Headlines News :
Home » » পিন নাম্বারে টাকা উত্তোলন : জকিগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক ভোগান্তি

পিন নাম্বারে টাকা উত্তোলন : জকিগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক ভোগান্তি

Written By zakigonj news on শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৪ | ৩:৫২ PM

স্টাফ রিপোর্টার
তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতির ফলে দেশের মানুষ ব্যাংকিং ক্ষেত্রে চরম স্বস্তিতে থাকলেও জকিগঞ্জের মানুষ আজও এক্ষেত্রে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ উপজেলায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংক সোনালী, কৃষি, জনতা ও রূপালী ছাড়া অন্য কোন বেসরকারী ব্যাংকের শাখা না থাকায় মানুষকে এই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। জানা যায়, জকিগঞ্জে শুধুমাত্র বেসরকারী ব্যাংক হিসেবে পূবালী ব্যাংক থাকলেও তাদের মান সরকারী ব্যাংকগুলোর চেয়ে তেমন একটা ভালো নয়। বর্তমান সময়ে পিন নাম্বারে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জকিগঞ্জের মানুষে নিকট অনেকটা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এক্ষেত্র গ্রাহকদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে প্রায়ই। স্থানীয়রা জানান, জকিগঞ্জের সিংহভাগ প্রবাসীরা দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য বর্তমানে ব্যাংক একাউন্ট ছাড়াও পিন নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে থাকেন। আর ওই টাকা দিনের মধ্যেই স্বজনদের নিকট পোঁছে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রত্যাশিত এই সেবাটি দিতে পারছে না জকিগঞ্জের কোন ব্যাংক। গত ১২ অক্টোবর রোববার এ প্রতিবেদকও ওয়েস্টার্ণ মানি থেকে পিন নাম্বারে টাকা তোলতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন। সকালে পূবালী ব্যাংক জকিগঞ্জ শাখা থেকে টাকা তোলতে গেলে ব্যাংকে কর্মরতরা জানান, আমাদের কম্পিউটার নষ্ট থাকায় কয়েকদিন থেকে এ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমার কি করণীয় এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আপনি অন্য যেকোন ব্যাংক থেকে টাকা তোলতে পারবেন। এমন একটি আশার বাণী শুনে চলে গেলাম সোনালী ব্যাংক জকিগঞ্জ শাখায়। এ ব্যাংকটিতে গিয়ে পড়লাম বিপাকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিছু সময় দাঁড়িয়ে রাখার পর জানালেন, আপনার টাকা আসেনি। এবার টাকা প্রেরকের নিকট ফোন করে জানলাম তিনি একদিন আগে টাকা পাঠিয়েছেন। সে দেশের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর বিষয়টি বার বার নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত ঐ কর্মকর্তাকে পুনরায় ভালো করে দেখার জন্য অনুরোধ করলে তিনি এবার রাগান্বিত হয়ে উঠেন। উপায়ান্তর হয়ে পড়লে টাকা প্রেরক ঐ প্রবাসী সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে কথা বলেন। তখন ম্যানেজার তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানালেও আমাকে বলেন, গতকাল টাকা পাঠিয়েছেন আজকে তো টাকা আসার কথাই নয়। আপনি বিকালে একবার ব্যাংকে এসে খবর নিবেন। নতুবা অন্য যে কোন ব্যাংক থেকে টাকা তোলে নেবেন। এবার পুনরায় পূবালী ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে কথা বলার জন্য সেখানে চলে গেলাম। ম্যানেজারকে বিষয়টি খুলে বললে তিনি উত্তরে বলেন, আমাদের কিছু করার নয়, বেশ কয়েকদিন থেকে আমাদের কম্পিউটার নষ্ট থাকায় পিন নাম্বারের টাকাগুলো দিতে পারছি না। এ সময় জকিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মাওলানা আলাউদ্দিন তাপাদার বলেন, আপনি জনতা ব্যাংকে চলে যান। সেখান থেকে বোধ হয় টাকা তোলতে পারবেন। এবার সেখানে গিয়ে দেখলাম জনতার ভীড়। ভাবলাম হয়তো এবার টাকা পেয়ে যাবো। জনতা ব্যাংকের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে বললাম, ভাই দয়া করে আমার টাকা আসছে কি না একটু দেখুন। টাকা আসার বিষয়টি নিশ্চিত হলে বসে থাকবো। উত্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঐ কর্মকর্তা বললেন, এভাবে দেখা সম্ভব নয়। এবার মহা বিপদে পড়লাম। কেননা ব্যাংকটিতে অর্ধশতাধিক লোক পিন নাম্বার দিয়ে টাকা তোলার জন্য অপেক্ষমান রয়েছেন। আর এই সেবাটি দিচ্ছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানতে পারলাম ব্যাংকটিতে জনবল সংকট রয়েছে। তাই ম্যানেজার নিজেও একটি টেবিলে বসে কাজ করছেন। আমার টাকার বিষয়টি বলার পর তিনি বললেন, অপেক্ষা করুন সিরিয়াল আসলে দেখা যাবে। নতুবা বিকালের দিকে আসুন। প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় সেখানে অপেক্ষা করে দেখা গেলো এখনও ২০/২৫ জনের বেশী লোক এ প্রতিবেদকের আগে রয়েছেন। এবার উপায়ান্তর হয়ে পুনরায় সোনালী ব্যাংকে আসলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঐ কর্মকর্তা বললেন, ভাই আপনাকে বার বার বলছি যে, আপনি অন্য কোন ব্যাংক থেকে টাকা তোলে নেয়ার জন্য। এ সময় ম্যানেজার এসে ধমক দিয়ে বলেন, আপনি কি ভালো কথা বুঝেন না। আপনি অন্য যে কোন ব্যাংক থেকে টাকা তোলে নেন। এবার এ প্রতিবেদক পাল্টা ধমক দিলে টনক নড়ে ম্যানেজারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ঐ কর্মকর্তার। তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ভাই বাস্তব কথা হচ্ছে আমাদের সার্ভারে কিছুদিন থেকে সমস্যা হচ্ছে। আচ্ছা আপনি বসেন আমি চেষ্ঠা করছি। এরপর প্রায় ঘন্টাখানেক সময় অপেক্ষার পর তিনি ঠিকটাক করে টাকা আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়ার জন্য বলেন। এ সময় সত্য কথাটি প্রথমে না বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ভাবছিলাম অন্য কোন ব্যাংক থেকে হয়তো আপনি টাকা তোলে নেবেন। এমন ভোগান্তি শুধু এ প্রতিবেদকের ক্ষেত্রে নয়। উপস্থিত অনেকে জানান, জকিগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে এটা প্রতিনিয়ত হয়ে থাকে। ভোগান্তির শিকার এক ব্যক্তি বলেন, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে এখনও টাকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারছি না। সকাল থেকেই ব্যাংকের কর্মকর্তারা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। কখনও কখনও সার্ভার সমস্যা, আবার কখনও টাকা সিলেট থেকে আসছে অপেক্ষায় থাকুন। এভাবে এক ঘন্টা, দুই ঘণ্টা করে বিকাল হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত টাকা পাচ্ছি না। পৌর এলাকার আবুল কালামসহ প্রায় ২০/২৫ জন গ্রাহক বলেন, ব্যাংকে এসে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। এদের সবাই অনেকে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টায় পূর্বে ব্যাংকে আসেন টাকা উত্তোলন করতে। কিন্তু বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে এখনও টাকা পাচ্ছেন না। এ সময় ভোক্তভোগীরা এ ধরনের খামখেয়ালি ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাদ দেওয়ার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad