Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | ১:০৮ PM

জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা
আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরীর দক্ষ কারিগর বাবুই পাখির বাসা জকিগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজার, নতুন বনায়নে বাসযোগ্য পরিবেশ ও খাদ্যের অভাব, নির্বিচারে তালগাছ কাটায়, অসাধু শিকারীর ফাঁদ সহ বহুবিধ কারণে কালের আবর্তে সময়ের পরিধিতে প্রকৃতির স্থপতি, বয়ন শিল্পী এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি বাবুই পাখি ও দৃষ্টিনন্দন বাসা ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে মাত্র কয়েক বছর আগেও জকিগঞ্জ উপজেলার গ্রামগঞ্জে ব্যাপকভাবে বাবুই পাখি ও তার বাসা চোখে পড়ত। কিচিরমিচির শব্দ আর তাদের শৈল্পিক বাসা মানুষকে পুলকিত করত। অপূর্ব শিল্প শৈলীতে প্রকৃতির অপার বিস্ময় তাদের সেই ঝুলন্ত বাসাও আজ নদীর পাড়ে, পুকুর পাড়ে, বিলের ধারে ও বাড়ির তালগাছে এখন আর সচারাচর চোঁখে পরে না। আগের মতো বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না জকিগঞ্জের প্রত্যান্ত জনপদ। নিরীহ, শান্ত প্রকৃতির এই বাবুই পাখি উচু এবং নিরিবিলি পরিবেশে বাসা তৈরি করে। প্রামগঞ্জের তাল, সুপারি, নারিকেল, খেজুর গাছ বা আখক্ষেতে বাসা তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে এরা। এই পাখি বাসা তৈরীর কাজে ব্যবহার করে থাকে খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচি পাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতা। চমৎকার আকৃতির এই বাসা বিশেষ করে তাল গাছের ডালে এমনভাবে সাঁটানো থাকে যাতে কোনো ঝড়-তুফানে সহসাই ছিড়ে না পড়ে। এদের বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই নয়, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করে। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণী তেমই মজবুত। ঠোঁট দিয়ে বাবুই পাখি আস্তনর ছড়ায়। পেট দিয়ে ঘঁষে তা আবার মসৃণ করে। বাসা বানাতে শুরুতেই দুটি নিম্নমুখী গর্ত করে থাকে। পরে তা একদিকে বন্ধ করে ডিম পাড়ার জায়গা করে। অন্যদিকে লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করে। ব্যালেন্স করার জন্য বাসার ভিতরে কাদার প্রলেপ দেয়। যা বড়ই যুক্তি সংগত। বাসার ভিতরে ঠিক মাঝখানে একটি আড়া তৈরি করে বাবুই পাখি। যে আড়াতে পাশা পাশি দুটি পাখি বসে প্রেম আলাপসহ নানা রকম গল্প করে। এ আড়াতেই তারা নিদ্রা যায়। কি অপূর্ব বিজ্ঞান সম্মত চেতনাবোধ। ছোট হলেও বুদ্ধিতে সব পাখিকে হার মানায় এ পাখি। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় সঙ্গী খুঁজতে। এমনকি এক গাছের বাবুই অন্য গাছে গিয়ে পছন্দের সঙ্গীকে খোঁজে। সঙ্গী পছন্দ হলে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে। পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য ডোবার গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে উড়ে বেড়ায় এক ডাল থেকে অন্য ডালে। এরপর উচুঁ গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক কাজ হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো কাজ শেষ করে। তা না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক বাসা বাঁধতে সময় লাগে ৪-৫ দিন। কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইর পাখির পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে ৪ দিন। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬ টি পর্যন্ত বাসা বুনতে পারে। তাছাড়া এরা ঘর করতে পারে ৬ টির সঙ্গে। স্ত্রী বাবুইদের এতে কোন বাধা নেই। প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর বাচ্চা বাসা ছেড়ে প্রথম উড়ে যায় জন্মের তিন সপ্তাহের মধ্যে। ধান ঘরে ওঠার মৌসুম হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। দুধ ধান সংগ্রহ করে এনে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ায়। এরা তালগাছেই বাসা বাঁধে বেশি। সঙ্গত কারণেই বাবুই পাখি তালগাছ ছেড়ে ভিন্ন গাছে নীড় বেঁধেছে। এই দক্ষ স্থপতি বাবুই পাখির নীড় ভেঙে দিচ্ছে একশ্রেণীর মানুষ। এক সময় জকিগঞ্জ উপজেলার অনেক গ্রামে দেখা যেতো শতশত বাবুই পাখির বাসা। এই এলাকার গাঁও গ্রাম ঘুরেও এখন আর দৃষ্টি নন্দন বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা আগের মতো দেখা যায় না। তবে জকিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী এম.এ.হক সাহেবের বাড়ির পুকুর পারের তাল গাছে কিছুদিন আগেও বাবুই পাখির কয়েকটি বাসা ছিল যা বর্তমানের আর নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণীর মানুষ অর্থের লোভে বাবুই পাখির বাসা সংগ্রহ করে শহরে ধনীদের নিকট বিক্রি করছে। ধনীদের ড্রইং রুমে এখন শোভা পাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য দৃষ্টি নন্দন বাবুই পাখির বাসা। রাতের আধারে পাখি শিকারীদের জালে বাবুই পাখি আটক হয়ে বিক্রি হচ্ছে শহরের পাখি শিকারিদের দোকানে। একান্ত আলাপচারিতায় সচেতন মহলের অনেকে বলেন, সারাবিশ্বে বাবুই পাখির প্রজাতির সংখ্যা ১১৭টি। তবে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির বাবুই পাখির বাস। তিনি আরও বলেন, বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার তাদের ছেড়ে দেয়। ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড় প্রভূতি তাদের প্রধান খাবার।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad