Headlines News :
Home » » বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙ্গে

বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙ্গে

Written By zakigonj news on সোমবার, ২১ জুলাই, ২০১৪ | ১২:০৪ AM

স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যরাতে বাঁচাও, বাঁচাও বলে ডাক-চিৎকার শুনে আমার ঘুম ভাঙ্গে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি ঘুমন্ত করিম ভাইকে রহিম ভাই লোহার রড দিয়ে মারধর করছেন। এ সময় আমি এগিয়ে যেতে চাইলে রহিম ভাই ও শাকুর ভাই আমাকে ধমক দিয়ে সরে যেতে বলেন। তখন তারা আমার রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। ফলে করীম ভাইয়ের বাঁচার এমন মর্মস্পর্শী আওয়াজে আমি এগিয়ে যেতে পারিনা। কিছুক্ষণ পর তারা দু’জন রুম থেকে বের হয়ে আমার দরজা খুলেন। এ সময় করিম ভাইকে কান্নাকাটি করতে দেখতে পাই। আমাকে দেখে তিনি পনির জন্য বলেন। আমি তার জন্য পানি নিয়ে গেলে তিনি পানি পান করে শাকুর ভাইকে বলেন, ভাই তোমরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও। আমি তোমরা আমাকে মেরেছো তা বলবনা। আমি বলব গাড়ি এক্সিডেন্ট করে আমার হাত পা ভেঙ্গে গেছে। করিম ভাই একথা বলতে না বলতেই রহিম ভাই ও শাকুর ভাই পূনরায় রুমে ঢুকে মারধর করতে শুরু করেন। শাকুর ভাই তার হাতে থাকা লোহারপাত দিয়ে হাতের কুনই ও পায়ের হাটুতে বেধম আঘাত করতে থাকে। তাদের আঘাতের সময় করীম ভাই “ভাই ভাই বলে চিৎকার করেন”। এ সময় রহিম ভাই তার স্ত্রী শেফা বেগমকে মোবাইলে বলেন, “করীমকে লাশ করেছি এখন তুই সিএনজি নিয়ে বাড়িতে আয়”। তখনও করিম ভাই বেঁচে আছেন। কিন্তু ততক্ষণের মধ্যে রহিম ভাই একটি রুল নিয়ে এসে পায়ের সামন থেকে বুকের নীচ পর্যন্ত মারতে থাকেন। ঘরে থাকা আমি ও আমার ভাগনা আলী চিৎকার করতে চাইলে তারা আমাদের প্রাণে মারার হুমকি দেন। এতে নিশ্চুম হয়ে যাই আমরা। অবশেষে ভোর রাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনে মৃত্যু তাকে চিরবিদায় দিয়েছে সুন্দর এ পৃথিবীর বুক থেকে। বাঁচার আকুতি জানিয়ে আর কখনোই তাকে সাহায্যের জন্য কাউকে কাছে ডাকবে না। অভিশপ্ত সেই রাতের কথা এভাবেই বলে যাচ্ছিলেন নিহত করিম স্যারের ছোট ভাই ফহিমের স্ত্রী রোজিনা। শোনাচ্ছিলেন তাঁর আক্ষেপের কথা। সরেজমিন গিয়ে নিহতের আত্মীয়-স্বজন, সহপাটি ও পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, গত ৮ জুলাই মঙ্গলবার ভোর রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ঘেচুয়া (বর্তমান তিরাশী) গ্রামের মৃত মুজম্মিল আলীর বড় ছেলে শিক্ষক আব্দুল করীম নিজ গৃহে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। ঘটনার রাতে মাছ শিকারে থাকা ঘেচুয়া গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, আমি রাত ১২টার দিকে মাছ শিকারের জন্য করীম মাস্টারের বাড়ীর পূর্ব দক্ষিণ পাশের খালে গেলে দেখতে পাই, বাড়ির উত্তর পাশের রাস্তায় দুই জন লোক দু’টি লাইট নিয়ে ঘুরা ফেরা করছে। তবে আমার পাশে পানির শব্দ থাকায় আমি কোন শোর চিৎকার শুনিনি। বাদেজমা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালিক (মলিক) বলেন, ঘটনার রাত ভোরে আমি ঐ বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে কৃষি কাজের জন্য গেলে দেখতে পাই ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রয়েছে। তবে ঘরের ভেতরে লোকজনের কথা-বার্তা শোনা যাচ্ছিল। বিষয়টিকে তখন আমি স্বাভাবিক মনে করেছি। জানা গেছে, নিহত আব্দুল করীম কর্মজীবনের শুরুতে গঙ্গাজল হাসানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। এসময় তিনি ঘেচুয়া গ্রামের বিভিন্ন মসজিদে ইমামতিও করেছেন। পরে তিনি গনিপুর কামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯৯ সালে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী হলে প্রথমে রগুরচক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর পর তিরাশী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০২ সালে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী পেয়ে প্রথমে হবিগঞ্জের গোবিন্দপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন। সেখান থেকে বদলী হয়ে জকিগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জকিগঞ্জ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চাকুরী করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি জগন্নাথপুর সরুপচন্দ্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ছিলেন। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের কঠোর পরিশ্র“ম আর মেধাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জিত টাকা দিয়ে ৬ বিঘা ভুমি ক্রয় করার জন্য তার আপন ভাই আব্দুর রহীমকে দায়িত্ব দেন। রহিম উক্ত ভূমি ক্রয় করে তার নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে। চলতি রমজান মাসের ৩ তারিখ উক্ত বিষয়ে পারিবারিক বৈঠকে সীদ্ধান্ত হয় ৬ বিঘা ভুমি সমহারে বন্টন করার জন্য। এছাড়া রহিম ও ফাহিমের স্ত্রীর মাঝে ছিল সাংসারিক কাজ কর্ম নিয়ে দন্দ্ব। বড় ভাই হিসেবে তিনি এসব বিষয় প্রায়ই সমাধান করতেন। হত্যার প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে তিনি রহিমের স্ত্রীকে সাংসারিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় একটি তাপ্পরও দিয়ে ছিলেনে। রহিম তার স্ত্রীকে তাপ্পর মারার প্রতিশোধ নেয়ার হুমকিও দিয়েছিল বড় ভাইকে। একান্ত স্বজনদের আলাপকালে জানা গেছে চার ভাইয়ের মধ্যে করিম ও ফাহিম ছিলেন একমতে এবং রহিম ও দারোগা শাকুর ছিলেন এক মতে। এছাড়া করীমের ব্যাংক একাউন্টে ২০ লক্ষ টাকা আছে এমন তথ্যও রয়েছে শাকুর ও রহিমের কাছে। করীমের ব্যাংকের নমিনী ছিলেন ছোট ভাই আব্দুশ শাকুর। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ৬ বিঘা ভূমি, নগদ টাকা ও পারিবারিক বিষয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় শিক্ষক আব্দুল করীমকে। অথচ পরিবারের পেছনে শিক্ষক আব্দুল করীমের ছিল ব্যাপক অবদান। পরিবারকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে তার রয়েছে কঠোর পরিশ্রম। হত দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আব্দুল করীম সহপাঠি ও শিক্ষকগণের সহায়তায় মানূষ হয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত হয়েছিলেন। পরিবারকে ঢেলে সাজাতে নিজে বিয়ে না করে ভাই-বোনদের কাজে লাগান। ছোটকালেই মা ও বাবা মারা যাওয়ায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান করীম মাস্টার তার উপার্জনের টাকা দিয়ে লেখা পড়া করিয়ে ছোট ভাইকে পুলিশের এসআই পদে ও এক বোনকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী ধরিয়েদেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা রাত দু ভাইয়ের নির্যাতনে মরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা ও পানির জন্য আহাজারি করে আনুমানিক ভোর  ৫ টার দিকে শিক্ষক আব্দুল করীম মারা যান। অথচ করীমের প্রচেষ্টায় চাকুরী হওয়া এসআই শাকুর রাত ৩.৪৬ মিনিটে ঘেচুয়া গ্রামের তার মামা নোমানূর রশীদকে এসএমএস এর মাধ্যমে করীম মারা গেছেন বলে জানান। যে চৌকিতে করীমকে হত্যা করা হয়েছে ঐ চৌকির রক্ত, জামা কাপড়ের রক্ত রহিমের স্ত্রী শেফা বেগম ও তার শ্যালক আবুল পরিস্কার করে। পচন্ড গরম পানি দিয়ে গায়ের বিভিন্ন স্থানের রক্তের দাগ মুছে ফেলা হয়। এছাড়া কেরাইয়া গ্রামের জনৈক্য ব্যক্তির মাধ্যমে ভোর ৬ টায় কালিগঞ্জ বাজার থেকে কাপনের কাপড় ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষক করিমের বড় বোন শরিফা বেগম সকাল অনুমানিক ৭টার দিকে ছেলে হেলালকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে আসেন। হত্যার বিষয়টি হেলাল ছাড়াও তাদের অনেক আত্মীয় স্বজন টের পেয়ে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রক্ষদর্শী শিক্ষক আব্দুল করীমের ভাগনা অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া আলী আহমদের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার রাত ৮ ঘটিকার সময় করিম মাস্টারের ছোট ভাই সিলেট এয়ারপোর্ট থানার দারোগা আব্দুশ শাকুর প্রথমে তার মোবাইলে ফোন দিয়ে জানতে চান বড় ভাই করিম বাড়ীতে কিনা। করিম বাড়ীতে আছেন বললে, শাকুর বলে আমি আসতেছি এবং আমার সাথে মেঝো ভাই রহিমও আসবেন। আলী জানায়, রহিম রমজান মাসের প্রথম থেকে সোনাসার বিছমিল্লাহ হোটেলে থাকতেন। তিনি এখানে পার্টনার ব্যবসায় জড়িত। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় টিবিএস মটর সাইকেল নিয়ে রহিম ও শাকুর বাড়ীতে আসেন। শাকুর বাড়ীতে এসে তার মোবাইল নিয়ে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দেন। ঠিক এমনি ভাবেই ঘরের অন্যান্যদের মোবাইলের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে রাতের খাবার শেষে বসত ঘরের পিছনের রুমে বড় ভাই করীমের পাশের চৌকিতে শুয়ে পড়েন। আলী আহমদ তার মামী রোজিনা বেগমের কথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামা ঐদিন রাতে আমাকে কম্পিউটার শিখিয়েছেন। সে প্রশ্ন ছুড়ে বলে, আমি কিভাবে বড় মামাকে ভূলবো? নিহতের ছোট ভাই ফাহিমের স্ত্রী রোজিনা আরোও জানায়, রাত সাড়ে ৩টার সময় বড়ভাই করীমকে অচেতন অবস্থায় রেখে শাকুর ও রহিম আমাকে খাবার দেয়ার জন্য বলেন। আমি ভয়ে ভয়ে তাদেরকে খাবার দেই। এ সময় তারা দু’জন খাবার খায় আর বলে, “যদি ঘুমের মাঝে তাকে হাত পা না ভাঙ্গতাম তাহলে সামাল দেয়া যেত না”। সেহরির খাবার পর শাকুর একটি মগের মধ্যে পানি নিয়ে বড় ভাইর গায়ের বিভিন্ন অংশে লাগা রক্তের দাগ মুছতে থাকে। তখনও বড় ভাইর মৃত্যু হয় নাই। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। রুজিনা আরোও বলেন, মারা যাওয়ার পর শাকুর নিজ হাতে বড় ভাইর গায়ের গেঞ্জি কাঞ্চি দিয়ে কেটে ফেলেন এবং তারা দু’ভাই মিলে আমাদের বলেন, কেউ জিঞ্জাসা করলে বড় ভাই হার্ডএ্যাটাক করেছেন বলতাম। আলাপকালে এলাকাবাসী ক্ষোভের সহিত জানান, জানাযার মাঠে শিক্ষক আব্দুল করীমের এক বোনের জামাই স্কুল শিক্ষক জানাযায় আসা লোকদেরকে করিমের মুখ দেখতে পর্যন্ত বাধা সৃষ্টি করেন। তবে শত ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্ঠা করেও শেষ রেহাই হয়নি হত্যাকারীদের। বেরিয়ে আসে হত্যার মূল রহস্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষক আব্দুল করীমের আত্মীয় দেবোউত্তর গ্রামের মিনা বেগম বাড়ীতে এসে যে ভাবে হোক হত্যার বিষয়টি টের পেয়ে যান। কারো সহায়তায় নতুবা নিজ প্রচেষ্টায় যে চৌকিতে করিমকে হত্যা করা হয়েছে ঐ চৌকির নিচে থাকা একটি রক্ত মাখা গেঞ্জি পেয়ে গোপনে তা নিয়ে চলে যান। বিকালে তার পিতার বাড়ী বাদেজমা (ঘেচুয়া) গ্রামে গেঞ্জিটি পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সাবেক মেম্বার আব্দুস সাত্তার, আ.লীগ নেতা নোমানুর রশীদসহ ব্যক্তিবর্গ জকিগঞ্জ থানার ওসিকে তা অবহিত করেন। ওসি সংবাদ পেয়েও বাদীর অজুহাত দেখিয়ে তাতে কোন গুরুত্ব দেননি। পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় জকিগঞ্জে শিক্ষককে পিঠিয়ে হত্যা; ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর ওসি জামশেদ আলম ও ওসি (তদন্ত) দেলওয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে রক্ত মাখা গেঞ্জি, চৌকিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেন। ঐদিন রাতে নিহত আব্দুল করিমের ছোট ভাইয়ে স্ত্রী রোজিনা বেগম বাদী হয়ে নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রহিম, আব্দুস শাকুর (এসআই), রহিমের স্ত্রী শেফা বেগম, শ্যালক আবুল ও ভাগনা হেলালকে আসামী করে জকিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামী শেফা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে। এ বিষয়ে নিহত শিক্ষক আব্দুল করীমের ভাই সিলেট এয়াপোর্ট থানার এসআই আব্দুস শাকুরকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসা করলে সে কিছুই জানেনা বলে জানায়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দেলওয়ার হোসেন বলেন, এসআই আব্দুস শাকুর পলাতক রয়েছেন। তিনি ছুটি নিয়ে আসার পর পূনরায় কর্মস্থলে জয়েন্ট করেননি। তাকে গ্রেফতারের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। শীঘ্রই লাশ তোলা হবে। তদন্তে হত্যাকান্ডের বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। তিনি পরিস্কার ভাষায় বলেন, এ হত্যাকান্ডের আসামীদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad