Headlines News :
Home » » আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে জকিগঞ্জের কৃষকদের ধান মজুদের ‘গোলা’

আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে জকিগঞ্জের কৃষকদের ধান মজুদের ‘গোলা’

Written By zakigonj news on শনিবার, ২১ জুন, ২০১৪ | ৮:০৬ PM

জাহানারা চৌধুরী ঝর্ণা
আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে জকিগঞ্জের কৃষকদের ধান মজুদের ‘গোলা’। অথচ এক সময় এই ধানের গোলাই স্বাক্ষ্য দিতো বাড়ির মালিকের অর্থনৈতিক অবস্থা কি রকম। কত প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ঐতিহ্যের এই পরিবার। ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে আগেই দেখা হতো বাড়িতে ধানের গোলা আছে কিনা। সেই সাথে গোয়ালে দুধের গাভী আছে কতটা। ধানের গোলা গরুর গোয়াল আর পুকুর থাকলেই বোঝা যেতো পরিবারটির সার্বিক অবস্থা। বলা হতো ধানী-মানি গেরস্ত। কিন্তু সেই অবস্থা আজ আর নেই। কালের পরিক্রমায় তা হারিয়ে গেছে। আজ ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে দেখা হয়, পাত্র বা পাত্রী লন্ডনী কিংবা আমেরিকান কিনা? তা না হলে দেখা হয় তারা সরকারী চাকুরী করে কিনা? তা থেকে পরিস্কার প্রতিয়মান হয় যে, এখন গোলা, গোয়াল ও পুকুর আর মুল্যায়নে আসে না। বলতে গেলে সবার অজান্তেই আজ হারিয়ে যাচ্ছে গোলা। অথচ আবহমান বাংলার কাব্যিক অভিব্যক্তি ছিল গোলাভর্তি ধান, গোয়ালভরা গরু ও পুকুরভরা মাছ। মুরব্বীদের কাছ থেকে জানা যায়, এক সময় সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করত এই ধানের গোলার ওপর হিসাব কষে। এসব এখন শুধুই কল্পকাহিনী। জকিগঞ্জের বেশ কয়েকজন প্রবীন ব্যক্তি জানান, আগের দিনে উপজেলার প্রতিটি গ্রামের প্রায় বাড়িতে উঁচু জায়গায় বাঁশ দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির ধানের গোলা বসানো হতো। গোলার মাথায় থাকত টিনের তৈরি একটি ছাতা। যা দূর থেকে দেখা যেত। বর্ষার পানি আর ইঁদুর কোনোভাবেই ঢুকত না গোলায়। মই বেয়ে গোলায় উঠে ধান রাখতে হতো। এই সুদৃশ্য গোলা ছিল কৃষক পরিবারের গর্বের ধন। বর্তমানে পাল্টে গেছে গ্রামবাংলার সেই চিরাচরিত রূপ। ধানের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেলেও বেশি চাহিদার কারণে ধান সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিক জনসংখ্যার কারণে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ ধানও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে গোলায় আর ধান সংরক্ষণ করতে পারছে না কৃষক। অন্য দিকে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাবও পড়েছে এ ক্ষেত্রে। গোলায় তোলার মতো ধান আর তাদের থাকছে না। কৃষকের গোলার ধান এখন ঠাঁই পায় গুদাম ঘরে। আবার অনেক ক্ষুদ্র কৃষক বস্তা ও বেরেল ভর্তি করে রাখছে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান চাল। তাই গোলার ইতিহাস এখন কল্পকাহিনী হয়ে গেছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিভিত্তিক সামন্ততান্ত্রিক সমাজ বদলের সঙ্গে সঙ্গে গোলাও স্বাভাবিকভাবেই বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো জকিগঞ্জের কিছু পরিবারে ধানের গোলার অস্তিত্ব রয়েছে। যদিও আগেকার দিনের মতো গোলা বাহিরে না বানিয়ে ঘরের ভিতরে বা বারান্দায় বাঁশ-বেত দিয়ে বা পাঁকা করে গোলা বানিয়ে অস্তিত্ব ধরে রেখেছেন। এটাকে জকিগঞ্জের স্থানীয় ভাষায় ‘উগার’ বলা হয়। উপজেলার কামালপুর গ্রামের নোমান উদ্দিনের ঘরে দেখা যায়, একটি ধানের গোলা (উগার)। সে ঘরের লোকজন জানান, গোলায় অল্প জায়গায় অনেক ধান রাখা যায়। তাতে ধান শুকিয়ে রেখে দিলে অনেক দিন ভালো থাকে। তারা আরো বলেন, একটা সময় ছিল যখন জকিগঞ্জের প্রতিটি কৃষক গেরস্থের বাড়িতে ধানের গোলা ছিল। তবে সচেতনমহল বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়া ছুয়েছে কৃষক পরিবারকেও। হয়তো চাকচিক্য ও বিলাসী জীবন তাদের ভুলিয়ে দিয়েছে ঐতিহ্যের কথা। তাদের মতে, বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। আগামী প্রজন্মের নিকট গোলা ঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হবে। আধুনিক গুদাম ঘর ধান চাল রাখার জাগা দখল করছে। ফলে আমাদের মাঝ থেকে গোলা ঘরের ঐতিহ্য একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad