবিডিটি) এর যুগ্মসচিব কে রামালিন গাম বাংলাদেশের কাষ্টমস (পরিকল্পনা) এর সদস্য ফরিদ উদ্দিনসহ কাষ্টম্স এর কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ সেতুটি নির্মিত হলে দুই দেশের দীর্ঘ দিনের স্বপ্নই শুধু পূরণ হবে না পূর্নাঙ্গতা পাবে সাতষষ্ট্রি বছরের পুরনো শুল্ক স্টেশনটি। এখানে নির্মিত হবে অফিস ভবন, সীমানা প্রচীর, পণ্যাগার, পেসেঞ্জার লাউঞ্জ, ব্যারাক, পানি সরবরাহ, পয়নিস্কাসন, পার্কিং ইয়ার্ড, মালামাল উঠানামানোর সিঁড়ি ইত্যাদি। বাড়বে আমদানী রপ্তানী। বাঁচবে সময় কমবে খরচ। সবচেয়ে বড় কথা করিমগঞ্জ জকিগঞ্জের পুরনো সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি দুই শহরের বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাড়বে। তৈরী হবে নতুন কর্মসংস্থান। শেখ আব্দুর রহমান জানান, সেতু বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ গত সেপ্টেম্বরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। প্রায় দুই দশক আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য বেনু পুরকায়স্থ জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করেছিলেন বলে জানা যায়। বর্তমানে এ সুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন যাত্রী ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মনিপুরসহ বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত করে। আমদানী নির্ভর এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০টি ট্রাক করে কমলা, আদা, সাতকরা, শুটকি, পান, কয়লা, সুটকি, যন্ত্রাংশ, আঙ্গুর, আপেলসহ বিভিন্ন ফলমুল আমদানী এবং বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিমাণে মশারীর কাপড় ও সাবান ইত্যাদি রফতানী হয়। সরজমিন পরির্দশনে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ছোট পরিসরে অস্থায়ীভাবে ৫টি পাকা ঘর নির্মান করে সুল্ক স্টেশনটির কার্যক্রম চালু হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে সংস্কার বিহীন জরাজীর্ণ আধাপাকা ঘরগুলোতে কর্মকর্তা কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখানে নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, দরজা জানালা ভাঙ্গা, ফেঁটে গেছে দেয়াল, খসে পড়ছে দেয়ালের আস্তর, চালের টিনে ছিদ্র। রাস্তা থেকে ভিটা নীচু থাকায় বৃষ্টির পানি সহজেই ঢুকে পড়ে অফিসে। আসবাবপত্রের অপ্রতুলতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আটককৃত মালামাল বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। সুল্ক স্টেশনে বসার স্থান না থাকায় দেশী-বিদেশী অতিথি, কর্মকর্তা কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘরে কর্মকর্তা কর্মচারীরা বসবাসও করছেন। গত ঘুর্ণিঝড়ে কর্মকর্তাদের আবাসন ও সুল্ক অফিস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যাত্রীদের বসার স্থান, পানি পান এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্টেশনটি রয়েছে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০০৬ সালে ফেরত গেছে ভবন নির্মানের জন্য বরাদ্ধকৃত সাড়ে চার কোটি টাকা। কাস্টম্স সূত্র জানায়, সুল্ক স্টেশনের জমি সংক্রান্ত জটিলতা ইতিমধ্যে নিরসন হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এ স্টেশন পরিদর্শন করেছেন গণপূর্ত বিভাগের লোকজন। একই অবস্থা জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন অফিসেরও। টিনের ছাউনী ও বেড়া দিয়ে নির্মিত একচালা ঘর দিয়ে চলছে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম। শরনার্থী শিবিরকেই ইমিগ্রেশন অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকেই। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের ক্ষোভ থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। জকিগঞ্জ আমদানী রফতানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, পণ্য রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমদানীকারকরা এ স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে অনেক পণ্য আমদানী করতে পারেন না লোকসানের আশংকায়। এখানে সেতু নির্মিত হলে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্থলবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে যা আমাদের প্রাণের দাবী।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad