Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী ‘খড়ম’

জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী ‘খড়ম’

Written By zakigonj news on শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৪ | ৩:৪৯ AM

জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা
কাঠের তৈরী খরম (পাদুকা) আজ আর জকিগঞ্জের মানুষকে ব্যবহার করতে দেখা যায় না। খরমের স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাষ্টিক, রাবার, কাপর এবং চামরার তৈরী বিভিন্ন ধরণের স্পঞ্জ, সান্ডেল ও জুতো। আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে হারিয়ে গেছে ঐতিহ্যসাহী পাদুকা খরম। এককালে এ উপজেলার মানুষের চলার সঙ্গী ছিল খড়ম। গ্রাম-বাংলার গীতেও খড়মের বর্ণনা পাওয়া যায়। আগেরকার দিনে খড়ম ছিল আদর-আপ্যায়নের সর্বপ্রথম আয়োজন ও ভদ্রতা। কোন বাড়িতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলেই হাসি মুখে স্বযতেœ এক জোড়া খড়ম এবং বদনা দিয়ে পানি দেয়া হতো অজু করা বা মুখ-হাত ধোয়ার জন্য। এই আপ্যায়ন উপরই বিবেচ্য হতো বাড়ির লোকজনের গুণগান। আভিজাত্যের মাপও হয়ে যেত খড়ম ও বদনার ব্যবহার দেখে। আন্তরিকতার পরীক্ষা ও নির্ণয় হতো এই খড়ম ও বদনা ভর্তি পানি সরবরাহের মধ্যে দিয়ে। এরপর ওজু করে পাতানো বিছানায় বসতেন মেহমানগন। খড়ম পায়ে হাতে ছড়ি নিয়ে বাড়ির কর্তা ঘুরে বেড়াতেন বাড়ির আঙ্গিনায়। খোঁজ নিতেন সকলের কাজ কর্মের। বাড়ির আশপাশের ক্ষেত খামারগুলো দেখতেন খড়ম পায়ে দিয়ে। ছোটদের কোন বেয়াদবি দেখলে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতেন খড়ম দিয়ে পিটিয়ে। মুরুবিদের এই খড়মের পিটুনির ভয়ে ছোটরা সহজে কোন অপরাধ করার সাহস পেতো না। এছাড়া গ্রাম্য শালিসের বিচারেও খরম দিয়ে পেটানো হতো। খড়মের এই শাস্তি এক সময় প্রচলন ছিলো। শুধু জকিগঞ্জে নয় দেশের সবখানেই এক সময় গ্রামীন ঐতিহ্য খড়মের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সে সময়ে পাদুকা বলতে কেবল কাঠের খড়মকেই বোঝাতো। কাঠ দিয়ে তৈরি খড়ম ছিল পরিবেশবান্ধব। তারপরও মানুষ এটিকে পরিহার করেছে। অপরদিকে বার্মিস জুতা মানুষের মাথা গরম করা, পায়ের নিচের স্তর চামড়া মোটা করে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। অনেকেই সার্জন চিকিৎসকদের শরনাপন্ন হন। প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, ৭০ দশক পর্যন্ত পাদুকা বা জুতা হিসাবে জনপ্রিয় ছিল খড়ম। পরবর্তীতে যানবাহনের চাঁকায় ব্যবহৃত টায়ার ও টিউব কেটে তৈরি হয় এক ধরণের জুতা। যার নামকরণ করা হয় টায়ার জুতা। কালের আবর্তে ওই টায়ার জুতাটিও বিলুপ্ত হয়ে আসে স্যান্ডেল। বর্তমানে বাহারি মডেলের স্যান্ডেলে বাজার সয়লাব। একটি কাঠের পাদুকা খড়ম তৈরি করতে বর্তমান বাজারে খরচ পড়ে দেড় থেকে ২’শ টাকা। পক্ষান্তরে বার্মিসের একটি পাদুকা পাওয়া যায় ৮০ থেকে ১শ টাকায়। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় সবাই বার্মিসের জুতাই ব্যবহার করেন। জুতা ব্যবসায়ীরা বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও বার্মিস জুতা বিক্রি করতে হচ্ছে। খড়ম পায়ে দিয়ে চলাফেরা করলে বেমানান মনে হবে বিধায় ইচ্ছে থাকলেও অনেকে খড়ম ব্যবহার করেন না। তাই বর্তমানে এই খড়ম শিল্প হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম আজ খড়ম কি তা জানে না। শুধু বই পুস্তকেই পড়ে আর স্বপ্নে ভাবে খড়ম কি?
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad