Headlines News :
Home » » জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে সবাই ভূলে গেলেও ভূলেনি আওয়ামীলীগ

জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে সবাই ভূলে গেলেও ভূলেনি আওয়ামীলীগ

Written By zakigonj news on বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪ | ৫:১২ PM

স্টাফ রিপোর্টার
সময়ের ব্যবধানে সকলেই জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ভূলে গেলেও এখনও ভূলেনি আওয়ামীলীগ। এবারের মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে জকিগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে খ্যাত পাবলিক লাইব্রেরীর সম্মুখে অবস্থিত শহীদ মিনারটিতে কেউ ফুল দিতে যায়নি। শুধুমাত্র জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে একটি মাত্র পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। যা দেখে সচেনত মহলের মনে বেশ নাড়া দেয়। জানা যায়, ১৯৭৩ সালে জকিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গনে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহীদ মিনারটি নির্মাণের পর থেকে জকিগঞ্জের আপামর জনসাধারণ এটিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনসহ কিছু সংখ্যক লোক বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে ২০১২ সালের প্রথম দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে এটিতে ফুল দিতে শুরু করে। এতে বিভ্রান্তিতে পড়েন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা কোনটিতে ফুল দিবে তা বুঝে উঠতে পারেননি। ঐতিহ্যবাহী এই শহীদ মিনারটি ছেড়ে অন্যত্র ফুল দিতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করতে শুরু করেন। এই থেকে শুরু হয় না ধুম্রজাল। এরপরও গত ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত জকিগঞ্জের আপামর জনসাধারণ পাবলিক লাইব্রেরী সম্মুখে অবস্থিত শহীদ মিনারটিতে ফুল দিতেন। কিন্তু গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে এখানে শুধু আওয়ামীলীগ ছাড়া আর কেউ ফুল দেয়নি। এব্যাপারে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। সচেতন মহলের অনেকে বলেন, সাধারণত প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থাকে। এখানে সেখানকার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা প্রর্দশন করেন। এতে নিজেদের মধ্যে একতা ও আন্তরিকতার সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে জকিগঞ্জের আম জনতা জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হিসেবে পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গনে অবস্থিত শহীদ মিনারটিকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু অযৌক্তিক কতিপয় অযুহাত দেখিয়ে তখনকার উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে পৃথক একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন। তারা বলেন, উপজেলা পরিষদের সীমানার ভিতর অফিস-আদালত নির্মানের জন্য এমনিতেই জায়গার চরম সংকট থাকলেও গণমানুষের মতামত না নিয়ে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ কতটা যৌক্তিক তা বিবেচনার বিষয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদ একটি মূল্যবান জায়গা। এখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করলে তাতে ফুল দেয়া গণমানুষের অধিকার হয়ে পড়বে। তাই এখানে ফুল দিতে গিয়ে কোন বিশৃংখলার সৃষ্টি হলে সকল ক্ষয়-ক্ষতি সরকারী অফিস আদালতেরই হবে। এর পরিবর্তে সরকারী কোন উন্মোক্ত জায়গা নির্বাচন করে সেখানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে তা মেনে নেয়া যেত। কয়েকজন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা জানান, সকল দলের অংশ গ্রহণে পুস্পস্তবক অপর্ণ করতে গেলে অবশ্যই কিছুটা ধাক্কা-ধাক্কি হবে। সকলেই চেষ্টা করবে আগে ফুল দিতে। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রসাশন সজাগ দৃষ্টি রাখলে সব কিছুই নিয়মনীতির ভিতরেই করা সম্ভব হতো। আমাদের এখানে বিশৃংখলার মূল কারণ ছিল সকলকে শুরুতেই শহীদ মিনারের সীমানার ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া এবং ফুল দাতা সংগঠনের নাম তালিকা ভূক্ত না করা। যদি তা করা হতো তাহলে কোন বিশৃংখলার সৃষ্টি হতো না। কেননা একটি সংগঠনের নাম বলার পর ঐ সংগঠন শহীদ মিনারের সীমানার ভিতরে প্রবেশ করবে এবং ফুলদিয়ে চলে যাবে। তাদের মতে, সম্পূর্ণ প্রশাসনের ব্যার্থতার ফলে আজ জকিগঞ্জে মানুষ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। তারা অনতিবিলম্বে জকিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
Share this article :

0 মন্তব্য:

Speak up your mind

Tell us what you're thinking... !

ফেসবুক ফ্যান পেজ

 
Founder and Editor : Rahmat Ali Helali | Email | Mobile: 01715745222
25, Point View Shopping Complex (1st Floor, Amborkhana, Sylhet Website
Copyright © 2013. জকিগঞ্জ সংবাদ - All Rights Reserved
Template Design by Green Host BD Published by Zakigonj Sangbad