Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জের চিকিৎসা সেবার উত্তরণ প্রয়োজন

জকিগঞ্জের চিকিৎসা সেবার উত্তরণ প্রয়োজন

Written By zakigonj news on রবিবার, ১৮ মে, ২০১৪ | ৮:২৬ PM


মানুষের পাঁচটি মানবিক মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা সেবা অন্যতম। উন্নত ও উন্নয়নশীলসহ প্রায় সকল দেশের সরকারকেই এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে দেখা যায়। বাংলাদেশ সরকারও চিকিৎসা খাতকে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছে। সহস্রাব্দ লক্ষমাত্রার অংশ হিসেবে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে এনেছে। তা লক্ষমাত্রার অধিক প্রায় ৭৫ শতাংশ হারে কমিয়ে এনেছে। দূর হয়েছে পলিও। তাছাড়া স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামোতে আমুল উন্নয়নের ফলে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা পৌছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১১ সালের স্বাস্থ্যনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে গৃহীত ২০১২-২০৩২ ‘স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন কৌশলপত্র’ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি ও এর সুষম ব্যবহারের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সার্বজনীন এবং উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। যার জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে জকিগঞ্জ সরকারী হাসপাতাল। সম্প্রতি সাপ্তাহিক জকিগঞ্জ সংবাদের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জকিগঞ্জের তিন লক্ষাধিক মানুষের সেবা দিচ্ছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। হাসপাতালে চিকিৎসকের ১১টি পদের ৭টি পদই শূণ্য। কর্মরত চার চিকিৎসকের মধ্যে একজন ডা. নাসরিন আক্তার ২০০৮ সালের ২১ মে থেকে অনুনমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বেতন না নিলেও পদ ধরে রাখার কারণে এ পদে অন্য কাউকে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেদন সূত্রে আরো জানা যায়, ডা. নাসরিন প্রবাসে রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিতাভ দের মৃত্যুজনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিও শূণ্য রয়েছে। এছাড়া গাইনী চিকিৎসক ডা. রওশন আরা বেগম সাপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন। সাপ্তাহের বাকী দিনগুলোতে তিনি অফিস করেন না। যার দরুন একাই পুরো হাসপাতাল চালাচ্ছেন ডা. আব্দুল্লাহ আল মেহদী। সেবিকার ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ জন। হাসপাতালের একমাত্র এম্বুলেন্সটি গত ৫ জানুয়ারী অবরোধের রাতে পুড়িয়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এক্সরে মেশিনটি বছরের পর বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালে ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করে। নামমাত্র জেনারেটার থাকলেও আগত রোগীরা তার দ্বারা ঠিক মতো সেবা পান না। হাসপাতালের বাথরুমের দুর্গন্ধে রোগীদের সেখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে। হাসপাতালে প্রবেশের রাস্তা ভাঙ্গা থাকার কারণে ঝুকি নিয়েই প্রতিনিয়ত রোগী ও তাদের স্বজনদের হাসপাতালে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জেলা শহর থেকে শতকিলোমিটার দূরবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল জকিগঞ্জ সরকারী হাসপাতালের এই করুন কাহিনী শুনে যে কেউ হতবাক হওয়ার কথা। কেননা জকিগঞ্জ এমন একটি উপজেলা যেখানে কয়েকটি ফার্মেসী ছাড়া নুন্যতম চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোন সরকারী বা বেসরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। যদিও কয়েকটি সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে তাতেও মানানসই তেমন কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র গ্রামের লোকদের কথাশুনে মুখস্ত কিছু সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। যার ফলে এ উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল জকিগঞ্জ সরকারী হাসপাতাল। আর এই হাসপাতালের এমন করুন পরিস্থিতি হলে মানুষ কোথায় যাবে? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের নিকট। তাই আমরা মনে করি, জরুরী ভিত্তিতে জকিগঞ্জের চিকিৎসা সেবার উত্তরণ প্রয়োজন বলে।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad