Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ মুক্ত দিবসের কিছু স্মৃতি

জকিগঞ্জ মুক্ত দিবসের কিছু স্মৃতি

Written By zakigonj news on বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৪ | ৪:১৯ PM

॥ এড. মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান চৌধুরী ॥

প্রায় নিরবে-নিঃশব্দে গত ২১শে নভেম্বর মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল জকিগঞ্জ মুক্ত দিবস চলে গেল। আমার মানসপটে জকিগঞ্জের মুক্ত হওয়ার মধুর স্মৃতি ভেসে উঠল এবং আমিও যে সে সোনালী স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলাম তা ভেবে মনে মনে গর্বিত হলাম। সময়টা ছিল পবিত্র রমজান মাসের ঈদের রাত। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল জকিগঞ্জে প্রাণ ভরে মুক্তির ও ঈদের আনন্দ উপভোগ করি। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের শিলিগুড়ির সন্নিকটে ভারতীয় সেনানিবাসে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনই বাংলাদেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এ পরিকল্পনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক পরিচালক বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমদ। এ অধিবেশনেই স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠনেরও অনুমোদন নেয়া হয়। সামরিক দিকের বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করেন প্রধান সেনাপতি কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানী এম.এন.এ। তিনি বাংলাদেশকে ১০টি সেক্টরে বিভক্ত করে যুদ্ধের পরিচালনা ও পরিকল্পনা পেশ করেন এবং চুড়ান্তক্ষণে চর্তুর্দিক হতে একযোগে সাঁড়াশী আক্রমণেরও পরিকল্পনা দেন এবং মধ্যবর্তী সময়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে দখলদার পাকি বাহিনীকে দুর্বল করার কৌশলের কথাও বলেন এবং সে অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আসা যুবকদের সংগ্রহ করে স্বল্প সময়ে সামরিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও পেশ করা হয়। অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতিকে জোরদার করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বেসামরিক কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য দেশকে আরো কয়েকটি বেসামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সিলেটকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বেসামরিক কাউন্সিলের অন্তর্ভূক্ত করে সিলেটের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজীকে সে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেট জেলাকে চার ও পাঁচ নম্বর সেক্টর তথা ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা নিকটস্থ খোয়াই সীমানার কাছ থেকে ভারতের করিমগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত তথা আমাদের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেট সদরের সীমান্ত এলাকা ভারতের মেঘালয়ের তামাবিল থেকে সুনামগঞ্জ সীমান্তের ভারতীয় এলাকা বালাট হয়ে গারো পাহাড়ের তুরার সীমানা পর্যন্ত তথা সারা সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা পাঁচ নং সেক্টরের অন্তর্গত করা হয়। বর্ণিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সিলেট থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে আওয়ামীলীগ নেতা হিসাবে মরহুম সিরাজুদ্দিন আহমদ এবং আমি যোগ দেওয়ার সুযোগ পাই। উক্ত অধিবেশনেই মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ওসমানী বালাগঞ্জ থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এডভোকেট লুৎফুর রহমান এবং আমাকে ৪নং সেক্টরে বাংলাদেশ থেকে আগত যুবকদেরকে রিক্রুট/সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রেরণ করার দায়িত্ব দেয়া হয় এবং আসছে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই মাতৃভূমি বাংলাদেশকে পাকি হানাদারদের দখলমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান সেনাপতি ওসমানীর এ টার্গেট ঘোষণা অনুমোদনের ফলে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশীসহ কোটি কোটি বাঙালি জনগণের মধ্যে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার হয় এবং বাংলার জনগণও অবর্ণ্নীয় দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে পাকি হানাদারদের কাছ থেকে মাতৃভূমি মুক্ত করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। করিমগঞ্জে ফিরে এসেই আমরা আওয়ামীলীগ নেতা এবং সিলেটের জাতীয় সংসদের সদস্য এবং উত্তর-পূর্ব বেসামরিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে আসা যুবকদের প্রাথমিক থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণের জন্যে করিমগঞ্জের প্রশাসনের সহায়তায় টাউন হলে ও সংলগ্ন ময়দানে একটি যুব ক্যাম্প এবং করিমগঞ্জের শহরতলী সোনাক্ষিরা শরণার্থী শিবিরের কাছে আরেকটি বড় ক্যাম্প স্থাপন করে করিমগঞ্জের ক্যাম্পের দায়িত্ব দেয়া হয় জকিগঞ্জের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জননেতা মরহুম আব্দুল লতিফকে এবং তার ডেপুটি করা হয় আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফ আলীকে এবং আওয়ামীলীগের প্রয়াত নেতা মরহুম ইসহাক মিয়া, আর্শদ আলী প্রমুখদেরকে ক্যাম্প পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল মোমেনকে প্রধান করে এবং বিশ্বনাথের আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম তজম্মুল আলী মাস্টার এবং মাস্টার আফসর মিয়া এবং বিয়ানীবাজারের সুবেদার আব্দুল মালিকসহ অন্যান্যদেরকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। অন্যদিকে চার নং সেক্টরে সংগৃহীত বাংলাদেশী যুবকদেরকে সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় ভারতের কাছাড় জেলায় অবস্থিত ভারতীয় সেনানিবাস মাছিমপুরের কাছেই লোহারবন্দ নামক পাহাড় ঘেরা স্থানে। আমরা বাংলাদেশ থেকে আসা যুবকদেরকে সংগ্রহ করে প্রাথমিক ক্যাম্পে কয়েকদিন রেখে প্রাথমিক শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং দেশ মুক্ত করার উদ্দীপনামূলক বক্তৃতা দিয়ে দেশ মুক্ত করার জন্য উদ্দিপ্ত করতাম এবং সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরবর্তীতে সামরিক যানে মাছিমপুর হয়ে লোহারবন্দে প্রকৃত সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করার ব্যবস্থা করতাম। যুবকদের ট্রেনিং শেষ হলে ভারতীয় সেনানিবাস মাছিমপুরস্থ আমাদের সেক্টর হেড কোয়ার্টারের প্রধান মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদেরকে চাহিদানুযায়ী সীমান্তের বিভিন্ন সাব-সেক্টরে যুদ্ধের জন্য প্রেরণ করতেন। ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাগণ বিভিন্ন সেক্টরে প্রত্যক্ষভাবে এবং দেশের অভ্যন্তরে ঢুকেও বিভিন্নভাবে গেরিলা কায়দায় অপারেশন পরিচালনা করে পাকি হানাদারদেরকে ব্যতিব্যস্ত ও ভীতসন্ত্রস্ত রাখতেন। ঐ বছরের অক্টোবর মাসে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ আসে। প্রধান সেনাপতি কর্ণেল ওসমানী ভারতের বিহার রাজ্যের চকোরিয়া নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং ক্যাম্পে আওয়ামীলীগ এবং ভারতে আসা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যান্য রাজনীতিক দলের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের জন্য পাঁচ সপ্তাহের সি-ইন-সি নামক একটি বিশেষ সামরিক ও গেরিলা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে ভারতে অবস্থানরত সকল রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধিদেরকে তথায় গিয়ে ট্রেনিং গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। উক্ত প্রশিক্ষণের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের পর পরই স্বাধীনতা বিরোধীদের দমনের ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব প্রদান করে দেশের সর্বত্র শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করার সাথে সাথে নিজ নিজ আত্মরক্ষারও ব্যবস্থা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করা। সেক্টর কমান্ডার মেজর সি.আর দত্তের মাধ্যমে প্রধান সেনাপতি ওসমানীর নির্দেশ পেয়ে অনেক কষ্ট করে আমি প্রয়াত জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এনাম আহমদ চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সরকারী আইন কৌশলী এডভোকেট আব্দুল মুকীত চৌধুরী, গোলাপগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতা সাদেক আহমদ চৌধুরী এবং বিশ্বনাথ আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমানে বিলাত প্রবাসী আব্দুর রহিমকে নিয়ে ট্রেনে করিমগঞ্জ থেকে কলকাতাস্থ আট নং থিয়েটার রোডে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের হেড কোয়ার্টারে প্রধান সেনাপতি ওসমানীর কাছে রিপোর্ট করলে তিনি সাথে সাথেই নিজস্ব বাহন দিয়ে আমাদেরকে কলকাতার বরাকপুর সেনানিবাসস্থ মুক্তিযুদ্ধের লিয়াজো অফিসে প্রেরণ করেন। তথা হতে ঐ রাত্রেই আমরা ট্রেনে বিহারের চকোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি এবং প্রায় মধ্যরাতেই চকোরিয়া রেল স্টেশনে পৌঁছে তথা থেকে সামরিক যানবাহনে চকোরিয়াস্থ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন সময়ে তৈরি এবং বর্তমানে পরিত্যক্ত একটি বিমান ঘাঁটিতে তৈরি করা ট্রেনিং ক্যাম্পে পৌঁছি। উল্লেখ্য একমাত্র আমরাই ঐ ক্যাম্পে পৌঁছা শেষ ট্রেনিং গ্রহণকারীদের দল। এ ট্রেনিং ক্যাম্পের অধিনায়ক ছিলেন এক ভারতীয় বাঙালি সামরিক অফিসার নাম ছিল কর্ণেল দাস এবং আমাদের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষক ছিলেন তামিল নিবাসী এক দক্ষ প্রশিক্ষক নাম ছিল লেঃ পানিকাওর এবং অন্যান্য জুনিয়র সেনাসদস্যরা। আমাদের সাথে ক্যাম্পে ছিলেন ময়মনসিংহের জনপ্রতিনিধি এডভোকেট মনসুর আহমদ এবং আবুল হোসেন। আমাদের দলনেতা ছিলেন কুষ্টিয়া যুবনেতা রতন মিয়া। চকোরিয়া থেকে ট্রেনিং শেষ করে আমরা ভারতের পশ্চিম বঙ্গে নদীয়া শহরে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে দিন কয়েক বিশ্রাম নিয়ে কলকাতা হয়ে ঐ বছরের নভেম্বর মাসের মধ্য দিকে করিমগঞ্জে এসে আমাদের চার নং সেক্টরের কমান্ডার সি.আর দত্তের কাছে রিপোর্ট করলে তিনি আসন্ন জকিগঞ্জ মুক্ত করার অপারেশনে অংশ নেয়ার জন্য তৈরি থাকতে আমাদেরকে নির্দেশ দেন। জকিগঞ্জের শহরকে প্রথম মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয় ভারতীয় সেনানিবাস মাছিমপুরে আমাদের বিগ্রেড কমান্ডার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত এবং বেসামরিক প্রশাসনিক কাউন্সিলের দায়িত্বে থাকা আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ ভারতের সেনা কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে। জকিগঞ্জের শহরের অবস্থান ছিল করিমগঞ্জ শহরের বিপরীতে কুশিয়ারা নদীর অপর পারে। পাকি হানাদার বাহিনীর সম্ভবত ধারণা ছিল মুক্তিবাহিনী করিমগঞ্জ শহরের নিরাপত্তার জন্য কখনও জকিগঞ্জ শহর আক্রমণ করবে না। এ জন্যও কুশিয়ারা নদীর পার বরাবরে কিছু বাংকার ছাড়া পাকি হানাদারদের এ এলাকায় কোন শক্ত অবস্থান ছিল না। জকিগঞ্জ এলাকা তিন দিকে ভারতীয় সীমান্ত থাকায় মুক্তিবাহিনী অন্যান্য দিকে থেকে গোলাগুলি করে পাকি দখলদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে পাকি হানাদার বাহিনীর মনোযোগ অন্য দিকে নিয়ে যায় এবং ঐ রাত ঈদের রাত থাকায় কুশিয়ারা নদীর কূলে ব্যাংকারে থাকা পাকি হানাদারগণ সম্ভবত কিছু রিলাক্স মুডেও ছিল। গভীর রাতে নৌকা যোগে বাঙালি ও ভারতীয় বাহিনীর কমান্ডো সৈন্যরা জকিগঞ্জ শহরে ঢুকে ত্বরিত গতিতে পাকি হানাদার বাহিনীর অবস্থানে আক্রমণ করার সাথে সাথে দখলদার বাহিনী সিলেটের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। অন্যদিকে করিমগঞ্জ হতে দ্রুত গোলাগুলির মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডারদেরকে কভার/সাহায্য দেয়া হতে থাকে। ফলে পাকি দখলদার বাহিনী সিলেটের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আমরা মুক্তিযোদ্ধাগণও জকিগঞ্জে ঢুকে পড়ি এবং দখলদার পাকি বাহিনী ও তাদের দোসরদেরকে নিরস্ত্র করার কাজে নিয়োজিত হই। এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন প্রয়াত সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এনাম আহমদ চৌধুরী এবং তার সাথে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রনেতা মাসুক উদ্দিনসহ জকিগঞ্জের অন্যান্য এলাকার মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। আমরা বিভিন্ন ব্যাংকার থেকে দখলদারদের ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করি এবং দখলদার বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন বাংকারে নারী নির্যাতনের চিহ্ন পাই। জকিগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর পরই মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে মুহুর্মুহু জয়বাংলা ধ্বনির মাধ্যমে আওয়ামীলীগ নেতা ইসমত আহমদ চৌধুরী, প্রয়াত ন্যাপ নেতা আব্দুল মুয়িদ চৌধুরী উরফে মুঈদ মিয়া এবং প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা বাবু হীরকজ্যোতি কর উরফে খোকন বাবুর উপস্থিতিতে ইসমত আহমদ চৌধুরীই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের ম্যাপ সম্বলিত লাল-সাদা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। কিছুক্ষণ পরেই আমাদের বেসামরিক প্রশাসনিক নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে আমরা জকিগঞ্জের পরিত্যক্ত কাস্টম অফিসে সদ্যমুক্ত জকিগঞ্জের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জের জনপ্রতিনিধি আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত জননেতা এডভোকেট আব্দুর রহিম এবং জকিগঞ্জের জনপ্রতিনিধি প্রয়াত জননেতা আব্দুল লতিফকে দেয়া হয় এবং আমাকে গ্রেফতারকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত জকিগঞ্জের কোথাও গ্রেফতারকৃতদেরকে আটক রাখার ব্যবস্থা না থাকায় জকিগঞ্জের এডভোকেট আব্দুস সবুরের জিম্মায় পরবর্তীতে হাজির করার শর্তে জামিন দেই। বালাগঞ্জের জনপ্রতিনিধি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সিলেটের আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট শাহ মোদাব্বির আলীসহ অনেক আওয়ামীলীগ ও স্বাধীনতা পক্ষের অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এভাবেই আমরা কয়েক দিন-রাত পরিশ্রম করে জকিগঞ্জের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হই। এখন মনে হয় সবাই এক থাকলে এবং লক্ষ্য স্থির থাকলে অনেক বাধা বিপত্তির মধ্যেও কি-না করা যায়? জকিগঞ্জ মুক্ত হওয়ার কয়েক দিন পরেই আমরা বিয়ানীবাজার মুক্ত করার জন্য সেদিকে চলে যাই এবং পরবর্তীতে সিলেট শহরে প্রবেশ করি। জাতি আজ বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করার জন্য সবাই একসাথে কাজ করলে মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যের মতোই আজ আমরা দেশের দারিদ্র্য, বেকার সমস্যা দূর করে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারতাম। তাই আসুন সেই ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বর্তমান ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের আলোকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বশাসিত, বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করার শপথ নেই।
লেখক ঃ মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad