Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ থেকে আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ-বেত, ছন ও খড়ের ছাউনির ঘর

জকিগঞ্জ থেকে আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ-বেত, ছন ও খড়ের ছাউনির ঘর

Written By zakigonj news on রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৪ | ১০:৩৫ PM

জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা
জকিগঞ্জ থেকে আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা বাঁশ-বেত, ছন ও খড়ের ছাউনির ঘর। অতীতে গ্রামে খড় ও ছনের ছাউনির ঘরকে গরীবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে অবিহিত করা হতো। এ সকল ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে আরাম দায়ক তাই আরামের জন্য গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবানরাও খড় ও ছনের ছাউনির ঘর তৈরী করতেন। কিন্তু কালের আবর্তে তা জকিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। মাত্র কিছুদিন আগেও এ উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে ১০/১২টি খড় ও ছনের তৈরি ঘর চোখে পড়ত বর্তমানে কয়েকটি ইউনিয়ন মিলেও এই ধরনের ঘর চোখে পড়ে না। স্থানীয় মুরব্বীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে বিশ-পঁচিশ বছর আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে খড় ও ছনের ছাউনির ঘর ছিল। বাড়ি পার্শ্ববর্তী জমি থেকে অগ্রাহায়ন মাসের ধান কাটা হলে ভালো খড় দেখে কেটে আনা হতো এবং পার্শ্ববর্তী কানাইঘাট উপজেলার পাহাড় থেকে কিনে কেটে আনা হতো বিপুল পরিমাণ ছন। যা বাঁশ-বেত ও শন দিয়ে তৈরী ঘরের চাল ছাওয়ার কাজে ব্যবহার করতেন গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন। তখনকার সময় অনেকে ছন বিক্রি করেও সংসার চালাতেন।  উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর মিয়া বলেন, ১০/১৫ বছর আগেও আমাদের বাড়িতে বেশ কয়েকটি খড় ও ছনের ছাউনির ঘর ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে ছন ও খড়ের ছাউনি ফেলে টিনের ছাউনি দিয়েছি। জানা গেছে, ছন ও খড়ের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিল। তাদের মজুরি ছিল পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। বিশেষ কায়দায় খড় বা ছনকে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ছাউনি দেয়া হতো। ছাউনির উপরে বাঁশ ও বেত দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিয়ে পানি ছিটানো হতো। যাতে করে সহজে ছন ও খড়গুলো বাঁশের উপর বসে যায়। কিন্তু সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া ওই ছন ও খড়ের ছাউনির ঘরগুলো আজ চোখেই পড়ে না। গ্রামের আর্থ সামাজিক অবস্থায় এসেছে পরিবর্তন। তাই অনেকের নিকট তা ঝামেলা হয়ে উঠেছে। জকিগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, বছর বছর ছন বা খড় পরিবর্তন করতে হয় বিধায় একে অনেকে ঝামেলা মনে করে। এ কারণে ছন ও খড়ের ছাউনি ঘরের সংখ্যা হারিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এনজিওসহ সমাজকল্যাণে পাশে দাঁড়ানো বিভিন্ন সমবায় সমিতির দেয়া ঋণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট আকারের দালান এবং উপরে দেওয়া হচ্ছে টিনের চালা। খড় ও ছনের ছাউনির পাশাপাশি এখন হারতে শুরু করেছে বাঁশ, বেত, ও শন দিয়ে তৈরী ঘরের বেড়া। এক সময় এ উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ঘরের খুঁটি থেকে শুরু করে পুরো ঘরের বেড়া বাঁশের তৈরি ছিল। বাঁশ কেটে পাতলা করে তৈরি করা হয় বেড়া। কিছু ক্ষেত্রে কাঠের পাতলা টুকরো, পাটকাঠি, নলখাগড়া বা শন ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো। মাত্র ২/৩ বছর পূর্বেও উপজেলার প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাঁশের বেড়ায় মাটির প্রলেপ দেওয়া দেখা গেলেও বর্তমানে এই ঘর খুব একটা চোখে পড়েনা। সময়ে সময়ে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙ্গালির ঐতিহ্যের এই চিহৃটি। হয়ত সেদিনটি খুব বেশি দূরে নয়; যেদিন বাঁশ, বেত ও শনের বেড়া এবং খড় বা ছনের ছাউনি ঘরের কথা মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবে। আর আগামী প্রজন্ম রূপকথার গল্পেই এই ঘরকে স্থান দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad