Headlines News :
Home » » ওসি আতাউর রহমান নন্দিত জকিগঞ্জের নিন্দিত এক পুলিশ অফিসার!

ওসি আতাউর রহমান নন্দিত জকিগঞ্জের নিন্দিত এক পুলিশ অফিসার!

Written By zakigonj news on বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০১৪ | ১:৩৭ PM

রহমত আলী হেলালী
বাংলাদেশের ইতিহাসে জকিগঞ্জ এক ঐহিত্যবাহী জনপদ। এ জনপদের রয়েছে নানা ইতিহাস ও ঐহিত্য। এই উপজেলায় জন্ম নিয়েছেন দেশ সেরা ব্যক্তিবর্গ। যারা সময়ে সময়ে কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের মাধ্যমে জকিগঞ্জ নামক জনপদকে করে তুলেছেন নন্দিত। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে কতোয়ালী থানার ওসি আতাউর রহমান নন্দিত জকিগঞ্জকে নিন্দিত করে তুলছেন। তাঁর মাধ্যমে জকিগঞ্জবাসী নন্দিত হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো নিন্দিত হচ্ছে। সময়ে সময়ে তাঁর বিতর্কিত আচরণে লজ্জিত হচ্ছেন জকিগঞ্জের মানুষ। ঘুষ-দুর্নীতি, নারী কেলেংকারী ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ লেগেই আছে তাঁর বিরুদ্ধে। অথচ এই জনপদেরই সন্তান মরহুম এম.এ.হক পুলিশ সেক্টরে যে অবদান রেখে গেছেন জাতি তা আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। তিনি পাকিস্তান আমলে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি ছিলেন। এ সময় তিনি ঢাকায় পুলিশ ক্লাব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজারবাগ পুলিশ পার্ক, সাপ্তাহিক ইংরেজী সংবাদ ম্যগাজিন দ্যা ডিটেকটিভ ও পুলিশ কো-অপরেটিভ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। যার দরুণ আজও পুলিশ বিভাগের লোকজন তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ওসি আতাউর রহমান সামান্য এক পুলিশ অফিসার হয়ে জকিগঞ্জবাসীর জন্য যে দুর্নাম বয়ে আনছেন তা নিয়ে সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। জানা যায়, ওসি আতাউর রহমান জকিগঞ্জ পৌর এলাকার নওয়াগ্রাম (শেখ পাড়া)’র মরহুম আজই মিয়ার বড় ছেলে। এলাকার মানুষ তাকে বাবুল বলেই চেনেন। বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় সদ্য প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ওসি আতাউর রহমান পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকুরী নেন। এর পর তাকে আর পেছন থাকাতে হয়নি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলের নেতাদের তোষামোদ করে বাগিয়ে নেন পদোন্নতি। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে হয়ে উঠেন ক্ষমতাধর। হয়ে উঠেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার বেপরোয়া দুর্নীতির লাগাম টানা সম্ভব হয় না পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। ওসি আতাউর রহমানের অপকর্মের দায় বহন করতে হয় তার অধীনস্থদের। বিগত জোট সরকারের সময়ে ওসি আতাউর রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে গড়ে তুলেন সম্পদের পাহাড়। নগরীর আল হামরা শপিংসিটিতে রয়েছে শাড়ীর দোকান। জকিগঞ্জে কোটি টাকা জায়গা-জমি ও দোকান পাট, নগরীর নয়া সড়কের ঠিকানা টাওয়ারে ছেলের নামে রয়েছে ফ্লাট বাড়ি ও ভোলাগঞ্জে রয়েছে পাথরের ব্যবসা। নানা কারণে অতীতে বিতর্কিত হন তিনি। সর্বশেষ ছাতক পৌর চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধুরীর ভাই কামাল আহমেদ চৌধুরীকে থানায় আটকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি। সংবাদ সূত্রে আরোও জানা যায়, ওসি আতাউর রহমানের অপকর্মের কারণে বিব্রত সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। কিন্তু মতাসীন দলের কয়েকজন নেতার শেল্টারের কারণে এসএমপির পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। ছাতক পৌরসভার মেয়রের ভাইকে থানায় নির্যাতনের রোমহর্ষক ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কোতোয়ালি থানার ওপেন হাউস ডে-তেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। অবশেষে এই ঘটনায় গত ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক সালমা মাসুদ চৌধুরী ও মোঃ হাবিবুল গনির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে ওসি আতাউর রহমানসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি তদন্ত করে চার সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যানকেও নির্দেশনা দেয়া হয়। সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের এমন নির্দেশনার পরপরই পুলিশ হেডকোয়ার্টার বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমানকে ক্লোজড করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওসি আতাউর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হতে পারে। জানা যায়, ওসি আতাউর রহমান কোতোয়ালি থানায় থাকাকালীন সময়ে মামলা তো দূরের কথা, টাকা ছাড়া কোনো জিডিও নেওয়া হতো না। এছাড়া ওসি আতাউর রহমানের কথামতো না চললে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হত থানায় কর্মরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসআই পদমর্যাদার সবাইকে। থানায় আটকে মানুষকে নির্যাতন করতে অধীনস্থদের বাধ্য করতেন তিনি। ঘটনা ফাঁস হলে শাস্তি পেতেন অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ‘নির্দোষ’ আতাউর রহমান থেকে যেতেন ওসির চেয়ার আঁকড়ে। সম্প্রতি এ রকম কয়েকটি ঘটনায় কোতোয়ালি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হলেও মূল হোতা আতাউর রহমান থেকে যান পর্দার আড়ালে। একবার বদলী হলেও আবার কিছুদিনের মধ্যে স্ব স্থানে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে সিলেট নগরীর সবচেয়ে অভিজাত বিপণিবিতান আল-হামরা শপিং সিটির ৬১, ৬২ ও ৬৩ নম্বর দোকান নিয়ে ‘মা মণি শাড়ি ঘর’। ওই দোকানের বর্তমান মালিক ওসি আতাউর রহমান। এই দোকানও তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন একটি মামলা-সংক্রান্ত বিষয়কে পুঁজি করে। এ ঘটনা এখন তদন্ত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোতোয়ালি থানায় ওসি আতাউর রহমানের আগমন ঘটে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে। এরপর থেকে কোতোয়ালি থানায় ঘটতে থাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। জিন্দাবাজারের মতো ব্যস্ততম এলাকায় সন্ধ্যা রাতে মার্কেটের দারোয়ানকে খুন করে স্বর্ণের দোকান লুট করা হয়। এ অবস্থায় ২০১৩ সালের ৭ জুলাই তাকে বদলি করা হয় মৌলভীবাজার সদর থানায়। এরপর থেকে পুনরায় কোতোয়ালি থানায় ফিরতে তদবির শুরু করেন আতাউর রহমান। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে তদবির করে ওই বছরের ২৮ নভেম্বর আবারও কোতোয়ালিতে ফিরে আসেন আতাউর রহমান। এরপর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। নগরীতে বেড়ে যায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা। তাছাড়া সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত তাঁর বিভিন্ন নির্লজ্জ কর্মকান্ড জকিগঞ্জবাসীকে করে তুলেছে লজ্জিত। তাই জকিগঞ্জের সচেতন মহলে এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেটর এক আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, নিজের এলাকার এক পুলিশ কর্মকর্তা দেখে সব সময় তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল। অনেককে তাঁর প্রতি খেয়াল রাখার জন্যও বলেছিলাম। কিন্তু তার এহেন কর্মকান্ডে দেখে এখন নিজেই হতবাক। যে সুনামের জন্য তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল সেই সুনাম আজ দূর্নামে পরিণত হয়েছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad