Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিস যেন এক মৃত্যুকুপ

জকিগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিস যেন এক মৃত্যুকুপ

Written By zakigonj news on বুধবার, ৭ মে, ২০১৪ | ২:০৫ PM


অসহায় মানুষের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস


রহমত আলী হেলালী
জকিগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিস যেন এক মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছে। এক শ্রেণীল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে বিভিন্ন কায়দায় লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া পেশাদার দালালদের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টাকা পয়সা নিচ্ছে নীরবে। এই অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা প্রকাশ্যেই সেবা গ্রহীতাদের জিম্মী করে টাকা পয়সা নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও জায়গা দিচ্ছে অন্যের নামে। ফলে অসহায় মানুষের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে জকিগঞ্জের বাতাস। এমন জুলুমের শিকার হয়ে অনেক বয়োবৃদ্ধ লোক চরম দুঃশ্চিন্তায় মৃত্যুবরণ করছেন বলেও অনেকে জানান। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি আপত্তি মামলার সরকারী খরচ ২৫ টাকা হলেও সেখানে গুনতে হয় ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা। এতে অসহায় দারিদ্র মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। সম্প্রতি ১০টি আপত্তি মামলা দিতে গিয়ে টাকার অংক শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন উপজেলার হাতিডহর গ্রামের মৃত মোশাহিদ আলীর ছেলে শরীফ উদ্দিন (৪৫)। জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। জকিঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সায়েক বলেন, গত ২৩ মার্চ আলমনগর মৌজার সদরপুর সড়ক সংলগ্ন ৪৩ শতক জায়গায় আপত্তি মামলা নিতে সেটেলমেন্ট অফিসের পেশকার মনোয়ার হোসেন ৫০ হাজার টাকা তাঁর কাছে দাবী করেছেন। জায়গাটি মূল্যবান বিধায় আপত্তি মামলায় অনুমতি আনতে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে তিনি জানান। শুধু তাই নয়, দাবীর টাকা পরিশোধ না করলে উক্ত ৪৩ শতক জায়গা অন্যের নামে রেকর্ড হবে বলেও তিনি হুমকি প্রদর্শন করেন। কামালপুর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ প্রতিবন্ধী মানিক মিয়া বলেন, আমি এক অসহায় মানুষ। আমার ছেলেরা দিনমজুর। আমার বাড়ীর ভিটা ছাড়া বাবার নামে রেকর্ডকৃত ১২ শতক জায়গা ছিল। ঐ জায়গাটি আমার নামে দিতে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা রুহুল আমীন গাজী ৪০ হাজার টাকা দাবী করে। অনেক চিন্তা করে মানুষের কাছ থেকে সদের উপর এনে ৩৪ হাজার টাকা দেই। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ এর চেয়ে বড় অংকের টাকা দেয়ায় জায়গাটি তাদের নামে দিয়ে দেন। এতে আমি এখন একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। স্থানীয়রা জানান, জকিগঞ্জ উপজেলায় জমির মাঠ পর্যায়ে জরিপ কাজ চলাকালে আমিন ও বদর আমিনরা জমির মালিকদের কাছ থকে প্রাথমিক রেকর্ডের সময় নানা পন্থায় একদফা টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। এরপর শুরু হয় ৩০ ও ৩১ ধারার আপত্তি শুনানী। ৩০ ধারায় আপত্তি দেওয়ার সময় মামলার খরচ বাবদ অবৈধভাবে কারো কারো কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। বর্তমানে ৩১ ধারার মামলা নেওয়ার সময় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা নেয়ারও অভিযোগ করেন অনেকে। স্থানীয়রা বলেন, ভুক্তভোগীরা এতসব জুলুমের স্বীকার হয়েও কোনভাবে জায়গাটি পাওয়ার আশায় মুখ খুলতে রাজী নয়। কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, ভাই টাকা নিয়ে কাজ করে দিয়েছে এটাই আমাদের নিকট বড় পাওনা। অনেকে টাকা দিয়েও জমি পাচ্ছেন না। কেউ সাংবাদিকদের কথা বললে উল্টো ক্ষেপে যান কর্মকর্তারা। বাস্তবে আমরা দেখেছি পত্রিকায় সেটেলমেন্ট অফিসের দূর্নীতির খবর প্রকাশ হলে সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসে আরোও বেশী নির্যাতন। ভুক্তভোগীদের মতে, পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আরোও বড় অংকের টাকা চেয়ে বসেন স্থানীয় সেটেলমেন্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, সংবাদিকরা লেখালেখি করায় এখন আমাদের বড় অফিসাররা বড় অংকের টাকা চেয়ে বসেছে। তাই সেগুলো দিতে গেয়ে আপনাদের কাছ থেকে বেশী টাকা নিতে হচ্ছে। একথাগুলোর সত্যতা স্বীকার করেন সেটেলমেন্ট অফিসের সম্মুখে দাঁড়ানো সেবা গ্রহীতা উপজেলার কামালপুরের শিব্বীর আহমদ, সোনাসারের আব্দুল বাছিত, আটগ্রামের পাখী মিয়া, জামডহরের জয়নুল আবেদীন ও খিলগ্রামের রফিক আহমদ প্রমূখ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটেলমেন্ট অফিসের লাগমহীন দূর্নীতির কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে  জকিগঞ্জ পৌরশহরের এম এ হক চত্বরে জকিগঞ্জ শ্রমিক উন্নয়ন সংস্থার ব্যানারে ও ভুক্তভোগী মানুষের সহযোগীতায় এক বিশাল প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে অনেক ভূক্তভোগী এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের দালালদের ঘুষ দুর্নীতির ফিরিস্থি তুলে ধরেন। সভায় বক্তারা বলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জকিগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসের সীমাহীন ঘুষ দুর্নীতি বন্ধ, দালাল মুক্ত করে সঠিক জরিপ কাজ পরিচালনার দাবী জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সোলেমান খানের আহ্বানে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সোলেমান খান লোকবল ঘাটতি, অফিস সমস্যা ইত্যাদি সীমাবদ্ধতার কথা উল্ল্যেখ করে বলেন- জনতার দাবীর প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। আমি উত্থাপিত দাবীগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। এই আশ্বাসের আলোকে— কৃষক-শ্রমিক উন্নয়ন সংস্থার ঘোষিত কর্মসূচী স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুঃখজন হলেও সত্য যে, এখন পর্যন্ত জকিগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসে চলছে নানা কায়দায় অনিয়ম ও দূর্নীতি। যার থেকে উপজেলার অসহায় দারিদ্র মানুষ পরিত্রাণ চায়। তারা বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad