Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জের আলোচিত তিন কর্মকর্তা

জকিগঞ্জের আলোচিত তিন কর্মকর্তা

Written By zakigonj news on মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০১৪ | ১২:৪১ PM

স্টাফ রিপোর্টার
এই মুহুর্তে ‘টক অব দ্যা জকিগঞ্জ’ হচ্ছে জকিগঞ্জের তিন সরকারি কর্মকর্তা। এই আলোচিত সমালোচিত তিন কর্মকর্তা হলেন পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আকতারুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া। জকিগঞ্জের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আকবর হোসেন গত ২ জুলাই বুধবার ডিজিএমকে জকিগঞ্জে বিদ্যুতের দুরাবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যানকে সম্মিলিতভাবে নালিশ করেন সরকারী কর্মকর্তারা। পরের দিন ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে আদালত অবমাননা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর প্রতিবাদে বিদ্যুৎ, হাসপাতাল ও নিজ নিজ দপ্তর বন্ধ রেখে বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তা কর্মবিরতি পালন করেন। খবর পেয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট এই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের মৌখিক নির্দেশ দেন পুলিশকে। স্থানীয় জনতা ম্যাজিস্টেটের পক্ষ নিয়ে এই তিন কর্মকর্তার বিপক্ষে মিছিল সমাবেশ করে। এই তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে এখন জকিগঞ্জের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ডিজিএম আকতারুজ্জামান : গত ৫ জুলাই শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত জকিগঞ্জ ছিল একটানা আট ঘন্টা অন্ধকারে। বিদ্যুৎ না থাকায় পবিত্র রমজান মাসে ইফতার তারাবিতে মুসল্লীদের সীমাহীন কষ্ট হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক এম এ জি বাবর, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাত দশটার দিকে শতাধিক মুসল্লী ও বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টাইন সমর্থক ক্রীড়া প্রেমী কিশোর তরুণ মিছিল করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে। প্রায় পৌনে একঘন্টা তারা সেখানে অবস্থান করে ডিজিএম আকতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। ‘ডিজিএমের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’/ ‘এক দফা এক দাবী ডিজিএম তুই কবে যাবি’ এসব স্লোগান দিয়ে তারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলার চেষ্টা করে। ওসি জামশেদ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত এক কর্মকর্তা হলেন ডিজিএম আকতারুজ্জামান। টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না তিনি এমন অভিযোগ প্রায়ই শুনা যায় তার বিরুদ্ধে। নতুন সংযোগ, পুন:সংযোগ, লাইন মেরামত, মিটার প্রদানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে টাকা দিতে হয়। মিটার প্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা দিতে হয় তাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ না থাকলেও তিনি গ্রাহকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন প্রায়ই। গ্রাহকদের ফোন না ধরা তার সাধারণ স্বভাব। কেন জকিগঞ্জে বিদ্যুতের দুরাবস্থা অ্যাডভোকেট কাওছার রশিদ বাহারের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজিএম আকতার তাকে বলেন ‘যে পরিমান বিদ্যুৎ পান তাতে সন্তোষ্ট না থাকলে বিদ্যুৎ লাইন কেটে রাখুন’। সম্প্রতি একদিন ভোরে জকিগঞ্জ বাজারের ২০টি দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করান ডিজিএম। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রচুর হয়রানী করা হয়। এক ব্যবসায়ীকে ৮০র দশকের আগের বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় গুণধর এ ডিজিএমের আমলে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা হয়েও তিনি নিয়ম বহির্ভুতভাবে উপজেলা কমপ্লেক্সে অবস্থান করছেন। ইতিপূর্বে তিনি উপজেলা মসজিদ পুকুরের মাছ ধরে খেলে তা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। গঙ্গাজলের স্কুল শিক্ষক সোহেল আহমদ জানান, লাইনে বাঁশ পরে তাদের এলাকার বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে গেলে লাইন লাগিয়ে দিতে লাইনম্যান শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে ডিজিএম তাদের কাছে টাকা দাবী করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি তাদের হয়রানী করেন। পৌর আওয়ামীগ সাধারণ সম্পাদক এম এ হাফিজ বকুল জানান, জকিগঞ্জের মানুষকে জিম্মি করে তিনি গত ৩ জুলাই বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সকাল এগারটা থেকে দুপুর সাড়ে বারটা পর্যন্ত ডিজিএম বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং জকিগঞ্জের মানুষের অনেক ক্ষতি করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন বলে জানান।  অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে ডিজিএম আকতারুজ্জামান মোবাইলে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে অফিসে আসার পরামর্শ দেন।
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান : জকিগঞ্জের উপজেলা প্রশাসনে ‘নাটের গুরু’ হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। ১৯৯৮ সালে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে জকিগঞ্জে যোগদান করেন তিনি। ২০০৩ সালে তার চাকুরি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হয়। এর পর থেকেই তিনি জকিগঞ্জের প্রশাসনে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নিজের অফিস ফেলে ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি ইউএনও অফিসে বসে থাকেন। ইউএনওদের গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ান তাদের পিছু পিছু। ভাবখানা এমন ‘বড় বস’ ঠিক থাকলে অফিস কম করলেও সমস্যা নেই। শুধু ইউএনও নয় এই তৈলবাজ কর্মকর্তা তার উর্ধ¦তন কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজে সিদ্ধ হস্ত। যে কারণে তিনি বর্তমানে কানাইঘাট উপজেলারও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করার পরও গত উপজেলা নির্বাচনে তিনি জকিগঞ্জে নির্বাচনী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। সে নির্বাচনে তিনি প্রথম শ্রেণির মর্যাদা সম্পন্ন মাস্টার্স পাস লোকদের দিয়ে পোলিং অফিসারের কাজ করিয়ে তাদের প্রশিক্ষণের সম্মানী প্রদান করেননি। শুধুৃ তাই নয়, বিগত কোনো নির্বাচনেই এই কর্মকর্তাকে মাঠে কাজ করতে হয়নি। তিনি থাকেন ফলাফল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে। তিনি বর্তমানে উপজেলা কমপ্লেক্সের যে বাসায় থাকেন সেটি বিআরডিবি অফিসের এক মাঠ কর্মীর নামে বরাদ্ধ নেয়া। নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রতি মাসে তিনি ২৮০০ টাকা কম ভাড়া দিয়ে সে বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে সরকারকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঠকিয়ে যাচ্ছেন। ২০১২ সালের জেএসসি পরীক্ষায় জকিগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার নিজের সন্তান পরীক্ষার্থী হবার পরও বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন পরীক্ষার হলে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন বিলি করে আলোচনা জন্ম দিয়েছিলেন। নতুন কোনো সরকারি কর্মকর্তা জকিগঞ্জে যোগদান করার পরই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সে কর্মকর্তাকে জকিগঞ্জের প্রশাসনে তার প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেন। যে কারণে বিসিএস ক্যাডারের অফিসারও পাত্তা পান না তার কাছে। বিভিন্ন দিবসে এককভাবে তিনিই থাকেন ঘোষক উপস্থাপক। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে অফিসারদের ক্ষোভ থাকলেও কেউ এ নিয়ে কথা বলেন না কৌশলে ইউএনও দিয়ে শায়েস্তা করানোর ভয়ে। দীর্ঘদিন তিনি অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারী ছিলেন বর্তমানে তিনি উপজেলা মসজিদ কমিটির সেক্রেটারীর দায়িত্বে রয়েছেন। এসবই সম্ভব হয়েছে ইউএনওদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে তিনি হন ‘জিয়ার সৈনিক’ আর আওয়ামীলীগের সময় তিনি বনে যান জাতির জনকের ভক্ত। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করে ফল পাওয়া যায়নি বলে জানান এখলাসুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী। বদলীর আদেশ হবার আগেই তিনি সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ফেলেন বলে ১৬ বছর ধরে তিনি এক স্টেশনেই আছেন। অঘোষিতভাবে তিনি এখন ‘জকিগঞ্জের নাগরিক’। জকিগঞ্জের প্রশাসনে যত ঝামেলা হয় সব কিছুর পিছনে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রয়েছে এমন অভিযেগের অন্ত নেই! পৌর যুবলীগের সভাপতি এম এ সালাম বলেন, গত দেড় যুগে জকিগঞ্জের যুব সমাজের উন্নয়নে তার কোনো মাথা ব্যথা না থাকলেও প্রশাসনে বিভিন্ন সময় কর্মবিরতিসহ নানান ঝামেলার তৈরী করেন তিনি। জকিগঞ্জবাসী তার প্রত্যাহার চায়। ১৬ বছর এক স্টেশনে কিভাবে চাকরি করছেন এবং সরকারকে বাসা ভাড়া ঠকাচ্ছেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, ১৬ বছর থেকে আমি চাকুরী করছি তা ঠিক। কিন্তু এ পর্যন্ত আমার বদলীর আদেশ আসেনি। আমার কাজের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ আমাকে ভালোবাসেন। আমি যদি কাজ ফাঁকি দিতাম বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতাম তাহলে অবশ্যই উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে অনত্র বদলী করে দিতেন। বরং আমাকে বদলী না করে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কানাইঘাট উপজেলায় দিয়েছেন। খবর নিলে দেখবেন আমি সেখানেও সকলের প্রসংশা কুঁড়িয়েছি। এছাড়া আমি ১৪ বছর নিজের নামে বাসা রেখে থাকার পর গত ২/৩ বছর থেকে আমরা কয়েকজন অফিসার এক সাথে অন্যের নামে বাসা রেখে সেখানে উঠেছি। 
পিআইও শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া : পিআইও শাহাদত হোসেন ভূঁইয়া জকিগঞ্জে যোগদান করার পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর সাথে হাত মেলান। তাদের সাথে মিলেমিশে টিআর কাবিখাসহ সকল সরকারী বরাদ্ধে পারসেন্টিস নেন। উর্ধ্বতন বসদের মাসোয়ারা দেয়ার নামে সরকারী বরাদ্ধ বিতরণে তিনি চেয়ারম্যান মেম্বারদের নানাভাবে হয়রানী করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পিআইওর অবহেলার কারণে জকিগঞ্জ পৌরসভা ও বীরশ্রী ইউনিয়ন গত বন্যার ত্রাণের টিন ও মেরামত খরচ পায়নি বলে পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন ও বীরশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। আনন্দপুর গ্রামের বুলু মিয়া ও এলজিইডির এমএলএসএস রুশনা বেগম উরফে লাকীর মার মেয়ে পারুল বেগমকে পিআইও তার ঢাকার বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রায় ছয় মাস আগে পারুল নিখোঁজ হয় অদ্যাবধি তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নিজের সন্তানকে হারিয়ে লাকীর মা উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর দরবারে হাটাঁহাটি করে কোন পথ না পেয়ে এখন নিরবে শুধু কাঁদছেন। তবে বর্তমানে তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। নিজের বাসা থেকে পারুল নিখোঁজের ব্যাপারে একবারেই নির্লিপ্ত রয়েছেন পিআইও শাহাদাত হোসেন। পারুল কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করা হলে পিআইও শাহাদাত হোসেন বলেন, তাকে আমি আমার বাসায় কাজের জন্য নিয়েছিলাম। সেখান থেকে কোথায় চলে গেছে। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নিয়ে এবং মাইকিং করে তাকে না পেয়ে আমি থানায় জিডি করে রেখেছি। পারুল হারানোর দিন আমি জকিগঞ্জে ছিলাম, খবর শুনেই আমি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক এম এ জি বাবর বলেন এই তিন কর্মকর্তা বর্তমান সরকারের সুনাম নষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন। তারা জকিগঞ্জবাসীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নানাভাবে স্থানীয়দের হয়রানী করছেন। তাই অনতিবিলম্বে তাদের এখান থেকে প্রত্যাহার করা জরুরী।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad