Headlines News :
Home » » বিনিময় দলীল রেজিস্ট্রি করে দেয়া উচিত

বিনিময় দলীল রেজিস্ট্রি করে দেয়া উচিত

Written By zakigonj news on বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৪ | ৪:৩৩ PM

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দ্বিখন্ডিত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত ডমিনিয়ন নামে দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ করে। যে সব হিন্দুর বাড়িঘর ও ভূ-সম্পত্তি পাকিস্তান ভূখন্ডে পড়ে তা হস্তান্তর করে অনেকে ভারতে চলে যেতে চায় এবং অনুরূপভাবে যে সব মুসলমানের বাড়িঘর, বিষয় সম্পত্তি ভারত ভূখন্ডে পড়ে তাদের মধ্যেও অনেকে তা হস্তান্তর করে পাকিস্তান চলে যেতে চায়। পাকিস্তানের হিন্দু নাগরিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক হিন্দুরা পাকিস্তানকে স্বদেশ যেমন মনে করতো না; তেমনি ভারতের মুসলমানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক মুসলমানরাও ভারতকে স্বদেশ মনে করতো না। এই মনোভাব অসন্তোষ ও আন্দোলন আকারে দেখা যায় বা বুঝা যায়। জনগণের এই মনোভাব উভয় রাষ্ট্রের সরকার প্রধান বুঝতে পেরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নূন একত্রে মিলিত হয়ে একটা চুক্তি বা প্যাক্ট করেন; যা নূন-নেহরু প্যাক্ট নামে খ্যাত। এই প্যাক্টের ফলে ভারতের মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে যারা তাদের বাড়িঘর ও বিষয় সম্পত্তি পাকিস্তানের হিন্দু নাগরিকদের সমমূল্যের বিষয় সম্পত্তির সাথে বিনিময় মূলে হস্তান্তর করতে পারবেন তা চুক্তি হয়। এই নূন-নেহরু প্যাক্টের ফলে পাকিস্তানের হাজার হাজার হিন্দু এবং ভারতের হাজার হাজার মুসলমান হিন্দু বিনিময়কারী ও মুসলিম বিনিময়কারী হয়ে নিজ নিজ সম্পত্তি বিনিময় করেন। ভারত সরকার এই বিনিময়কে স্বাগত জানালেও পাকিস্তান সরকার সেভাবে স্বাগত জানায়নি। ফলে বিনিময় আমমোক্তার নামা ও বিনিময় দলিল সম্পাদনে ভারত সরকার কোন বাধা সৃষ্টি করেনি। পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট অথবা নোটারী পাবলিক অফিসে উপস্থিত হয়ে তাদের পাকিস্তানস্থিত বাড়িঘর ও বিষয় সম্পত্তি বাবদ বিনিময় আমমোক্তার নামা দলিল মুসলিম বিনিময়কারী বরাবর সম্পাদন করে দিয়েছেন এবং ঐ একই সময়ে ভারতীয় মুসলিম বিনিময়কারী তার ভারতীয় সম্পত্তির বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে হিন্দু বিনিময়কারীর বরাবর রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। বিনিময়ের সব ঝামেলা একদিনেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মুসলিম বিনিময়কারী হিন্দু বিনিময়কারীর নিকট হতে সম্পাদিত আমমোক্তার নামা নিয়ে এসে পাকিস্তানের জেলা প্রশাসকের অফিসে তা জমা দিয়ে তা ড্যালিড করার ও বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য আবেদন করেন। মুসলিম বিনিময়কারীর ডিসি অফিস ঘোরার যাত্রা শুরু হয়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ঘুরে ৩০-৪০ বছরেও পাকিস্তানের বা বাংলাদেশের ডিসি অফিস বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয়নি অর্থাৎ মুসলমানদের কিছু বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে এবং কিছু বিনিময় দলিল এখনও রেজিস্ট্রি হয়নি। অনেক বিনিময়কারী নিজে মারা গেছে। অনেকের পুত্র পর্যন্তও মারা গেছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের ডিসি ও এডিসিরা মুসলিম বিনিময়কারীদের বিনিময় দলিল রেজিস্ট্রি না করে বছরের পর বছর তাদের উৎপীড়ন করেছে। পাকিস্তান সরকার হিন্দুদের সম্পত্তি হস্তান্তরের বিরুদ্ধে ১৯৬৪ সালে ১ নং অর্ডিন্যান্স জারি করে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ হয় এবং যুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইউব খান ০৬/০৯/১৯৬৫ ইং তারিখে পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন; যা ১৬/০২/১৯৬৯ ইং তারিখে প্রত্যাহার হয়। এই সময়ে যে সব হিন্দু পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে বসবাস করেছে তাদের ভূ-সম্পত্তিকে শত্র“ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শত্র“ সম্পত্তি আইনের যাত্রা এখান হতেই শুরু হয়। শত্র“ সম্পত্তি আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার শত্র“ সম্পত্তি আইনের অবসান না ঘটিয়ে বরং এক ধাপ এগিয়ে শত্র“ সম্পত্তির মালিকানা সরকারের উপর ন্যস্ত করে শত্র“ সম্পত্তি আইনের নামকরণ করেন ‘‘অর্পিত সম্পত্তি’’। তখন ইচ্ছা করলে এই শত্র“ সম্পত্তি আইনের অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা দিতে পারতেন যে ‘‘শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করা হলো। দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের বিচারের মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তির মীমাংসা হবে। আজ অবধি বাংলাদেশের কোন সরকার প্রধান এই সাধারণ মানুষ বা কৃষকদের দিকে ফিরে তাকাননি। বরং হিন্দু মুসলমান সাধারণ নাগরিকদের শত্র“ সম্পত্তি বা অর্পিত সম্পত্তির মীমাংসা না করে তাকে আরো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বা আরো যুগান্তর কাল ধরে প্রজা উৎপীড়ন করার জন্য রঙিন নাম দেয়া হয় ‘‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন-২০১২’’। যাক শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকার তা অনেকটা সহজ করলেও বিনিময় দলীল নিয়মিত করণের ক্ষেত্রে অনেকে বিপাকে পড়েছেন বলে পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়। আমরা মনে করি, এই বিনিময় দলীল যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দিলে কোন হিন্দু বা কোন মুসলমানের লাভ ছাড়া ক্ষতি হবেনা। বিদায় সরকারের তরফ থেকে বিনিময় দলীল রেজিস্ট্রি করে দেয়া উচিত।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad