Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের টুকিটাকি

জকিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের টুকিটাকি

Written By zakigonj news on সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৪ | ১০:৫০ AM

স্টাফ রিপোর্টার
জকিগঞ্জ পৌরসভার বহুল আলোচিত উপ-নির্বাচন গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে। নির্বাচনের দিন ও রাতে ফলাফল ঘোষণার পর বেশকিছু বিষয় ভোটারসহ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তুলে ধরা হলো।
নির্বাচনে নির্বাচেন মিল : জকিগঞ্জ পৌরসভার এবারের নির্বাচনের সাথে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সাথে তিনটি মিলের বিষয়টি মানুষের মুখে মুখে শুনা যায়। লোক মুখে শুনা যায়, ২০১১ সালের নির্বাচন ১৮ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়েছিল আর এবারের নির্বাচন ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো। দ্বিতীয় পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী প্রয়াত মেয়র আনোয়ার হোসেন সুনাউল্লাহ’র প্রতীক ছিল তালা। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী আব্দুল মালেক ফারুকের প্রতীকও তালা। এছাড়া গত পৌর নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী পাঁচজন।
পোস্টার ছিল চোঁখে পড়ার মতো : জকিগঞ্জ পৌরসভার এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের টানানো আগের পোস্টারগুলোর পাশাপাশি ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোর আশপাশের এলাকায় পোস্টার ছিল চোঁখে পড়ার মতো। ভোটকেন্দ্রের সামনের রাস্তাগুলোর মাথার ওপর মনে হয়েছিল শামিয়ানা টানানো।  যা ভোটারসহ পর্যবেক্ষকদের নজর কাঁড়ে।
মহিলা ভোটারের মাথায় আঘাত : জকিগঞ্জ পৌরসভার এবারে উপ-নির্বাচনে সকাল সাড়ে নয়টায় ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মাইজকান্দি গ্রামের আব্দুর রহমানের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৮) কে চশমা প্রতীকের প্রতিনিধির লোকজন আক্রমন করে রক্তাক্ত জখম করে। এ অভিযোগটি করেন দোয়াত-কলম মার্কার প্রতিনিধি জাফরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঐ মহিলাকে জকিগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক : জকিগঞ্জ পৌরসভার এবারের উপ-নির্বাচনে পঙ্গপট ভোট কেন্দ্রে জাল দিতে গিয়ে বেলা দেড়টা এবং দুইটায় দুই যুবক আটক হন। কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জাল ভোট দিতে আসার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হলেও বিকাল চারটার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া মধুদত্তকেন্দ্রে একজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।
গোল দিতে পারেনি জামায়াত ! গত ১৮ অক্টোবর শনিবার জকিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মানুষের মুখে মুখে শুনা যায়, গোল দিতে পারেনি জামায়াত। বিষয়টি সম্পর্কে কয়েকজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, জকিগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতের তেমন কোন ভোট ব্যাংক না থাকা সত্ত্বেও বিগত উপজেলা নির্বাচনে ফাঁক দিয়ে গোল দিয়েছিলো তারা। তখন বড় দলগুলি উপজেলা চেয়ারম্যান পদটি নিয়ে ব্যাস্ত থাকায় ফাঁক পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদটি ছিনিয়ে নেয় জামায়াত। এবারের পৌরসভা নির্বাচনেও তারা সে সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিল। জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বেও তাদের কর্মী-সমর্থকরাও বিগত উপজেলা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেছিল, বিজয় তাদের হবে। নিজেদের প্রার্থীর বিজয় নতুবা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ছিল তাদের মুখে মুখে। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। জামায়াতের প্রার্থী ইমরান হোসাইন ৫ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম ৮৫১টি ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তিনি তার নিজ ভোট কেন্দ্র এক্সিলেন্স একাডেমীতে ৪৩৩ এবং কলেজ কেন্দ্রে ১১৩ ভোট পেয়েছেন। বাকী সাত কেন্দ্রের কোনটিতেই তার ভোট তিন সংখ্যার ঘরে যেতে পারেননি। তাই মানুষের মুখে মুখে ছিল গোল দিতে পারেনি জামায়াত।
সুনাউল্লাহ’র তালায় ফারুকের বিজয়মালা ! দ্বিতীয় পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী প্রয়াত মেয়র আনোয়ার হোসেন সুনাউল্লাহ’র প্রতীক ছিল তালা। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী আব্দুল মালেক ফারুকের প্রতীকও তালা। ফলাফল ঘোষণার পর সুনাউল্লাহ’র তালায় ফারুকের বিজয়মাল কথাটি মানুষের মুখে মুখে শুনা যায়। সাধারণ মানুষের ধারণা শেষ নির্বাচনী প্রচারে বিজয়ী আব্দুল মালেক ফারুক প্রয়াত মেয়রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আবেগঘন বক্তব্য দেন। আর এতেই সুনাউল্লাহ’র সমর্থকরা প্রতীক হিসাবে গত নির্বাচনের প্রতীককেই বেছে নেন। ফলে তরান্বিত হয় ফারুকের বিজয়মালা।
ফারুকের বিজয়ে অনেকের পরাজয় : জকিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর আব্দুল মালেক ফারুক সমর্থক ভোটারদের মুখে হাঁসির ঝিলিক ফুঁটে উঠে। এ সময় অনেককে বলতে শুনা যায়, ফারুক ভাইয়ের বিজয়ে অনেকেই পরাজিত হলেন। কেননা ফারুক ভাইকে পরাজিত করতে তাকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে ভিতরে ভিতরে কাজ করেছেন বর্তমান ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। আব্দুল মালেক ফারুক ২২৯৬টি ভোটে পেয়ে বিজয়ী হওয়ায় তারা আজ তার নিকট ধরাশায়ী।
জাফরুল ইসলামের চমক : জকিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের পূর্বে তরুণ মেয়রপ্রার্থী জাফরুলকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আলোচনা না হলেও শেষ পর্যন্ত অনেকটা চমক দেখালেন তিনি। বিষয়টি পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের চোঁখে ধরা পড়েছে। জাফরুল সমর্থকরা বলেন, জামায়াত প্রার্থী ইমরান হোসাইন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান লুকুর জয়জয়কার অবস্থা দেখে আমরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে ১২৭১ টি ভোট দিয়ে তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছেন। এটাকে অনেকে জাফরুল ইসলামের চমক বলেও মনে করছেন।     
বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত প্রার্থীর অভিনন্দন : জকিগঞ্জ পৌরসভার এ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ইমরান হোসাইন ফলাফল ঘোষণ করা পর্যন্ত উপজেলা হল রুমে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল মালেক ফারুককে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। অপর পরাজিত প্রার্থী নির্বাচনে তৃতীয় স্থান লাভকারী সোনার বাংলার এমডি জাফরুল ইসলামও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
৯টি কেন্দ্রের কে কয়টিতে বিজয়ী : জকিগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মানুষের মুখে মুখে ছিল কে কয়টিতে বিজয়ী। পরে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, মেয়র পদে বিজয়ী আব্দুল মালেক ফারুক ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২টিতে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আব্দুল খালিক ৩টি কেন্দ্রে, জাফরুল ইসলাম ১টি কেন্দ্রে, আব্দুর রহমান লুক ২টি ও ইমরান হোসাইন ১টি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়েছেন।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad