Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জে লোকসানের আশঙ্কায় পণ্য উঠাননি টিসিবির ডিলাররা

জকিগঞ্জে লোকসানের আশঙ্কায় পণ্য উঠাননি টিসিবির ডিলাররা

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০১৪ | ১২:৩৩ PM

আল মামুন / রহমত আলী হেলালী
রমজান এলেই ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। বাজারে গিয়ে চাহিদার বিপরীতে পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হয় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন আয়ের লোকজন। ফলে পাইকারী ও খুচরা বাজার ছেড়ে ক্রেতারা ভরসা করেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যে। রমজান মাসে মধ্য ও নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের সুবিধার্থে সরকার স্বল্প মূল্যে টিসিবি'র পণ্য বিক্রি চালু করে। এতে ক্রেতাদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া মেলে। দামের দিক থেকে টিসিবি'র পণ্য সাধ্যের মধ্যে হলেও পণ্যের অপ্রতুলতা এবং দু'একটি পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্রেতারা। এরপরও বাজারের নিত্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় টিসিবি'র পণ্যই শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন জকিগঞ্জের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। অথচ এবারের রমজানে জকিগঞ্জে লোকসানের আশঙ্কায় পণ্য উঠাননি টিসিবির ডিলাররা। ফলে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ রমজানের টিসিবি‘র বিশেষ পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পণ্যের নিম্নমান, বেশি দাম ও পরিবহন খরচ বহন করে লাভ তো দূরের কথা লোকসানের আশঙ্কায় জকিগঞ্জে পাঁচ ডিলারের মধ্যে কেউই  টিসিবি পণ্য উত্তোলন করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, জকিগঞ্জে টিসিবির পাঁচজন ডিলারের সবাই সর্বশেষ গত রমজান মাসে পণ্য উত্তোলন করে লোকসান দেয়ার অজুহাতে এবারও পণ্য উঠাননি। ফলে টিসিবির সুবিধার কথা ঘটা করে প্রচার করলেও স্থানীয়রা তা পাননি। ২০১২-১৩ অর্থ বছরের ১ম কিস্তির পণ্য উত্তোলনকারী জকিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী খাদেম আব্দুল মতিন চৌধূরী জানান, তেলে ময়লা, খেজুরের নিম্নমান, চিনি ও ডালের দাম খোলা বাজারের চেয়ে বেশি হওয়াতে সিলেটের টিসিবির ডিলাররা পণ্য উঠাননি। গত কিস্তির পণ্যে তার ২২ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই অভিযোগ করছেন টিসিবির ডিলার বাবুর বাজারের মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী খলিলুর রহমান। দীর্ঘদিনের পুরাতন চিনি গলে যাওয়ায় তার ২১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি গত বছর ২২ ডিসেম্বর টিসিবির সরবরাহকৃত চিনিতে বালু ও মশুর ডালে পোকার বাসা পেয়েছিলেন। রতনগঞ্জের ডিলার কামাল আহমদ চেীধুরী বলেন, প্রতি কেজিতে মাত্র চার টাকা লাভ দেখিয়ে ডিলারদের পণ্য সরবরাহ করা হয় অথচ পরিবহন খরচই এর চেয়ে বেশি পড়ে যায়। মান সম্মত পণ্য সরবরাহ, মূল্য হ্রাস এবং কমিশন না বাড়ালে ডিলাররা টিসিবির পণ্য এনে যেমনি লাভ করতে পারবেন না তেমনি ক্রেতারাও উপকৃত হতে পারবেনা। গত বছর রমজান মাসে শুধু ছোলাতেই তার ৫২ হাজার টাকা লেকসান হয়েছে বলে তিনি জানান। জকিগঞ্জ বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার বলেন, সরকারের সরবরাহকৃত জিনিসের দাম খোলা বাজারের চেয়ে বেশি হলে এবং মান খারাপ হলে টিসিবির প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে না। এ ব্যাপারে টিসিবি শেরপুর মৌলভীবাজারের অফিস প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরাতন প্যাকেট থাকার কারণে আগের কিস্তির কিছু পণ্য খারাপ থাকলেও বর্তমানে সরবরাহকৃত সকল পণ্যই ভাল এবং দামও কম। বর্তমানে চিনি ৪৬ টাকা, সয়াবিন তেল লুজ প্রতি কেজি ৯০ টাকা, সয়াবিন তেল বোতল ১১২ টাকা,  খেজুর ৯০ টাকা এবং ছোলা ৫৫ টাকা, মশারী ডাল ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad