Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ-সিলেট রোড থেকে হারিয়ে গেছে ঐহিত্যবাহী মুড়ির টিন বাস সার্ভিস

জকিগঞ্জ-সিলেট রোড থেকে হারিয়ে গেছে ঐহিত্যবাহী মুড়ির টিন বাস সার্ভিস

Written By zakigonj news on শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৪ | ৩:৪৬ PM

জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা
আধুনিক যানবাহনের সয়লাবে জকিগঞ্জ-সিলেট রোড থেকে হারিয়ে গেছে ঐহিত্যবাহী মুড়ির টিন বাস। এক সময় মুড়ির টিন ছাড়া চলাচল অকল্পনীয় হলেও আজ আর গাড়িটিকে নিয়ে কাউকে কথা বলতে শুনা যায়নি। মানুষের আজ আর পেছনের দিকে তাকানোর সময় নেই। তারা এখন আকাশের বিদ্যুতকে বেঁধে চাকরের মত কাজে লাগাচ্ছে, নদীর গতিপথকে রুদ্ধ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে শূন্যের বুকে পাড়ি দিয়ে চাঁদে গিয়ে ফিরে আসছে, হিমালয়ের স্ফিত বুকে সে তার দাপুটে পা মাড়িয়ে আসছে, উর্ধ্বলোকে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়ে আসমান ও জমিনে নজরদারি করছে। যা শুনে অবাক হচ্ছেন আজকের ষাট বছর বয়স্ক নারী-পুরুষ। অন্যদিকে এ সকল বয়স্ক নারী-পুরুষদের কাছ থেকে তাদের সময়কার চলাচলের কথা শুনে অবাক হওয়া ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকেনা। জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত জকিগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলের মানুষ পায়ে হেটে বা অন্য কোন বাহনে করে দূরপাল্লায় চলাচল করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ অঞ্চলে থাকা মিত্রবাহিনী বিশেষ করে মার্কিন বাহিনী অনেক গাড়ি ও ট্রাক নিলামে বিক্রি করে চলে গেলে এসব গাড়ি কিনে সেগুলোতে বডি তৈরি করে রূপান্তর করা হয় বাসে। বাসের বডি কাঠের ফ্রেমের সঙ্গে টিন মুড়ে দিয়ে তৈরি হয়েছিল বলে এগুলোকে বলা হতো 'মুড়ির টিন'। এরপর থেকে এতদঅঞ্চলের মানুষের একমাত্র যানবাহন হিসেবে মুড়ির টিন বাস সার্ভিস চালু হয়। তবে তা ছিল হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি গাড়ি। তাই তা অহরহ পাওয়া যেত না। সকালে ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড এই তিনটি গাড়ি একে একে সিলেটে ছেড়ে যেত। আবার বিকালে সেগুলো জকিগঞ্জে চলে আসতো। মুড়ির টিন বাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে সত্তর বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি বলেন, বাসগুলোর দেহের অধিকাংশ কাঠের তৈরি, তা আবার কত পুরাতন তা বলা মুশকিল! অধিকাংশ সিটের অবস্থা বেহাল, জানালার কাঁচ থাকা যেন নিষিদ্ধ ছিল এই বাসের। আর গতিবেগ (!) ? এ বিষয়ে এলাকায় তখনকার সময় একটি কৌতুক প্রচলিত ছিল, “এক লোক একবার গাড়িতে উঠে, গাড়ি খুবই ধীরে চলছে দেখে জিজ্ঞেস করেছিল, ড্রাইভার সাহেব গাড়ী জোরে চলাবেন, নাকি হেটে চলে যাব?” সে সময়কার “'মুড়ির টিন”র অবস্থা অনেকটা সেরকম। ঘন্টায় গতিবেগ ১০ কি. মি. হলে চালককে ধন্যবাদ দিতেন যাত্রীরা। তবে এই বাসে উঠে যে কাজের কাজ যেটি হয় তা হল ধৈর্যশীল কিছু মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়! বাসের শব্দ কেমন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুড়ির টিন বাসে উঠলে নিশ্চিতভাবে আপনি বাইরের কোন শব্দ শুনবেননা। সে সময় দুঃখজনক বিষয় ছিল কোন বাস খাদে পড়ে কেউ আহত হলে। মুড়ির টিন বাস দূর্ঘটনায় কেউ নিহত হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। কারণ গাড়ির যে গতিবেগ পুড়াকপাল না হলে কারো নিহতের বিষয়টি অকল্পনীয় ছিল। কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, সেদিনের কথা মনে হলে এখনও চমকে উঠি। আজকের যানবাহনের জয়যাত্রা দেখে নিজে অন্য কোথায় চলে আসছি বলে মনে হয়। সে সময়কার মুড়ির টিন বাস চালুর সময় হ্যান্ডেল ঘুরাতে ঘুরাতে গাড়ি গরম হয়ে স্ট্যার্ড হতো। কখনও আবার স্ট্যার্ড হতো না। আজ আর সেই দৃশ্য দেখা যায়না। ড্রাইভার গাড়িতে উঠে মুহুর্তেই গাড়ি স্ট্যার্ড করে চালাতে শুরু করেন। তবে চলার পথে আজও এক পলক দেখার জন্য খুঁজি সে সময়কার মুড়ির টিন গাড়ি।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad